19.3 C
New York
Saturday, May 25, 2024
Home Blog

শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের নেশা দূর করার উপায়

0

এখনকার শিশু-কিশোররা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকে। খাওয়ার সময়ও তাদের ফোন লাগে। একটা সময় শিশুরা টিভিতে কার্টুন দেখে সময় কাটাতো। সেই শিশুরাই এখন ইউটিউবে সময় কাটায়। বলা যায় তারা এখন স্মার্টফোনের নেশায় আসক্ত। জানুন কীভাবে শিশু-কিশোরদের ফোনের নেশা কাটাবেন। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বড়দের হাতে স্মার্টফোন দেখলে সে-ও স্মার্টফোন নিতে আগ্রহ পায়। তাই শিশুর সামনে স্মার্টফোনে চ্যাট করা, গান শোনা, গেম খেলা, ইউটিউবে ভিডিও দেখা ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

আসক্তির কারণ ও প্রভাব

স্মার্টফোনের নেশা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাচ্চাদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রচুর। শুধুমাত্র মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব নয়, শরীরেও মোবাইলের খারাপ প্রভাব পড়ে। 

করোনা ও তার পরবর্তী সময়ে শিশু-কিশোরদের মোবাইলে আসক্তি মারাত্মক বেড়েছে। ঘরবন্দি শিশুদের কাছে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন এখন খুবই সহজলভ্য। স্মার্টফোন বা মোবাইলের যন্ত্রে একসঙ্গে বিভিন্ন রকম বিনোদন হচ্ছে। 

গেইম, নানা ধরনের বিনোদনমূলক অত্যাধুনিক অ্যাপের হাতছানি, ইন্টারনেট প্রভৃতি এক জায়গায় উপলব্ধ, যা আগে ছিল না। 

বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, খেলাধুলা, বই পড়া প্রভৃতির মাধ্যমে ধীর গতিতে আমাদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটে। কিন্তু মোবাইলে খেলা, ভিডিও দেখার সময় অতি সত্বর শিশুমনে আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হলেও কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। 

টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনও ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেনমেন্ট দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ক্ষরণ হয় এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার, যার নাম ডোপামিন। 

এই ডোপামিনের ক্ষরণ আমাদের মনে এক ভালো লাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এই ধরনের এন্টারটেনমেন্ট মিডিয়ামগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ি।

যেসব বাচ্চা মুখচোরা, সবার সঙ্গে মিশতে পারে না, বন্ধু ও সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পছন্দ করে আমরা বলি তাদের ‘ডিস্ফোরিয়া’ আছে। এই অবস্থা থাকলে, সে নিজেকে ভাল রাখতে ও জীবনের আনন্দ খুঁজে পেতে স্মার্টফোনকে সঙ্গী করে।

আসক্তি কাটানোর উপায়

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাচ্চাদের স্মার্টফোনে হাতেখড়ি হয় তার অভিভাবকদের হাতেই। কিন্তু চাইলে অভিভাবকরাই পারেন সন্তানকে মোবাইলের আসক্তি থেকে বের করে অন্য জগতে তাদের ভুলিয়ে রাখতে। সাধারণত বাবা-মা যা করবেন সেটা দেখেই শিশু শিখবে। এই আসক্তির পিছনে তাঁদের ভূমিকাও কম নয়। নেশাই পারে নেশা ছাড়াতে। 

স্মার্টফোন ছাড়াও দুনিয়াতে আনন্দের আরও অনেক কিছু রয়েছে। যে জগতে স্মার্টফোনের থেকে অনেক ভালো অভিজ্ঞতার হাতছানি থাকবে, সেদিকে শিশুর ঝোঁক বাড়াতে হবে।

বাচ্চার চোখে চোখ রেখে কথা বলা, তার ভিতরের সুপ্ত প্রতিভা ও ইচ্ছাগুলোকে চিনতে বা জানতে পারলে তবেই সেদিকে শিশুর ঝোঁক বাড়ানো সম্ভব।

শিশুর কোমল মন থেকে মোবাইল আসক্তি কাটানো খুব সহজ নয়। তার প্রবল ঝোঁকের বা আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে মোবাইলের সম বিকল্প ও আকর্ষণীয় জিনিসের প্রতি তার আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলতে পারলে তবেই শিশুর মুঠোফোনের প্রতি আসক্তি কমবে। যেমন, ছবি আঁকা, গান গাওয়া বা কোনও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি খুদের কৌতূহল থাকলে সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই ফোনের স্ক্রিনের থেকে বেশি সময় এইসব কাজে তারা ব্যয় করবে।

এছাড়া শিশুকে পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার কোডিং ল‌্যাঙ্গুয়েজ শেখানো, বিভিন্ন রহস্য-রোমাঞ্চকর গল্পের প্রতি ঝোঁক তৈরি করা খুব দরকার। তবেই সে ধীরে ধীরে মোবাইল ভুলে ভাল নেশায় আসক্ত হবে। এর লাগাম থাকবে অবশ্যই অভিভাবকদের হাতে। শিশুর এগিয়ে চলার স্বচ্ছন্দ গতির উপর তাদের সুষ্ঠু বিকাশ নির্ভর করে, যার পরিকল্পিত রূপ দেওয়ার কারিগর হলেন বাবা-মা।

সন্তানকে সময় না দিয়ে তার বদলে হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেওয়া বা টিভিতে কার্টুন চালিয়ে দেওয়াটা অনুচিত। অনেক শিশু একাকিত্বের কারণে মোবাইল ফোনের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের প্রথমত খেয়াল রাখা উচিত শিশু স্মার্টফোন ব্যবহার করেও প্রতিদিনের কার্যকারিতা সঠিকভাবে পালনে সক্ষম কি না। যদি তা নির্দ্বিধায় করে সেক্ষেত্রে ১-২ ঘণ্টা ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায়।

phone

বাড়ির আবহে পড়াশোনা-খেলাধুলার পরিবেশ থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঘরের ছোট্ট খুদেটির সঙ্গে বাবা-মায়ের কোয়ালিটি টাইম কাটানো দরকার।

রাতে ঘুমানোর আগের একঘণ্টা ও সকালে ঘুম ভাঙার পর প্রথম এক থেকে দুই ঘণ্টা খুদেটির ফোন ব্যবহার নিষেধ রাখতে হবে। এই নিয়ম বাবা-মায়ের জন্যও প্রযোজ্য হলে ভাল। উল্লেখযোগ্য, সপ্তাহে একটি দিন বাড়ির প্রত্যেক সদস্যের জন্য একটি স্মার্টফোনবিহীন দিন রাখতে হবে, সেদিন প্রত্যেক সদস্যের ছুটির পর শিশুটির সঙ্গে সময় কাটানো দরকার।

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়লে শিশুর আনন্দসূচক ক্রমে কমতে থাকে ও তারা অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। ওদের মুঠোফোনের বাইরের পৃথিবীর সংস্পর্শে রাখা বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকদের মূল দায়িত্ব। স্ক্রিনজনিত বিনোদনের বদলে খেলাধুলা ও নিয়মানুবর্তিতার সঞ্চার করা ভীষণ প্রয়োজন।

৯০ ভাগ কিশোর-কিশোরী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে

0

দেশের ৯০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বিবাহিত কিশোরীদের প্রায় অর্ধেক ও অবিবাহিত কিশোরীর এক-চতুর্থাংশের নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে। কিশোরদের ৫০ শতাংশ এবং বিবাহিত এবং অবিবাহিত কিশোরীদের ২০ শতাংশ সপ্তাহে কমপক্ষে একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে। প্রতি পাঁচটি পরিবারের একটিতে কমপক্ষে একজন কিশোর/কিশোরী (১৫-১৯ বছর বয়সী) আছে; যাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় (স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা) অংশ নিয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ অবিবাহিত কিশোরী এবং ৬৬ শতাংশ অবিবাহিত কিশোর বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এই তথ্যের জন্য কিশোরীরা বইয়ের ওপর নির্ভর করলেও কিশোরদের তথ্যসংগ্রহের মূল মাধ্যম ইন্টারনেট। বিবাহিত ও অবিবাহিত কিশোরীদের ৯৮ শতাংশই ঋতুকালীন সময়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাড বা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে বহুবার ব্যবহার করা যায়-এমন উপাদান ব্যবহার করে। তবে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যকর আচরণের প্রবণতা বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে নয় শতাংশ এবং অবিবাহিতদের মধ্যে ১২ শতাংশ মাত্র। প্রতি চারজনের একজন কিশোরী (বিবাহিত এবং অবিবাহিত) ঋতুকালীন সময়ে কমপক্ষে একদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ রাখে। 

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীদের মধ্যে তিন শতাংশের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, স্বামীর থেকে পৃথক আছে অথবা বিধবা হয়েছে। এছাড়া কিশোরীদের ১৭ শতাংশ বর্তমানে চার বছর বা অধিক সময় ধরে বিবাহিত। ৩০ শতাংশ কিশোরীর স্বামীর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য কমপক্ষে দশ বছর। জরিপে আরও দেখা যায়, সর্বোচ্চসংখ্যক কিশোরী (৪৫ শতাংশ) যাদের স্বামীর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য দশ বছর বা তার অধিক। 

জরিপে প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশ (৩৪ শতাংশ) বিবাহিত কিশোরী এবং প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (১৮ শতাংশ) অবিবাহিত কিশোরী মনে করে স্ত্রী কথা না শুনলে স্বামী তাকে শারীরিকভাবে আঘাতের অধিকার রাখে। ৮৮ শতাংশ অবিবাহিত কিশোরী পথে এবং ১৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। 

প্রতিনিধিত্বশীল ৭২ হাজার ৮০০ পরিবারকে জরিপের নমুনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৭ হাজার ৯৩টি পরিবারে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এরমধ্যে চার হাজার ৯২৬ জন বিবাহিত কিশোরী এবং সাত হাজার ৮০০ অবিবাহিত কিশোরী। এছাড়া পাঁচ হাজার ৫২৩ অবিবাহিত কিশোরকে জরিপের আওতায় সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। 

সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি দশজন অবিবাহিত কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন কৃশকায় ও কম ওজনের। অন্য দশ ভাগের এক ভাগ স্থূলকায় বা বেশি ওজনের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-৭৬ শতাংশ কিশোর এবং ৮৫ শতাংশ কিশোরী খাদ্যের পাঁচটি গ্রুপ যেমন-শাকসবজি, স্টার্চ জাতীয় খাবার, দুগ্ধ, প্রোটিন এবং ফ্যাটযুক্ত খাবারের মধ্যে চারটি গ্রুপেরও বেশি খাবার গ্রহণ করে থাকে। বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী (৭০-৮০ শতাংশ) আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খায়। মাত্র এক চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে।

জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোহাম্মাদ আলিনূর এবং মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি’র পপুলেশন, হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন অফিসের পরিচালক জার্সেস সিধওয়া।

কচ্ছপের কান্না

0

(উত্তর আমেরিকান,নেটিভ আমেরিকান রূপকথা)

এক গ্রীষ্মের সকালে, যখন প্রখর রোদে পাথর গরম হয়ে চামড়া পুড়ে যাওয়ার উপক্রম, তখন এক কচ্ছপ খাবার খুঁজতে বেরিয়েছিল। সে থাকত নদীতে। কচ্ছপটি হামাগুড়ি দিয়ে একটু ভালো খাবার খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু সূর্য এমন প্রখর হবে তা সে জানত না।  সূর্যের আলো যদি বেশি পড়ে তাহলে সে মারা যাবে। ইতিমধ্যে গরমে তার যন্ত্রণা হলো। তার ওপর মাটি বেশি শুষ্ক হলে তার বাড়ি ফিরতে কষ্ট হবে। তাছাড়া কচ্ছপ হাঁটে খুব ধীরে ধীরে। তাই সে পাহাড়ের নিচে একটা বড়ো পাথরের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল।

কচ্ছপ এত জোরে কাঁদতে লাগল যে, পাশ দিয়ে এক নেকড়ে যাচ্ছিল, সে শুনে ফেলল। সে ভাবল, হয়তো কেউ গান গাইছে। ভাবল সেও গান শিখবে। তাই সে পাথরের মধ্যে তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগল। চারপাশে উঁকি দিয়ে সে কান্নারত কচ্ছপকে দেখতে পেল।

‘তুমি তো চমৎকার গান গাইতে পারো।’—কচ্ছপকে বলল নেকড়ে।

‘এটা গান ছিল না।’—কচ্ছপ বলল।

‘আমি শুনেছি এটা গান ছিল। আমি তোমার কাছে গান শিখতে চাই। তুমি যদি আমাকে গান না শেখাও তাহলে তোমাকে গিলে ফেলব।’

‘আমাকে গিলে ফেললে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ আমার শক্ত খোল তোমার গলায় আঘাত করবে।’

‘আচ্ছা, তাহলে তোমাকে প্রখর রোদে ফেলে দেবো।’

‘তাতেও আমার কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ আমি খোলের নিচেও হামাগুড়ি দিয়ে চলতে পারি।’—কচ্ছপ বলল।

‘তাহলে তোমাকে নদীতে ফেলে দেবো—আমাকে যদি গান না শেখাও।’

এবার কচ্ছপ কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলল, ‘না না, দোহাই তোমার, এমনটি কোরো না। তাহলে আমি ডুবে যাব!’

‘না আমি ফেলবই।’—এই বলে নেকড়ে কচ্ছপটিকে মুখে তুলে নদীতে ফেলে দিল।

এদিকে কচ্ছপ নদীতে ফিরে এসে তার বাড়িতে চলে গেল সাঁতরে। যেতে যেতে মাথা তুলে নেকড়েকে বলল, ‘অনেক অনেক ধন্যবাদ নেকড়ে—আমাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য। আমি এখানে আসার জন্যই কান্না করছিলাম। কোনো উপায় ছিল না তাই পাথরের নিচে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।’

এদিকে নেকড়ে খুব রাগান্বিত হলো এবং দাঁত কটমট করে চলে গেল।

ভাষান্তর-
টি এইচ মাহির

কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কোটিপতি মায়াঙ্ক

0
কারণ সে ইতিমধ্যে কৌন বনেগা ক্রোড়পতির জুনিয়রস উইকে কোটিপতি হয়ে গেছে

একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েই কোটিপতি বনে গেলো কিশোর মায়াঙ্ক।একটি কুইজ শোতে কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ১ কৌটি রূপি জিতে নিয়েছে সে।বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মায়াঙ্ক কোটি টাকা জিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

ঘটনাটি ভারতের একটি শোতে ঘটে।ভারতের একটি কুইজ শো “কৌন বনেগা ক্রোড়পতি”।শোতে হোস্ট হিসেবে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র ১৫ তম আসরে অংশ নেয় কিশোর মায়াঙ্ক।অনুষ্ঠানে মায়াঙ্কের মায়াঙ্কের বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিতে বিমোহিতে হয় দর্শক এবং বিচারকরা।কিশোর মায়াঙ্ককে কোটি টাকার প্রশ্নে যেতে উত্ত্র দিতে হয়েছে ১৫টি প্রশ্ন।হোস্টের করা একের পর এক প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথেই দিয়েছে মায়াঙ্ক।তারপর ১৬তম প্রশ্নে পৌঁছায়।যেটি ছিলো কোটি টাকার প্রশ্ন।সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েও কোটি টাকা জিতে নেয় মায়াঙ্ক।তাকে করা প্রশ্নটি ছিল,

“কোন ইউরোপীয় মানচিত্রকার সদ্য আবিষ্কার করা মহাদেশের ম্যাপ তৈরি করেছিলেন, যার ওপর আমেরিকা লেখা ছিল? “

A- আব্রাহাম অরটেলিয়াস, B- গেরাদাস মার্কেটর, C- জিওভানি বাতিস্তা অ্যাগনেস এবং D- মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার।

মায়াঙ্কা উত্তর দেয় অপশন ডি মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার।যা ছিল সঠিক উত্তর।প্রশ্নের উত্তর সঠিক হওয়ায় কেঁদে ফেলে মায়াঙ্ক।কারণ সে ইতিমধ্যে কৌন বনেগা ক্রোড়পতির জুনিয়রস উইকে কোটিপতি হয়ে গেছে।তারপরে সে সাত কৌটির প্রশ্নেরও মুখোমুখি হয়।কিন্তু উত্তর জানা না থাকায় গেম থেকে বেরিয়ে আসে।

১৪ বছর বয়সী কিশোর মায়াঙ্ক ভারতের হরিয়ানার মহেন্দ্রগড়ে বাস করে।সে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে তাকে টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছে।তাকে ‘জিনিয়াস’ বলে অ্যখ্যা দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্টানে যখন মায়াঙ্ক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কোটি টাকা জিতে নেয় তখন উপস্থিত ছিলো মায়াঙ্কের মা বাবা।তার মা বাবা তার ব্যতিক্রমী জ্ঞানের প্রতি আগ্রহকে স্বীকার করে।মায়াঙ্ক জানায় “একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল আপনার জ্ঞান।”মায়াঙ্ক কুইজে দুদার্ন্ত গেম প্লে প্রদর্শন করে।সে হরিয়ানায় সর্বকনিষ্ঠ কৌটিপতি হওয়ায় তার মা বাবাকে ধন্যবাদ জানায়।তার মা বাবার দিক নির্দেশনা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।মায়াঙ্কের বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিল দর্শকরাও।তারে তাকে অভিবাদন জানায় এবং উল্লাস করে।অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মায়াঙ্ক জানায় তার খাঁটো উচ্চতা নিয়ে সবাই মজা করে।কিন্তু মায়াঙ্ক বুঝিয়ে দিয়েছে শারিরীক উচ্চতা জ্ঞান,বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষতার ক্ষেত্রে কখনো বাঁধা হতে পারে না।

-টি এইচ মাহির

১২ বছর বয়সী সফল উদ্যোক্তা মিয়া মনজিডেলিস

0

কিশোরী একটি মেয়ে। নাম মিয়া মনজিডেলিস। এখন যার বয়স মাত্র ১২ বছর। স্কুলের বন্ধুদের সাথে খেলা করে,টিভি দেখে আর রেস্টুরেন্টে গিয়ে মজার মজার খাবার খেয়ে দিন পার করা আর দশজন কিশোর কিশোরীর মত নয় সে। ফেসবুক,ইউটিউব,টিকটক বা ইন্সটাগ্রামে ছবি আর ভিডিও পোস্ট করা মিলিয়ন ভিউ পাওয়া তথাকথিত সেলিব্রেটিও সে নয়। তবুও সে সেলিব্রেটি। তবুও সে বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং প্রশংসিত! সে সবার থেকে বেশ আলাদা। কারণ এই বয়সেই সে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। মনজিডেলিস মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই পাওয়ারপনি আবিস্কার করেছিল। এখন আমাদের জানা দরকার এই পাওয়ার পনি জিনিসটা আসলে কী? পনি শব্দের অর্থ টাট্টু আর টাট্টু কথাটা বলার সাথে সাথে যে বিষয়টা মাথায় আসে সেটা হলো ঘোড়া। যে ঘোড়া খুবই ছোট তাকে আমরা টাট্টুঘোড়া বলি। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে মনজিডেলিস কিভাবে টাট্টুঘোড়া আবিস্কার করলো? এখানে একটি ছোট্ট তথ্য দিতে হচ্ছে। পনি শব্দের আগে সে পাওয়ার শব্দটি ব্যবহার করেছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে পাওয়ারপনি হলো ব্যাটারি চালিত টাট্টুঘোড়া! হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। মিয়া মনজিডেলিস যেটা আবিস্কার করেছে সেটি হলো ব্যাটারি চালিত ঘোড়া। আর এই ঘোড়ায় চড়লে সত্যিকার ঘোড়ায় চড়ার মতই অনুভূত হয়। মিয়া মনজিডেলিস একই সাথে নিউইয়র্কে অবস্থিত “দ্য ফ্যামিলি এন্ড চিলড্রেন এসোসিয়েশন” এর মেম্বার। এটি একটি দাতব্য সংস্থা, যারা অসহায় শিশু কিশোর ও বয়স্কদের সহযোগিতা করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মিয়া গত বছর এই সংস্থাকে ৫ হাজার ডলার সাহায্য দিয়েছে এবং বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা! দ্য হেরাল্ড ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছিলো ” আমি সব সময় অসহায় শিশু ও তাদের পরিবারকে সাহায্য করতে ভালোবাসি”। আর আশ্চর্য বিষয় হলো তার এই সাহায্য দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল যখন তার বয়স ছিলো মাত্র ৩ বছর!

