More
    Home Blog

    সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের পদক্ষেপ

    0
    পথশিশু
    পথশিশু

    পথ থেকে ফেরাতে পথশিশুদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের পদক্ষেপটি প্রশংসনীয়। শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ‘একটি শিশুও রাস্তায় থাকবে না, রাস্তায় ঘুমাবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ রাসেল দিবসকে ঘিরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে দেশের পথশিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, দেশের পথশিশুদের পথ থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়ে আসার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার মতো সুযোগ আছে। বিদ্যালয় সময়ের পর তারা শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হয়। এটি মূলত বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) কাজ।’

    সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের পদক্ষেপ

    দেশের সুবিধা বঞ্চিত অনূর্ধ্ব ১৫ বছর বয়সী শিশুদের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া এবং দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করে।  এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করারও সুযোগ রয়েছে তাদের।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট ঢাকা বিভাগে ৬৫টি, বরিশাল বিভাগে ২৫টি, চট্টগ্রামে ১১টি, সিলেটে ৫টি, রাজশাহী ২২টি, রংপুরে ৪৭টি খুলনা ১৬টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪টিসহ সারাদেশে ২০৫টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হয়।

    শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক মো. আবুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত, হতদারিদ্র শিশুদের লেখাপড়া দক্ষা অর্জন ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে।  সারাদেশে ২০৫টি শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়ের পর ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭৩টি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করানো হয়। আর বাকি ৪৯টি ভাড়া করা পরিত্যক্ত ভবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের পর লেখাপড়া করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পথশিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার কাজ নতুন করেও শুরু করা হচ্ছে।’

    দেশে শিশুদের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু একাডেমি ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ৬৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজ সেবা অধিদফতরের সরকারি শিশু পরিবার বাবা-মা নেই বা বাবা নেই এমন এতিম শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে।

    সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমনি নিবাস বাবা-মায়ের পরিচয়হীন শূন্য থেকে সাত বছর বয়সী পরিত্যক্ত, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের লালনপালন ও সাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়। আর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)  নারী ও শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে।

    দেশের পথশিশুদের চিত্র

    বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ পথশিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে দাবি করা হয়। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারা পথশিশু আর কারা পথশিশু নয় তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত। স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা জানতে হলে প্রথমেই পথশিশুর সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সার্ভে অনুযায়ী ওই সময় ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার এবং ২০১৪ সালে ১১ লাখ ৪৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ১৬ লাখ হবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়ে থাকে বর্তমানে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই সাড়ে ৪ লাখ পথশিশু আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    সরকারি-বেসরকারি পথশিশু কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য একটি ক্রস সেক্টর বডি থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শিশু বাজেট যথাযথভাবে ব্যয়ের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

    বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার

    বর্তমান সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ‘পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশুসদন প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা উন্নত ও প্রসারিত করা হবে।

    ‘একটি শিশুও রাস্তায় থাকবে না, রাস্তায় ঘুমাবে না’-  প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে হবে বলেও পরিকল্পনায় উল্লেখ আছে।

    তথ্যসুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

    ছবিঃ ইন্টারনেট।

    পরীক্ষার বোঝা নয়, শিশুরা বেড়ে উঠুক আনন্দময় শিক্ষায়

    0

    ১৭৮৯ সালে ইংরেজ কবি উইলিয়ম ব্লেক ‘দা স্কুল বয়’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। স্কুল পড়ুয়া বালকটি স্কুলের দমবন্ধ পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের কঠোর এবং আনন্দহীন শিক্ষাদানে সে অসুখী বোধ করেছে। বরং সে স্কুলের বাইরে গ্রীষ্মকালীন সকালে প্রতিটি গাছে পাখির গান উপভোগ করতে চেয়েছে। সে তার বাবা-মাকে স্কুলের ওই গোলামি থেকে উদ্ধার করতে মিনতি জানিয়েছে। ২০২১ সালের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আজও আমরা ব্লেকের কবিতায় উল্লেখিত সেই বালকটির করুণ মিনতির প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। বালকটি মূলত আমাদের শিশুদের প্রতীকী রূপ। শিক্ষা লাভ করা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার এবং এই শিক্ষা অবশ্যই আনন্দের ভেতর দিয়ে হতে হবে। আর সেই আনন্দের অন্তর্তলে থাকবে আকর্ষণও। শিক্ষার্থীর মনে স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে হবে যে স্বপ্ন সে ঘুমিয়ে দেখবে না। বাস্তবে সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা লাভের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শুরু হয় ক্লাস ওয়ান অথবা স্টান্ডার্ড ওয়ান থেকে। এই ক্লাসে ভর্তির আগেই শিশুদের পড়াশোনা করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যেতে হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি-খেলার মধ্যে দিয়েই লেখাপড়া করবে। তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না। পড়ালেখা শিখতেই-তো সে স্কুলে যাবে’।