মনজিডেলিস ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ায় চড়তে পছন্দ করতো। তার ছিলো ঘোড়ার প্রতি দূরন্ত ভালোবাসা। কিন্তু মন চাইলেইতো আর ঘোড়ায় চড়া যায় না। বিশেষ করে ছোটরা ঘোড়ায় চড়তে গেলে কতরকম বিপদ হতে পারে। আর সে জন্য ছোটরা যখন ঘোড়ায় চড়ে তখন বড় কেউ না কেউ সাথে থাকতে হয়। কিন্তু দেখা গেলো বাবা অফিসে, মা রান্নার কাজে কিংবা বাজারে গিয়েছে এমন সময় ঘোড়ায় চড়তে ইচ্ছে করছে। তখন উপায় কি? একা একাতো ঘোড়ায় চড়তে পারবে না। ঘোড়ার পিঠেইতো উঠতে পারবে না। সুতরাং এমন একটা ঘোড়া দরকার যেটা হবে তার মত ছোটদের জন্য। যার পিঠে সে একা একাই উঠতে পারবে এবং যখন খুশি সে সেই ঘোড়ায় চড়তে পারবে। এমনকি মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার যদি ইচ্ছে করে একটু ঘোড়ায় চড়বো তো কারো সাহায্য ছাড়াই সে একা একা সেই ঘোড়ায় চড়তে পারবে। কিন্তু এমন আজব ঘোড়া কি দুনিয়ার কোথাও একটাও আছে? ধরে নিলাম একটা আছে আর সেই ঘোড়াটা কোনো ভাবে মনজিডেলিসের জন্য সংগ্রহ করা হলো। সেটা দেখে যদি তার বন্ধুরা বলে তাদেরও অমন একটি ঘোড়া চাই। তখন কোথায় পাবে সেই ঘোড়া? বাবা মা তখন কষ্ট পাবে। মনজিডেলিসের উপর রাগ করবে। সুতরাং সে সিদ্ধান্ত নিলো এমন একটি ঘোড়া সে নিজেই তৈরি করবে! মাত্র পাচ বছর বয়সে সে এমন কিছু ভাবতে পারে কেউ কি কল্পনা করতে পারে? রুপকথার গল্পে হলে না হয় মানা যেত। বাস্তবে এমন ঘোড়া! কিন্তু সে যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই সে এমন একটি ঘোড়া তৈরি করেই ছাড়বে এবং শুধু একটি নয় পরবর্তীতে দুনিয়ার সব শিশু কিশোর কিশোরীদের জন্য এমন টাট্টুঘোড়া তৈরি করবে বলে সে সিদ্ধান্ত নিলো। নাম দিলো পাওয়ারপনি।

মনজিডেলিস আবিস্কৃত সেই পাওয়ারপনিতে আইওএস সাপোর্ট করে! আছে একটি জুমি ইঞ্জিন! আর এটা আবিস্কারের পর তার নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। শিশু কিশোর কিশোরীদের মধ্যে তার আবিস্কৃত পাওয়ারপনি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। সে নিশ্চয়তা দিয়েছে এই টাট্টুঘোড়ায় যারা চড়বে তারা প্রত্যেকেই অনেক আনন্দ পাবে।

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে থাকে মনজিডেলিস। সে পাওয়ারপনির আবিস্কারক এবং প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে শোর রোড এলিমেন্ট্রি স্কুলে সিক্সথ গ্রেডে পড়াশোনা করছে। ছোটবেলা থেকেই ঘোড়া পছন্দ করতো এবং স্বপ্ন দেখতো একদিন সে একটি ঘোড়ার মালিক হবে। কিন্তু সে যেখানে থাকতো সেখানে ঘোড়া রাখার মত জায়গা ছিলো না। সুতরাং বাবা মা তাকে ঘোড়া কিনে দিতে পারেনি। কিন্তু সে কখনো হাল ছাড়েনি। সে তার স্বপ্ন পূরণে সব সময় ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক ক্রিসমাসে সে একটি খেলনা ঘোড়া এবং একটি হভারবোর্ড উপহার পেয়েছিল। সে ভাবলো আচ্ছা যদি ঘোড়াটাকে হভারবোর্ডের উপর বসিয়ে দেই তাহলে কেমন হয়? তাহলেইতো একই সাথে দুটোতেই চড়া হবে আর তার ইচ্ছেও পূরণ হবে। আর সেই সময়েই তার মাথায় আইডিয়া আসলো ব্যাটারি চালিত ঘোড়া তৈরি করবে যেন যখন খুশি, যেখানে খুশি সে চড়তে পারবে। আর এ কাজে তাকে তার বাবা খুবই সহযোগিতা করেছে। যখন সে তার আইডিয়া বাবার সাথে শেয়ার করলো বাবা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো।তারপর তিনি তাকে সবরকম সহযোগিতা করলেন। একসময় বাবা কঠোর পরিশ্রম করতেন। কিন্তু মনজিডেলিসের আইডিয়াটা শেয়ার করার পর দুজনে মিলে যখন সত্যি সত্যিই পাওয়ারপনি তৈরি  করে ট্রায়াল দিয়ে সফল হলেন এবং বাজারে বিক্রি করে দারুণ সাড়া পেলেন তখন থেকে তাদের ভাগ্যই বদলে গেলো। মনজিডেলিস তাই নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবতী মেয়ে মনে করে।

মনজিডেলিস নিজে যেহেতু ছোট তাই সে ছোটদের বিষয়টা মাথায় রেখেই তার ব্রান্ডের একটি সুন্দর নাম খুঁজতে শুরু করলো। অনেক নামের ভীড়ে শেষে পাওয়ারপনি নামটা তার বেশি পছন্দ হলো।তার বন্ধুরা তার এই আবিস্কারে ভীষণ এক্সাইটেড ছিলো। যখনই সে নতুন একটি পাওয়ারপনি তৈরি করে তার ট্রায়াল দিয়েছে তখনই বন্ধুরা উৎসাহ নিয়ে সেটা দেখেছে। উপভোগ করেছে। একবার এক সাক্ষাৎকারে মনজিডেলিসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তুমি এই পাওয়ারপনি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসটি শিখেছ? সে তখন বলেছিল ”ছোট বলে কাউকে অবজ্ঞা করা যাবে না। এবং ছোটদের কল্পনায় যা আসে সেটিকেও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সেই আইডিয়াও বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা সম্ভব যা আমি করে দেখিয়েছি। বিশ্বাস,আস্থা,সহযোগিতা আর গ্রুপওয়ার্ক করতে পারলে অনেক কিছুই করা সম্ভব যা প্রাথমিক ভাবে অসম্ভব মনে হতে পারে।” 

তার প্রতিষ্ঠানে রয়েছে স্পেশাল ডিজাইনার,ইঞ্জিনিয়ার,ইলেক্ট্রিশিয়ান। আর প্রতিটি কাজই সে নিজে তদারকি করে থাকে। ডিজাইনার যখন ডিজাইন করে তখন সে নিজে সেটা দেখে এবং জাস্টিফাই করে যে সেই ডিজাইনটি তার গ্রাহকশ্রেণীর পছন্দ হবে কি না। যদি কিছু মডিফাই করার দরকার হয় তাহলে সে সেভাবেই ইন্সট্রাকশন দেয়। মনজিডেলিসের মতে নিজের মত করে একটি ব্যবসা দাড় করানো খুবই কঠিন বিষয়। তবে যদি নিজের আইডিয়ার উপর নিজের প্রবল বিশ্বাস থাকে,যথাযথ পরিকল্পনা থাকে আর লেগে থাকার মত মানসিকতা থাকে তাহলে যে কেউ সেই প্রজেক্ট সফল করার পথ নিজেই খুঁজে নিতে পারবে। আর এই পথপরিক্রমায় যতই বাঁধা আসুকনা কেন, সেগুলো অনায়াসেই পার করা সম্ভব হবে।

ক্রিসমাসে পাওয়া দুটো উপহার আর নিজের একটি স্বপ্ন থেকে কিশোরী মনজিডেলিস সফল উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে উদ্যোক্তা হবো বা কিছু করবো এমন ধারণা নিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। মিয়া মনজিডেলিসের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প থেকে আমরা এই শিক্ষাই পেতে পারি যে শুরু করার কোনো বয়স সীমা থাকে না আর শুরু করার পর লেগে থাকলে একদিন না একদিন সফলতা আসবেই। হাল ছাড়া যাবে না।

লেখক: জাজাফী

২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

যে শিশু কিশোর কিশোরীরা ১ হাজার বই পড়েছে!

0

বইয়ের মত অকৃত্রিম বন্ধু আর হয় না। বই পড়ায় যে আনন্দ তার একটি ধারণা পাওয়া যায় বিশ্ববিখ্যাত শিশুতোষ লেখক রোয়াল্ড ডালের লেখা “মাতিলদা” বই থেকে। যেখানে মাতিলদা নামের ছোট্ট মেয়েটি বই পড়ায় এতো বেশি আগ্রহী যে পড়তে শেখার পর পরই সে লাইব্রেরীতে গিয়ে অসংখ্য বই পড়ে ফেলে। হলিউডে এটা নিয়ে দুটো সিনেমাও হয়েছে। বই পড়ে আমরা হাসি,কাদি,আনন্দপাই আবার অনেক জ্ঞানার্জনও করি। তবে অনেকেই বই পড়তে খুব একটা পছন্দ করে না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা বইপড়তে খুবই ভালোবাসে। আর আমরা তাদের বলি বইয়ের পোকা। ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জীবনে নানা সুবিধা পাওয়া যায়। কখনো নিজেকে একা লাগে না। মনে হয় সবচেয়ে সেরা বন্ধুতো আমার সাথেই আছে। আর সেই সেরা বন্ধু হলো বই। বই আমাদের নতুন এক জগতের সন্ধান দেয়। আমরা যত বেশি বই পড়ি আমাদের মনের চোখ খুলে যায়। আমরা কল্পনা করতে পারি নতুন নতুন ভূবনের। আমাদের চিন্তার প্রসার ঘটে। জ্ঞানের বিকাশ ঘটে।

কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই বই পড়ার সুযোগ মেলে না বলে অভিযোগ করে। আবার উল্টোটাও দেখা মেলে। বিশ্ববিখ্যাত মানুষ বিলগেটস বা মার্ক জুকারবার্গও প্রচুর ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু তাদের বই পড়ার যে নিয়মিত অভ্যাস তাতে কোনো অসুবিধা হয় না। তারা সময় বের করে প্রতিদিনই বই পড়েন। একজন মানুষ তার সারা জীবনে ঠিক কতগুলো বই পড়তে পারে? কেউ কেউ বলেন ৫ হাজার আবার কেউ কেউ বলেন ১০ হাজার। বইয়ের সাইজ,ধরণ এসবের উপর সব কিছু নির্ভর করে। কেউ যদি রাত দিন পড়তেই থাকে তবে সে হয়তো অনেকগুলো বই পড়তে পারবে। আর যারা সবে মাত্র কিন্ডারগার্টেন শুরু করেছে এবং যাদের বয়স ১২ বছর বা তার কম তাদের পক্ষে ওই বয়সে ঠিক কতগুলো বই পড়া সম্ভব? স্কুলের পড়া,খেলাধুলা,টিভি দেখা সব কিছু বাদ দিয়ে যে সময় মেলে তাতে হয়তো ১০ থেকে ২০ টা বই পড়তে পারে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো পৃথিবীতে এমন অনেক শিশু কিশোর কিশোরী আছে যারা কিন্ডারগার্টেন পার হওয়ার আগেই ৩০০ থেকে ১০০০ বই পড়ে ফেলেছে! অনেকের কাছেই এই তথ্যটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তারা চাইলে ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই এর সত্যতা খুঁজে পাবে। তেমনই কিছু শিশু কিশোর কিশোরীর গল্প শোনাতে চাই।

লানা রেনল্ড ও জুদাহ রেনল্ড

আমেরিকার  পেনসিলভেনিয়ার অন্তর্গত ব্রুকভিল নামক স্থানে একটি লাইব্রেরি আছে যার নাম রেবেকা এম আর্থার্স লাইব্রেরী। স্থানীয় মানুষ এই লাইব্রেরীর সদস্য। সদস্যদের মধ্যে রয়েছে শত শত শিশু কিশোর কিশোরী। সেই সব শিশু কিশোর কিশোরীদের অনেকেই এক হাজার বই পড়ে ফেলেছে আবার কারো কারো সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি চলে গেছে। তারা এই লাইব্রেরীতে এসেই পড়ছে এবং তারা পড়াটাকে খুব উপভোগ করছে। তাদেরই একজন লানা রেইনল্ড। সে কিছুদিন আগেই এক হাজার বই পড়ে শেষ করেছে। লানা যখন খুব ছোট ছিলো তখন সে দেখতো মা তার পাশে বসে বই পড়ছে। কখনো কখনো মা তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বই পড়তেন। সেই থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় লানার মনের মধ্যে। সে হয়তো তখনই মনে মনে ভেবে রেখেছিল মায়ের মতই সেও অনেক বই পড়বে। রোজ রাতে ঘুমানোর আগেও মা তাকে বই থেকে গল্প শোনাতো। সেই সব গল্পে রাজপুত্র,রাজকন্যা যেমন থাকতো তেমনি অনেক সুন্দর সুন্দর শিক্ষনীয় ঘটনাও থাকতো। তারপর সে যখন স্কুলে গিয়ে দেখে দেখে পড়া শিখলো তখন সে মায়ের পাশে বসে তার উপযোগী বই পড়তো। 

লানা যতগুলো বই পড়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় বই “দ্য নেস্টিং বার্ড”। কারণ সে পাখির ছানা খুব ভালোবাসতো। লানার ছোট্ট একটা ভাই আছে। মা যেমন ছোট বেলায় তাকে গল্প পড়ে শোনাতো লানা নিজেও পড়তে শেখার পর তার ছোট ভাই জুদাহ রেনল্ডকে পাশে বসিয়ে বই পড়ে শোনাতো। এভাবে তার ভাইও বইয়ের প্রতি ভালোবাসায় আটকা পড়লো। ছোটবেলা থেকে লানা যে সব বই পড়েছিল সেগুলোই এখন জুদাহ নিজে পড়ছে। আর সে এরই মধ্যে ২০০ বই পড়ে ফেলেছে। বয়স যদিও মাত্র ৭ বছর! আর তার প্রিয় বই “পিটি দ্য ক্যাট”।

লানার বই পড়ার শুরুটা তার মায়ের হাতে হলেও সেটা গতি পেয়েছিল রেবেকা এম আর্থার্স লাইব্রেরীর বই পড়া কর্মসূচীর মাধ্যমে। বাংলাদেশে যেমন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়ার কর্মসূচী আছে অনেকটা সেরকম। লানার মায়ের নাম মাইলিয়া রেনল্ড তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে বইপড়া কর্মসূচীর বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন। সেই বান্ধবী তার বেবীদেরকে খুব ছোট বেলা থেকেই ওই লাইব্রেরীতে নিয়ে যেতেন এবং নিজেও বই পড়তেন। এটা শুনে মাইলিয়ার মনে হলো তিনি লানাকেও ওই লাইব্রেরীর সদস্য করবেন। বাড়িতে বসে অনেক বই পড়া হয়েছে। আরও কত শত বই আছে যার সব কিনে পড়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি অনেক বইয়ের সন্ধানও অনেক সময় পাওয়া হয়না। কিন্তু লাইব্রেরীতে গেলে যেমন অসংখ্য বই পাওয়া যাবে তেমনি পড়ার পরিবেশও ভালো থাকায় পড়ায় গতি আসবে। তাছাড়া মাইলিয়া মনে করতেন এই পড়ার অভ্যাস তার ছোট্ট ছেলে মেয়েকে ভবিষ্যতে সফল হতে সহযোগিতা করবে। সেই থেকে লানা আর তার ভাই জুদাহ বাড়িতে পড়ার পাশাপাশি লাইব্রেরীতে গিয়েও পড়তে শুরু করলো। উল্লেখ্য লানা ও তার ভাই মূলত হোমস্কুল করতো বলে তাদের হাতে ছিলো পড়ার মত অনেক বেশি সময় ও সুযোগ।

বেথেনি ফ্রিটজ

লানা রেনল্ডের মতই বেথেনি ফ্রিটজ নামের মেয়েটিও বইয়ের পোকা। সেও এরই মধ্যে ১ হাজার বই পড়ে শেষ করেছে। বেথেনির দাদি আন ফ্রিটজ বলেছেন বেথেনির বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন থেকে সে লাইব্রেরীর গ্রীষ্মকালীন বইপড়া কর্মসূচীতে নাম দিয়েছিলো। বেথেনিদের বাসায় যে রেফ্রিজারেটর আছে সেটার দরজায় সে একটা চার্ট লাগিয়ে রেখেছিল কবে কখন কোন বই পড়বে। রোজ সে সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ম করে বই পড়তে শুরু করেছিল। বেথেনিও লাইব্রেরী খুব ভালোবাসতো। বইয়ের রাজ্যে সে আনন্দের সাথে বিচরণ করতো। লাইব্রেরী থেকে যখনই যে অফার দিতো সে ও তার পরিবার তা লুফে নিতো। জুদাহের মত বেথেনির প্রিয় বইয়ের নামও “পিটি দ্য ক্যাট”। বেথেনি বলেছে এই বইটি তার বেশি ভালো লেগেছে কারণ যে বিড়ালটিকে নিয়ে এই বইটি লেখা হয়েছে সে খুব মজার মজার ঘটনা ঘটায়। সেগুলো পড়লে খুব আনন্দ হয়, হাসি পায়। 

লাইব্রেরীতে বসে পড়ার পাশাপাশি লাইব্রেরী থেকে পছন্দের বই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ারও সুযোগ আছে। একবার তাকে যখন প্রশ্ন করা হলো কোন বইটি তুমি বাড়িতে নিয়ে পড়তে চাও? সে বলেছিল পারলে সবগুলোই সে বাড়ি নিয়ে পড়তে চায়! বইগুলো কিন্তু খুব বেশি বড় না। ছবিযুক্ত দারুণ সব ফিচার বুক। যেখানে ছবির সাথে সাথে কয়েক লাইন করে গল্পবলা হয়। ফলে খুব দ্রুতই পড়া হয়। বেথেনি ঘুম থেকে উঠে বই পড়ে, নাস্তার টেবিলে নাস্তা করতে করতে বই পড়ে। নাস্তা শেষ হলে বই পড়ে। দুপুরে ঘুমোতে যাবার আগে বই পড়ে আবার ঘুম থেকে উঠেও বই পড়ে। রাতে খাবারের আগে বই পড়ে আবার খাবার শেষেও বই পড়ে। আর ঘুমোতে যাবার আগেও বই পড়ে! বই বই আর বই। মুনির হাসানের একটা বইয়ের কথা মনে পড়লো। যে বইটির নামই “ পড়ো পড়ো পড়ো”। বেথেনি বা লানারা যদিও মুনির হাসানের বইটির কথা জানে না কিন্তু তারা যেন পণ করেছে শুধু পড়বে আর পড়বে।