    প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিষয়টি অনুপস্থিত ছিল বটে তবে সেখানে পরীক্ষা ভীতি ছিল না। ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিশুদের রূপকথাময় শৈশবকে পুরোপুরি গলা টিপে হত্যা করা হলো। মূল বইয়ের পাশাপাশি তাদের পড়ার টেবিলে গাইড বইয়ের সমারোহ দেখা গেল। মায়েরা সন্তানদের নিয়ে কোচিং সেন্টারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেন। দশ বছরের একটি শিশু বোর্ডের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে- এ বিষয়টি পরিবার ও শিশুর জন্য কতটা চাপ সৃষ্টি করছে- তা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কেউ-ই বিবেচনায় নিলেন না। শুধু ক্লাস ফাইভে নয় ক্লাস এইটেও ২০১০ সাল থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলো। ফলে শিশুরা পরীক্ষা ভীতির ভেতর দিয়েই বেড়ে উঠল। নির্ভার এবং আনন্দময় একটি শৈশব কাটানো যে শিশুর জন্মগত অধিকার তা দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়া হয়েছে।

    কোনো কিছুই আর শিশুর জীবনে তার হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দেবে না। মুখস্থ নির্ভর লেখাপড়ার ইতি টানার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে মাধ্যমিকে এবং ২০১২ সাল থেকে প্রাথমিকে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বলা হয়েছিল এই পদ্ধতির অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান এবং দক্ষতায় অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বাস্তবে দেখা গেছে তেমন কিছু ঘটেনি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা এই পদ্ধতি ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। তবে পুস্তক ব্যবসায়ীরা খুব ভালো ব্যবসা করেছেন। কোচিং সেন্টারও ছিল রমরমা।

    এ সব নানা দোলাচলের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া হবে আনন্দময় পরিবেশে। মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনা সেখানে থাকছে না।

    বিষয় ও পাঠ্যপুস্তকের চাপ ও বোঝা কমানোর কথা বলা হয়েছে। সনদের জন্য নয় বরং জ্ঞান এবং দক্ষতায় পারদর্শী হতে শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত হতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার চেয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা রাখা হয়নি। এসব শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা হবে শিখন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মূল্যায়নের পাশাপাশি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় দশ ধরনের শেখার ক্ষেত্র নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ভাষা ও যোগাযোগ, জীবন ও জীবিকা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি।

    ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাষা। এই ভাষাগত দক্ষতা আমাদের শিক্ষার্থীরা কতটা অর্জন করছে সেটি নিয়ে অনেক কথা নানা দৃষ্টিকোণ থেকেই বলা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করে যখন তারা চাকরির জন্য আবেদন করে তখনই বোঝা যায় তাদের ভাষাগত পারদর্শিতা কতটা! আবার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে পড়ার পরেও ইংরেজি লেখা এবং বলার দক্ষতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অর্জন করতে পারে না। এ কারণেই ভাষা ও যোগযোগ বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ১০টি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: জীবন ও জীবিকা। হার্বাট স্পেনসারের মতে, ‘শিক্ষার কাজ হল মানুষকে জীবন ও জীবিকার উপযোগী করে তোলা’। মানুষকে জীবিকার উপযোগী করে তোলা অনেকটাই সহজ বলে মনে হয়, তবে জীবনের উপযোগী করে তোলা খুব সহজ কাজ নয়।