অ্যাবি হলিস:

আরেক পড়ুয়ার নাম অ্যাবি হলিস। বয়স এখন মাত্র ৬ বছর। এ বছর সে কিন্ডারগার্টেন পার করবে। এরই মধ্যে সে রেবেকা এম আর্থার্স লাইব্রেরীর গ্রীষ্মকালীন বই পড়া কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে ৯০০ বই পড়ে ফেলেছে। অ্যাবি খরগশের গল্প পড়তে বেশি ভালোবাসে। তার ইচ্ছে ১০০০ বই পড়া শেষ করে সে লাইব্রেরী থেকে পুরস্কার নিবে। এই প্রোগ্রামে যারাই ১০০০ বই পড়া শেষ করেছে তাদেরকে লাইব্রেরী থেকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এই এক হাজার বই পড়ার জন্য সময় পাওয়া যায় পুরো এক বছর। অনেকে ভাবতে পারে এই বয়সে এক বছরে ১ হাজার বই পড়া কিভাবে সম্ভব? তাদের জন্য একটি তথ্য যুক্ত করেছেন রেবেকা এম আর্থার্স লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান। বাচ্চাদের বই পড়ায় উৎসাহ যোগাতে তারা একটি ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাচ্চাদের বইগুলো সাধারণত খুব ছোট হয়। ২০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ হয়। ছবি আর লেখায় বইটি পরিপূর্ণ থাকে। ফলে দেখা যায় একটি বইয়ের শব্দ সংখ্যা ৫০০ থেকে ১০০০ এর কম হয়। ফলে এক বসাতেই পুরো বই পড়া হয়ে যায়। অন্যদিকে কোনো বাচ্চার যদি কোনো বই খুব ভালো লাগে এবং সে যদি সেই বইটি বারবার পড়ে তবে প্রতিবার পড়া হিসেবে একটি সংখ্যা কাউন্ট করা হয়। মানে অ্যাবি হলিস তার পছন্দের বইটি যদি ১০০ বার পড়ে থাকে তবে সে একশোটি বই পড়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। লাইব্রেরিয়াম স্ট্রম মনে করেন রিপিটেশনের মাধ্যমে বাচ্চারা যেন বইয়ের বিষয়বস্তু আরও ভালোভাবে জানতে ও শিখতে পারে তাই এই ব্যবস্থা রাখা।

বই আমাদের মনের চোখ বাড়ায়। আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করে। বই পড়ে আমরা যেমন আনন্দ পাই তেমনি শিখতে পারি অনেক কিছু। আমাদের জাতীয় গ্রন্থাগারের গেটের বাইরে এক সময় বড় একটি পাথরের বই তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বড় করে লেখা ছিলো “ পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই”। আর এ কারণেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তাদের কর্মসূচীর নাম দিয়েছিল ”আলোকিত মানুষ চাই”।

লেখক: জাজাফী

৮ জানুয়ারি ২০২৪

সচেতনতা পারে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে

0

লেখক: অভিজিৎ সুশীল সানি

বাংলাদেশ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশে অসংখ্য নদনদী জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নদীর সৌন্দর্য দেখে অনেকে মুগ্ধ হয়। কখনো কখনো সেই নদী কারো কাছে হয়ে উঠে জীবীকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। আবার অন্য কারো কাছে নদী মানে আতংকের এক নাম। আমাদের বাসার পাশে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। প্রতিনিয়ত শুনি বেড়াতে এসে সাগরে স্নান করতে নেমে শিশুদের মৃত্যুর খবর। বেশ অনেক দিন আগের কথা, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আমার এক পিসতুতো ভাই খেলতে গিয়ে নদীর পানিতে ডুবে মারা যান। আমার পিসি ওনার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল এই মৃত্যুর পেছনের একমাত্র কারণ সাঁতার না জানা আর অসচেতনতা। দেশে প্রতিদিন এভাবে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হচ্ছে সাঁতার না জানার কারণে। নদীর পাশাপাশি পুকুর, ডোবা এমনকি বালতির পানিতেও প্রাণ হারাচ্ছে অনেক শিশু। পরিবারের অসচেতনতাও এসব দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন বলছে বাংলাদেশে প্রতিদিন মর্মান্তিকভাবে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। 

এর পাশাপাশি প্রতি বছর ১৪ হাজার শিশু মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ইউনিসেফ অসচেতনতা আর সাঁতার না জানাকে দায়ী করছেন।   আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর তিন লাখ ঊনষাট হাজার চারশো জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। এদের বিশ শতাংশের বয়স আবার পাঁচ বছরের কম।

পাঁচ বছরের কম বয়সী  শিশুমৃত্যুর হারে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানাচ্ছে, বাংলাদেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে পঁচিশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করার জন্য পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে হলে এ মৃত্যকে এসডিজির অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন প্রতিরোধ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সচেতনতা, শিশুদের সাঁতার শেখানো পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধ করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ইউনিসেফের এক ভিডিওতে আমাদের ক্রিকেট আইকন সাকিব আল হাসানকে দেখা যায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতা মূলক বার্তা দিচ্ছেন। যা নিসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একটি সুন্দর শিশুবান্ধব আগামী তৈরি করতে হলে পরিবারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে যার ফলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যাবে। 

লেখক,

অভিজিৎ সুশীল সানি

শিক্ষার্থী (বিজ্ঞান বিভাগ, একাদশ শ্রেণী, কক্সবাজার সরকারি কলেজ)

জেলা: কক্সবাজার 

বয়স: ১৬

ইসলামে নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার ও মর্যাদা

0
প্রতি বছর ১১ অক্টোবর কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়। ২০১২ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিনটিকে (১১ অক্টোবর) বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, আইনি সহায়তা, ন্যায়বিচার ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এ দিবসের সূচনা। ইসলাম ধর্মেও নারী ও কন্যাশিশুর মর্যাদা সুরক্ষায় অভাবনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন নবী করীম হযরত মুহাম্মদ (স.)। কন্যাশিশুর পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী করে দিয়েছেন মুহাম্মদ (স.)।

আমরা সকলেই জানি, আরব ছিলো একসময় অন্ধকারাচ্ছন্ন, কুসংস্কার আর নানা অনাচারে ঘেরা এক মরু উপত্যকা। যাকে আরবী ইতিহাসবিদগণ আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময় বা ইসলামের অন্ধকার যুগ বলে অবিহিত করে থাকেন। জনশ্রুতি আছে আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময় আরব দেশে কন্যাশিশু জন্ম দেয়াকে একরকম অশুভ কর্ম হিসেবেই দেখা হতো। কোনো পরিবারে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে খুশী হতেন না পরিবারের অভিভাবকরা।

মেয়ে বা কন্যাশিশুদেরকে পিতার পক্ষের সম্পত্তি লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হতো। ঘাড়ের বোঝা মনে করা হতো কান্যশিশুদের। এমনও শোনা যায়, সেসময় কন্যাশিশুর মর্যাদা সমাজে এতোটাই নিচে ছিল যে কন্যাশিশুর জন্ম হলে তাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেয়া হতো। এরকম কতো কন্যাশিশুকে যে জীবন্ত কবরে পুঁতে দেয়া হয়েছে তা নিশ্চই আরবের সে অন্ধকার যুগের ইতিহাসের খাতায় লিপিবদ্ধ আছে।  

ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আবির্ভাবের পর আরবের নারী ও কন্যাশিশুরা তাদের মর্যাদা ফিরে পেতে লাগলো। ঐতিহাসিক রেমন্ড লার্জ বলেন, The founder of islam is in fact the promoter to the first social and international revolution of which history gives mention.অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সূচনাকারী হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক এর নাম ইতিহাসে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে।

নবী করীম (স.) মুসলিমদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনের মাধ্যমে আইন জারি করলেন এই বলে যে- ‘তারা তোমাদের জন্য এক প্রকারের পোশাক এবং তোমরাও তাদের জন্য এক প্রকারের পোশাক’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭)।

তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে বললেন যে, যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান লালনপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সাথে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় হবে (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৩)।

নবী মুহাম্মদ (স.) এর সময় নারীরাও পুরুষদের পাশাপাশি আরবের ব্যবসাক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। তাদের মধ্যে আরবের তৎকালীন মহিলা ব্যবসায়ী খাদিজা (রা.) এর নাম উল্লেখযোগ্য। হযরত খাদিয়া (রা.) আরবের একজন সম্রান্ত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার মাধ্যমেই হযরত মুহাম্মদ (স.) ব্যবসায় শিক্ষা লাভ করেন। মুহাম্মদ (স.) এর সততায় অভিভূত হয়ে খাদিজা তাঁকে নিজের ব্যবসায় নিয়োগ দিয়েছিলেন।

সুতরাং, খাদিজা (রা.)-র ব্যবসার বিষয়টি থেকে বুঝা যায় ইসলাম ধর্মে কখনোই নারী ও কন্যাশিশুদেরকে অসম্মান বা অমর্যাদা করা হয়নি। বরং, যখনই নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি অন্যায়, অবিচার হয়েছে মুহাম্মদ (স.) এর কঠোর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি কন্যা সন্তানদেরকে একেকটি বেহেশতের সাথে তুলনা করেছেন।

ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলিম উম্মাহ মনে করে- কন্যা সন্তান প্রতিপালনের তিনটি ফযিলত সকল ফযীলতের সারমর্ম হল তিনটি জিনিস। এক. আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। দুই. জান্নাত দান করবেন। তিন. আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। যা সফলতার সর্বোচ্চ চূড়া বলে মনে করেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।

কন্যা সন্তানের জন্মে বেশি আনন্দ প্রকাশ করা ইসলামের শিক্ষা। কন্যা সন্তান জন্ম নিলে আনন্দ প্রকাশ করা এবং এটিকে একটি সুসংবাদ মনে করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ইসলামে বিদ্যমান। তাইতো কন্যা জন্মের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। অনেক ইসলামিক স্কলার লেখেন, যেহেতু কন্যা সন্তান জন্মানোর কারণে নিজেকে ছোট মনে করা, একে অপমান ও অসম্মানের কারণ মনে করা কাফিরদের কাজ, তাই মুসলমানগণের উচিত, কন্যা সন্তানের জন্মের কারণে অধিক খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করা।

একবার সফরে ঘটলো এক ঘটনা!
মহানবী (স.) যখন কোন সফরে যেতেন, তখন মহিলারাও সঙ্গে থাকতেন। ফলে সকলকে তিনি ধীরে ধীরে চলার উপদেশ দিতেন। যেন নারী ও কন্যাশিশুরা পিছনে না পড়ে যায়। একবার এরকম এক অবস্থায় যখন সৈনিকরা তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে লাগাম ঢিলা করে দিয়ে জোরে তাড়া করতে শুরু করল, তখন তিনি বললেন, ‘আরে তোমরা করছ কি! কাঁচের প্রতি খেয়াল রেখ! কাঁচের প্রতি খেয়াল রেখ! অর্থাৎ, করছ কি! মেয়েরাও তো সঙ্গে আছে। তোমরা যদি এভাবে উট দাবড়াতে থাকো, তাহলে তো ওই কাঁচগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে’ (বোখারী, কিতাবুল আদাব)।

আরেকবার এক যুদ্ধের ময়দানে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণে উট ও ঘোড়াগুলোকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। রাসূল করিম (স.) পর্যন্ত ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। অনেক মহিলাও পড়ে গিয়েছিলেন সেসময়। তখন এক সাহাবী পেছন থেকে রাসূল (স.)-এর সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (স.)-এর পা তখনও রেকাবের মধ্যে আটকে এবং ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি (স.) তাড়াতাড়ি পা ছাড়িয়ে নিজকে মুক্ত করলেন এবং ওই সাহাবীকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আমাকে ছাড়ো, ঐদিকে, মেয়েদের দিকে যাও।’

নারীদের সঙ্গে সর্বদা উত্তম আচরণ করার উপদেশ
রাসূল করিম (স.)-এর মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে এলো, তখন তিনি সব মুসলমানদের সমবেত করে যে সব ওসিয়্যত করেছিলেন, তার মধ্যে একটি কথা এই ছিল যে, ‘আমি তোমাদের আমার এই শেষ উপদেশ করছি যে, নারীদের সঙ্গে যেন সর্বদা উত্তম আচরণ করা হয়।’ এ কথাও তিনি প্রায়ই বলতেন যে, ‘যার ঘরে মেয়েরা আছে এবং সে তাদের লেখাপড়া শেখায় এবং ভালভাবে তরবিয়ত করে, কেয়ামতের দিন খোদাতায়ালা তার জন্য দোজখ হারাম করে দেবেন’ (তিরমিযি শরীফ)।

সাধারণ আরবদের মধ্যে একটি রেওয়াজ ছিল যে, স্ত্রীলোকরা যদি কোন ভুল-ত্রুটি করত, তবে তাদের মারধর করা হতো। হযরত রাসূল করিম  (স.) যখন বিষয়টা জানতে পারলেন, তখন তিনি বললেন, ‘নারীরা আল্লাহর দাসী, তোমাদের নয়। তাদের কখনই মারধর করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে না কিংবা তাকে মারধর করে, তার সম্পর্কে আমি তোমাদের বলে দিচ্ছি যে, সে খোদার দৃষ্টিতে সৎ বলে বিবেচিত হবে না।’

এ ঘোষণার পর নারীর অধিকার রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত হয়। মহানবী  (স.)-এর অনুগ্রহে প্রথমবারের মতো নারীরা স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে (আবু দাউদ, কিতাবুন নিকাহ)।

হযরত মাবিয়া আল কুশায়বি (রা) বলেছেন, ‘আমি রাসূল করিম  (স.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ওপর স্ত্রীদের অধিকার কী?’ তিনি বললেন, ‘খোদা তোমাকে যা খেতে দিয়েছেন, তা থেকে তুমি তাকে খেতে দাও, খোদা তোমাকে যা পড়তে দিয়েছেন, তা থেকে তুমি তাকে পড়তে দাও এবং তাকে থাপ্পড়ও মেরো না, গালিও দিও না এবং তাকে ঘর থেকে বের করে দিও না’ (আবু দাউদ)।

তৎকালীন আরবে নারীদের ভোগ্য সামগ্রী মনে করত। নবী মুহাম্মদ (স.) তাদেরকে সেই নিচু স্তর থেকে সুমহান মর্যাদা এনে দিয়েছেন। তারা ছিল পুরুষদের দাসীমাত্র। কন্যা সন্তানদের জীবন্ত দাফনপ্রথা সিদ্ধ ছিল। পরিবারের কর্তা ইচ্ছে করলে নারীকে ক্রয়-বিক্রয় এবং হস্তান্তর করতে পারতো। পিতা এবং স্বামীর সম্পত্তিতে তাদের কোন অংশ ছিল না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সমাজে অভূতপূর্ণ মর্যাদা দিয়ে সবার প্রথম ঘোষণা করলেন, জননীর পদতলে সন্তানের বেহেশত।

আপনার সন্তানকে অভাব বিষয়ে ধারণা দিন যেন ওর ভবিষ্যত উজ্জল হয়

0
মডেল: তাজিম এবং সুমি
মডেল: তাজিম এবং সুমি
মানুষের জীবনে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা সবই থাকে। সুখের পরে যেমন দুঃখ আসতে পারে তেমনি দুঃখের পর সুখও আসতে পারে। জীবনে ভালো কিছু করতে হলে প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে ফেলতে হয়। সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ বলে যে প্রবাদটি রয়েছে তা আমাদের অনুসরণ করা উচিত। আমরা যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করি তবে সেই সময়ে আমরা বিপাকে পড়লে কোথাও যাওয়ার যায়গা থাকবে না। সমাধান মিলবে না। মহামারিকাল আমাদের যা কিছু শিখিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমাদের উপার্জন করা যেমন জরুরি, সঞ্চয় করাও তেমনি দরকারি। বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন ওয়ারেন বাফেট বলেন, অন্যরা আগে খরচ করে, তারপর যেটা বেঁচে যায়, সেটা জমায়। আর তিনি আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমিয়ে রাখেন। তিনি বলেছেন আগে জমাও তারপর কিছু বেচে থাকলে তা খরচ করো। মানে জমাতে হবে তারপর যা বাকি থাকে, সেটা খরচ করেন। তাই আপনার সন্তানকে এখন থেকেই সঞ্চয়ী হওয়ার শিক্ষা দিন। কেননা, শিশুকালই শেখানোর সেরা সময়। এ সময় যা কিছু শেখাবেন, তা সারা জীবনের জন্য মাথায় গেঁথে যাবে। কীভাবে সেটা করবেন, জেনে নেওয়া যাক তার কয়েকটি উপায়।

আমরা জানি ছোটরা অনুকরণ প্রিয় হয়। তাদের সামনে বা তাদের সাথে আপনি যা করবেন তারা আপনাকে অনুসরণ করে তাই করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু তাদেরকে কিছু এমনিতে বললে তারা তা নাও শুনতে পারে। ফলে আপনি এমন কিছু করবেন না যা আপনার সন্তানকে করতে বলবেন না। সুতরাং সন্তানকে সঞ্চয়ী বানাতে চাইলে আগে নিজে সঞ্চয়ী হোন। কেননা, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনি যদি বেহিসেবী হন আর সন্তানের সামনে যদি সঞ্চয় কেন জরুরি, কীভাবে করতে হবে, সে বুলি আওড়াতেই থাকেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। তাই আপনি নিজে সঞ্চয়ী হোন। আপনার সন্তানকে সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।

চাইলেই কিছু পাওয়া যায়, এমন ধারণা যেন আপনার সন্তানের না হয়। মাঝেমধ্যে আপনার সন্তানকে দিয়ে ঘরের কাজ করান। আর সেজন্য তাকে অর্থ দিন। একটা শিশু যখন পরিশ্রম করে টাকা পাবে, তখন সে সেই কষ্টে উপার্জিত অর্থ খরচ করার বিষয়ে ভাববে ও সচেতন হবে।

সন্তানকে কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা বিলাসিতা, সেটা বুঝিয়ে বলুন। বলুন যে পায়ের স্যান্ডেল ছোট হয়ে গেছে, নতুন একজোড়া কিনতে হবে। সেটা প্রয়োজন। অন্যদিকে বাসায় আরও তিনটা খেলনা গাড়ি আছে। তাই যে খেলনাটা সে নেবেই বলে জেদ করছে, সেটা বিলাসিতা। ছোটবেলা থেকে সন্তানকে বিলাসিতার নেতিবাচক দিকগুলো বোঝান। বিলাসদ্রব্যে যেন অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের খাবারে অভ্যস্ত করুন। তাতে অপচয়ের পরিমাণ কমবে। খরচের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সঞ্চয় যে শক্তি, সেটা বুঝিয়ে বলুন।

আপনার সন্তানকে একটা মাটির ব্যাংক কিনে দিন। শুরুতে সেখানে টাকা জমানোর অভ্যাস করুক। তারপর তার একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দিন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি আপনার তত্ত্বাবধানে থাকবে। তার বয়স ১৮ বছর হলে সে বেশ কিছু টাকার ‘মালিক’ হয়ে যাবে।

আপনার সন্তানের সামনে তিনটা পাত্র রাখুন। যখনই সে কোনো জায়গা থেকে কোনো টাকা পাবে, সেটা সে তিন ভাগ করে খরচের জন্য, দানের জন্য, জমানোর জন্য এভাবে রেখে দেবে। তাহলে তার দান করা ও জমানো—দুটি ভালো অভ্যাসই গড়ে উঠবে।

সন্তানকে টাকা জমাতে অনুপ্রাণিত করুন। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমে গেলে তাকে উপহার দিন। যেমন রিকশাভাড়া থেকে প্রতিদিন ১০-২০ টাকা করে বাঁচিয়ে সে যখন ৫০০ টাকা জমিয়ে ফেলবে, তখন তাকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে বা বাড়িতেই তার প্রিয় কিছু বানিয়ে খাওয়ান। অথবা প্রয়োজনীয় কিছু, যেমন রংপেনসিল কিনে দিন।

সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করুন। মনে করুন, সে অনেক দিন ধরে আপনাকে একটা ঘড়ি কিনে দিতে বলছে। আপনি তাকে সেটা টাকা জমিয়ে কিনতে বলুন। বলুন যে এভাবে সে নিজেই নিজের শখ পূরণ করতে পারবে আর গর্ব করে অন্যদের বলতেও পারবে!

আপনার শিশু খেতে না চাইলে কী করবেন?

এখনকার সময়ে বাচ্চাদের খাওয়ানোটা বেশ দুরুহ বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক সময় বাচ্চারা খাবার খেতে গিয়ে অনেক বাহানা করে। বাবা মায়ের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আজকাল মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের মায়েদের একটি কমন সমস্যা হল তাদের বাচ্চা খেতে চায় না। এটা নিয়ে তারা প্রায়শই ডাক্তারের শরণাপন্ন পর্যন্ত হয়ে থাকেন। বাচ্চা খেতে চায় না এটাই ডাক্তারের কাছে তার প্রধান অভিযোগ। তারা বুঝতেই চাননা একটি শিশু আসলে একজন মানুষ, এবং ক্ষুধা লাগা তার একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। ক্ষুধা ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে, এর জন্য কোন ঔষধের প্রয়োজন নেই।

আপনার শিশু কি খেতে চায় না? খাওয়ার চেয়ে টিভি বা ফোনে বেশি আসক্ত? উত্তর ইতিবাচক হলেও মন খারাপ করার কিছু নেই, এই সমস্যা শুধু আপনার একার নয়। প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুর খেতে না চাওয়ার সমস্যা আছে। কমবেশি সব মায়েরই এক অভিযোগ—বাচ্চা কিচ্ছু খায় না। আপনার শিশু খেতে না চাইলে কী করবেন?

খাবারের প্রতি শিশুর এই বৈরাগ্য ভাব কাটাতে প্রথম থেকেই সচেতন হতে হবে। তা না হলে শিশুর স্বাদবিষয়ক অনুভূতিগুলো যখন ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে, তখন সে খাবারের ব্যাপারে খুঁতখুঁতে হবে। তবে ভালো খবর হলো, কিছু উপায় আছে, যেগুলো অবলম্বন করে আপনার শিশুসন্তানকে খাওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারবেন।

বাচ্চার ক্ষুধাকে বুঝতে হবে: বাচ্চাকে দিনে তিন বেলাই খাওয়াতে হবে—এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম কিন্তু নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি খেতে না চায়, তাহলে তাকে সে সময় খেতে বাধ্য না করাই ভালো। যখন খিদে লাগবে, তখন খেতে দিন। আবার এক বেলা যেটুকু খাওয়াতে চান, সেটা একবারে খেতে না চাইলে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে খাওয়ান। মানে, আগে যেখানে তিন বেলা খাওয়াতেন, এখন সেই খাবারটুকুই ছয়বারে পরিবেশন করুন।

রুটিনমতো চলা: শিশুর খাবারের সময় একবার ঠিক হয়ে গেলে নিয়মিত সেই সময়ে তার খিদে লাগবে। মিলগুলো যেন প্রতিদিন একই সময়ে পরিবেশন করা হয়, তা নিশ্চিত করুন। লক্ষ্য থাকবে, প্রতিদিন তিন বেলার খাবার ছাড়াও দুইবার হালকা নাশতা বা স্ন্যাকসজাতীয় কিছু খাওয়ানো। শিশুকে কী ধরনের স্ন্যাকস দিচ্ছেন, অবশ্যই সেটা খেয়াল রাখতে হবে। মুখরোচক কিন্তু অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস মূল খাবারের সময় খিদে কমিয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বাচ্চাকে দিতে পারেন ফল বা বাদাম।

খাবার পরিবেশন হোক আকর্ষণীয়: সুন্দরভাবে পরিবেশিত খাবার কিন্তু অনেক শিশুকে খাবারের প্রতি আগ্রহী করে। শিশুর খাবার পরিবেশনে তাই কিছু সৃজনশীল উপায় ভেবে বের করুন। এই যেমন শিশু এমনিতে হয়তো পাউরুটি খেতে চায় না, তবে সেটা যখন প্লেটের ওপর নৌকা বা বাঘের মতো দেখাবে, সে খেতে আগ্রহী হবে। গোটা ফলও খেতে না চাইলে সেটা দিয়ে ফুল, লতাপাতা বানিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। তাই ফল বা সবজি কাটার জন্য কুকি কাটার ব্যবহার করতে পারেন। হামাস বা জেলিতে ডিপিং করেও নানা রকম খাবারের চেহারা বদলে দিতে পারেন।

স্বাদ আবিষ্কারের সুযোগ দিন: বিভিন্ন ধরন ও স্বাদের খাবার আবিষ্কারে আপনার সন্তানকে সাহায্য করুন। এতে সে খাবারের ভিন্নতা গ্রহণ করতে শিখবে। কোনো খাবার থাকে রসাল, কোনোটি মাখানো, কোনো খাবার দানাদার, কোনোটা টুকরা করে কাটা। প্রথমে মাখানো বা রসাল স্মুদ টেক্সচারের কোনো খাবার দিয়ে শিশুর অভ্যাস গড়ে তুলুন। এরপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকি ধরনের খাবার একটা একটা করে পরিবেশন করুন। সব খাবার একসঙ্গে শিশুকে খাওয়ানোর দরকার নেই।

খাওয়ার সময় অন্য বিনোদন বাদ: বাচ্চা যখন টিভি দেখে বা ফোনে থাকে, তখন তাকে খাওয়ানো একদমই উচিত না। এতে শিশু প্রতিবার খাওয়ার সময় কিছু না কিছু দেখতে চাইবে, পরে যা অভ্যাসে পরিণত হবে। খুঁতখুঁতে বাচ্চাদের খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি ঘটাতে চাইলে ভিডিও দেখানোর অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। কেননা, টিভি বা ফোনে ভিডিও দেখার সময় বাচ্চার পুরো মনোযোগ পর্দায় থাকে। সে কী খাচ্ছে, তার চেয়ে পর্দায় কী ঘটছে, তার প্রতিই তার মনোযোগ থাকে। তার চেয়ে বরং শিশুর সঙ্গে গল্প করুন। যে খাবারটি খাওয়াচ্ছেন, সেটার পুষ্টিগুণ শিশুর মনের মতো করে বলতে পারেন।

খাবার তৈরিতে শিশুদের সঙ্গে রাখুন: বাচ্চাদেরও মাঝেমধ্যে বাজারে নিয়ে যাওয়া উচিত। তারা কোন কোন খাবার খাবে, সেটা তাদের পছন্দ করতে দিন। এরপর সবজি কাটাকুটি থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত তাদের ছোটখাটো কাজে অংশগ্রহণ করতে দিন। এতে তারা শুধু জীবনমুখী কাজগুলো করতে শিখবে না; বরং নিজে যে খাবার রান্না করতে সাহায্য করেছে, সেসব খাবার খেতেও চাইবে।

ধৈর্য রাখুন: দেখুন, কোনটা তার জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ, এটা বোঝার জন্য বাচ্চারা যথেষ্ট পরিপক্ব না। তাই শিশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ধৈর্য রাখতে হবে। বড়দের মতো ঝটপট শিশুরা খাবে না, এটা আপনাকেও বুঝতে হবে। ধৈর্য রাখলে আপনার শিশু খাবারদাবার বিষয়ে এই খুঁতখুঁতে আচরণ থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে।

বাচ্চার না খাওয়া নিয়ে বাবা-মায়ের ধ্যান ধারনা

অধিকাংশ বাবা-মায়েরা ধারনা করে থাকেন তাদের বাচ্চা খাচ্ছে না মোটেই, বিশেষ করে শহরের ফ্লাট বন্দি বাবা-মায়েরা। আর এই সমস্যা এখনকার সমাজে একটা সংক্রামক পর্যায়ে চলে গেছে। এ ব্যাপারে তারা যেটা বলে থাকেন- আমার বাচ্চা তো কিছুই খায় না।

আশেপাশের মানুষ কি বলে

আপনার বাচ্চা খাচ্ছে না- একথা শুনে আশেপাশের মানুষ কি বলে? তারা বলবে- না খেলে বাচ্চা বেঁচে আছে কিভাবে? কিংবা বলে আগেকার জামানায় মায়েদের অনেকগুলো বাচ্চা সামলাতে হত তাই কে খেল আর কোনটা না খেয়ে আছে দেখার সুযোগই পেত না। এখনকার মায়েদের যেহেতু একটি বা দুইটি বাচ্চা তাই সারাদিন এদের পেছনেই লেগে থাকে। কেওবা বলে- একদিন না খাইয়ে রাখুন পরের দিন দেখবেন এমনি এমনি খাবার চেয়ে খাবে।

উপরের কথাগুলো একদিকে যেমন সঠিক আবার এর মাঝে ভুলও আছে। একটু পরেই সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।আপনার বাচ্চা খেতে না চাইলে কি করবেন জানতে পড়তে থাকুন।

আসুন জেনে নেই মানুষের ক্ষুধা কেন লাগে

একজন মানুষের খাওয়া আর না খাওয়ার পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রন করে মস্তিস্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা দুইটি অংশ- ফিডিং সেন্টার আর স্যাটাইটি সেন্টার। পেট খালি হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় আর মস্তিস্কের ফিডিং সেন্টার উত্তেজিত হয়ে সিগন্যাল প্রদান করে আর আমরা ক্ষুধাবোধ করি এবং খাবার খাই। আর পেট ভর্তি থাকলে, রক্তে গ্লূকোজের মাত্রা যথেষ্ট থাকলে স্যাটাইটি সেন্টারের উত্তেজনার কারণে সিগন্যাল প্রদান করে এবং আমরা খাওয়া বন্ধ করি। এটা একটা স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এখানে একটা কথা থেকে যায়।

অটোমেটিক নার্ভাস সিস্টেম অন্যকোন নির্দিষ্ট সিগন্যালের কারনে উত্তেজনা তৈরি করে স্যাটাইটি সেন্টার সিগন্যাল প্রদান করতে পারে, সেক্ষেত্রে পেট খালি থাকলেও মস্তিস্কের ফিডিং সেন্টার সিগন্যাল দেবেনা ক্ষুধার। বরং দেখা দেবে উদ্বেগ কিংবা উত্তেজনা। এছাড়া শুধু স্যাটাইটি সেন্টার নয় ক্ষুধার জন্য আরও কিছু নিয়ামক আছে যেমন মনের অবস্থা, পরিবেশ, পরিবার ইত্যাদি।

আপনার বাচ্চা খেতে না চাইলে কি করবেন, জানুন।

ছবি: প্রথম আলো

xosotin chelseathông tin chuyển nhượngcâu lạc bộ bóng đá arsenalbóng đá atalantabundesligacầu thủ haalandUEFAevertonxosofutebol ao vivofutemaxmulticanaisonbethttps://bsport.fithttps://onbet88.ooohttps://i9bet.bizhttps://hi88.ooohttps://okvip.athttps://f8bet.athttps://fb88.cashhttps://vn88.cashhttps://shbet.atbóng đá world cupbóng đá inter milantin juventusbenzemala ligaclb leicester cityMUman citymessi lionelsalahnapolineymarpsgronaldoserie atottenhamvalenciaAS ROMALeverkusenac milanmbappenapolinewcastleaston villaliverpoolfa cupreal madridpremier leagueAjaxbao bong da247EPLbarcelonabournemouthaff cupasean footballbên lề sân cỏbáo bóng đá mớibóng đá cúp thế giớitin bóng đá ViệtUEFAbáo bóng đá việt namHuyền thoại bóng đágiải ngoại hạng anhSeagametap chi bong da the gioitin bong da lutrận đấu hôm nayviệt nam bóng đátin nong bong daBóng đá nữthể thao 7m24h bóng đábóng đá hôm naythe thao ngoai hang anhtin nhanh bóng đáphòng thay đồ bóng đábóng đá phủikèo nhà cái onbetbóng đá lu 2thông tin phòng thay đồthe thao vuaapp đánh lô đềdudoanxosoxổ số giải đặc biệthôm nay xổ sốkèo đẹp hôm nayketquaxosokq xskqxsmnsoi cầu ba miềnsoi cau thong kesxkt hôm naythế giới xổ sốxổ số 24hxo.soxoso3mienxo so ba mienxoso dac bietxosodientoanxổ số dự đoánvé số chiều xổxoso ket quaxosokienthietxoso kq hôm nayxoso ktxổ số megaxổ số mới nhất hôm nayxoso truc tiepxoso ViệtSX3MIENxs dự đoánxs mien bac hom nayxs miên namxsmientrungxsmn thu 7con số may mắn hôm nayKQXS 3 miền Bắc Trung Nam Nhanhdự đoán xổ số 3 miềndò vé sốdu doan xo so hom nayket qua xo xoket qua xo so.vntrúng thưởng xo sokq xoso trực tiếpket qua xskqxs 247số miền nams0x0 mienbacxosobamien hôm naysố đẹp hôm naysố đẹp trực tuyếnnuôi số đẹpxo so hom quaxoso ketquaxstruc tiep hom nayxổ số kiến thiết trực tiếpxổ số kq hôm nayso xo kq trực tuyenkết quả xổ số miền bắc trực tiếpxo so miền namxổ số miền nam trực tiếptrực tiếp xổ số hôm nayket wa xsKQ XOSOxoso onlinexo so truc tiep hom nayxsttso mien bac trong ngàyKQXS3Msố so mien bacdu doan xo so onlinedu doan cau loxổ số kenokqxs vnKQXOSOKQXS hôm naytrực tiếp kết quả xổ số ba miềncap lo dep nhat hom naysoi cầu chuẩn hôm nayso ket qua xo soXem kết quả xổ số nhanh nhấtSX3MIENXSMB chủ nhậtKQXSMNkết quả mở giải trực tuyếnGiờ vàng chốt số OnlineĐánh Đề Con Gìdò số miền namdò vé số hôm nayso mo so debach thủ lô đẹp nhất hôm naycầu đề hôm naykết quả xổ số kiến thiết toàn quốccau dep 88xsmb rong bach kimket qua xs 2023dự đoán xổ số hàng ngàyBạch thủ đề miền BắcSoi Cầu MB thần tàisoi cau vip 247soi cầu tốtsoi cầu miễn phísoi cau mb vipxsmb hom nayxs vietlottxsmn hôm naycầu lô đẹpthống kê lô kép xổ số miền Bắcquay thử xsmnxổ số thần tàiQuay thử XSMTxổ số chiều nayxo so mien nam hom nayweb đánh lô đề trực tuyến uy tínKQXS hôm nayxsmb ngày hôm nayXSMT chủ nhậtxổ số Power 6/55KQXS A trúng roycao thủ chốt sốbảng xổ số đặc biệtsoi cầu 247 vipsoi cầu wap 666Soi cầu miễn phí 888 VIPSoi Cau Chuan MBđộc thủ desố miền bắcthần tài cho sốKết quả xổ số thần tàiXem trực tiếp xổ sốXIN SỐ THẦN TÀI THỔ ĐỊACầu lô số đẹplô đẹp vip 24hsoi cầu miễn phí 888xổ số kiến thiết chiều nayXSMN thứ 7 hàng tuầnKết quả Xổ số Hồ Chí Minhnhà cái xổ số Việt NamXổ Số Đại PhátXổ số mới nhất Hôm Nayso xo mb hom nayxxmb88quay thu mbXo so Minh ChinhXS Minh Ngọc trực tiếp hôm nayXSMN 88XSTDxs than taixổ số UY TIN NHẤTxs vietlott 88SOI CẦU SIÊU CHUẨNSoiCauVietlô đẹp hôm nay vipket qua so xo hom naykqxsmb 30 ngàydự đoán xổ số 3 miềnSoi cầu 3 càng chuẩn xácbạch thủ lônuoi lo chuanbắt lô chuẩn theo ngàykq xo-solô 3 càngnuôi lô đề siêu vipcầu Lô Xiên XSMBđề về bao nhiêuSoi cầu x3xổ số kiến thiết ngày hôm nayquay thử xsmttruc tiep kết quả sxmntrực tiếp miền bắckết quả xổ số chấm vnbảng xs đặc biệt năm 2023soi cau xsmbxổ số hà nội hôm naysxmtxsmt hôm nayxs truc tiep mbketqua xo so onlinekqxs onlinexo số hôm nayXS3MTin xs hôm nayxsmn thu2XSMN hom nayxổ số miền bắc trực tiếp hôm naySO XOxsmbsxmn hôm nay188betlink188 xo sosoi cầu vip 88lô tô việtsoi lô việtXS247xs ba miềnchốt lô đẹp nhất hôm naychốt số xsmbCHƠI LÔ TÔsoi cau mn hom naychốt lô chuẩndu doan sxmtdự đoán xổ số onlinerồng bạch kim chốt 3 càng miễn phí hôm naythống kê lô gan miền bắcdàn đề lôCầu Kèo Đặc Biệtchốt cầu may mắnkết quả xổ số miền bắc hômSoi cầu vàng 777thẻ bài onlinedu doan mn 888soi cầu miền nam vipsoi cầu mt vipdàn de hôm nay7 cao thủ chốt sốsoi cau mien phi 7777 cao thủ chốt số nức tiếng3 càng miền bắcrồng bạch kim 777dàn de bất bạion newsddxsmn188betw88w88789bettf88sin88suvipsunwintf88five8812betsv88vn88Top 10 nhà cái uy tínsky88iwinlucky88nhacaisin88oxbetm88vn88w88789betiwinf8betrio66rio66lucky88oxbetvn88188bet789betMay-88five88one88sin88bk88xbetoxbetMU88188BETSV88RIO66ONBET88188betM88M88SV88Jun-68Jun-88one88iwinv9betw388OXBETw388w388onbetonbetonbetonbet88onbet88onbet88onbet88onbetonbetonbetonbetqh88mu88Nhà cái uy tínpog79vp777vp777vipbetvipbetuk88uk88typhu88typhu88tk88tk88sm66sm66me88me888live8live8livesm66me88win798livesm66me88win79pog79pog79vp777vp777uk88uk88tk88tk88luck8luck8kingbet86kingbet86k188k188hr99hr99123b8xbetvnvipbetsv66zbettaisunwin-vntyphu88vn138vwinvwinvi68ee881xbetrio66zbetvn138i9betvipfi88clubcf68onbet88ee88typhu88onbetonbetkhuyenmai12bet-moblie12betmoblietaimienphi247vi68clupcf68clupvipbeti9betqh88onb123onbefsoi cầunổ hũbắn cáđá gàđá gàgame bàicasinosoi cầuxóc đĩagame bàigiải mã giấc mơbầu cuaslot gamecasinonổ hủdàn đềBắn cácasinodàn đềnổ hũtài xỉuslot gamecasinobắn cáđá gàgame bàithể thaogame bàisoi cầukqsssoi cầucờ tướngbắn cágame bàixóc đĩaAG百家乐AG百家乐AG真人AG真人爱游戏华体会华体会im体育kok体育开云体育开云体育开云体育乐鱼体育乐鱼体育欧宝体育ob体育亚博体育亚博体育亚博体育亚博体育亚博体育亚博体育开云体育开云体育棋牌棋牌沙巴体育买球平台新葡京娱乐开云体育mu88qh88