    জীবন কী? জীবনের সঙ্গে পৃথিবীর সবকিছুই জড়িয়ে রয়েছে। শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে জীবন ঘনিষ্ঠ সকল কিছুর সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে যুক্ত করে দেওয়া যেন সে আদর্শ নাগরিক হতে পারে। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল-কথাটি আমরা শিশুকাল থেকেই শুনছি। অথচ কে না জানে আমাদের দেশে নানা অছিলায় শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে অবহেলিত। মানসিক স্বাস্থ্যের কথা আমাদের মতো দেশে বলতে গেলে ভাবাই হয় না। যে কোনো কাজের পূর্বশর্ত সুস্থ থাকা। শিক্ষার্থীরা যদি শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ না থাকে তবে তারা লেখাপড়া শিখবে কীভাবে? বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় পরিবার, বিদ্যালয় এবং খেলার মাঠের পরিবেশ এবং শিক্ষকের কাছ থেকেই শিখবে। শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন না করলে শিক্ষার্থীরা ভাষা, জাতি, দেশ এবং বিশ্বকে পুরোপুরি নিজের ভেতরে ধারণ করতে পারবে না।

    পরিবারের বাইরে শিক্ষার্থী প্রথম সমাজীকরণের মুখোমুখি হয় বিদ্যালয়ে। শিক্ষকের ভূমিকাই সেখানে মুখ্য। শিক্ষককে হতে হবে দয়ালু, যত্নবান ও শিক্ষার্থী-বান্ধব। সর্বোপরি অপরিসীম ভালোবাসা নিশ্চিতভাবেই শিক্ষকের থাকতে হবে শিক্ষার্থীর প্রতি। শিক্ষক যে বিষয়ে পড়াবেন সে বিষয়ে অবশ্যই তার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকের নিজের জীবন হতে হবে নির্ভার ও আনন্দপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মেধাবী এবং তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আসতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের আর্থিক সচ্ছলতা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। এ বিষয়ে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।

    নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নকে পরীক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে-এটি অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করবে-এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে এই শিক্ষাক্রম যে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিকতা নিয়ে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা এবং বিশ্বস্ততার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে সরকারকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আস্থা এবং বস্তুনিষ্ঠার জায়গাটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের যে বিষয়েই শিক্ষার্থীর শিখন প্রক্রিয়া চলুক না কেন তা সম্পন্ন হতে হবে আনন্দের ভেতর দিয়ে। সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীকে কৌতূহলী, সৃজনশীল এবং তার বুদ্ধিমত্তার সঠিক বিকাশ ঘটাতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

    ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও সরকার ঘোষিত নতুন শিক্ষাক্রমকে মহৎ উদ্যোগ বলতেই হয়। তবে এই শিক্ষাক্রমকে সফলতার দরজায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ প্রয়োজন তা কী সরকারের নাগালের মধ্যে রয়েছে? পাঠ্যবই তৈরি করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা-সেটি যথাযথ উদ্যোগ। তবে এত কম সময়ে কী মানসম্পন্ন, যুগোপযোগী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠ্যবই রচনা করা সম্ভব? বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অন্যটি হচ্ছে-শিক্ষক। মানসম্পন্ন শিক্ষক ছাড়া কোনোভাবেই এই শিক্ষাক্রম ফলপ্রসূ হবে না। আসলে পুরো বিষয়টিই চ্যালেঞ্জিং।

    সৈয়দা আইরিন জামান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

    সুত্রঃ প্রথম আলো

    আমি বড় হতে চাই

    রাশিদুল রাজ

    ইদানীং খুব বেশি বেশি সপ্ন দেখতেছি

    অকল্পনীয় কোনো কিছু হাতে পাওয়ার,

    অনেক বড় হওয়ার তীব্র ইচ্ছে

    প্রতিনিয়ত আমার ব্রেইন কাপায়।

    আমি যে বড় হতে চাই।

    যদিও খুবই ক্ষুদ্র আমি,নিশ্চুপ ছোট আমি

    তবুও যে অনেক বড় হতে চাই

    এত্তো বড় যে আশপাশ অবাক হয়ে তাকিয়ে রবে

    যেনো প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধ কোন কাজ

    আমি যে বড় হতে চাই।

    ঘুমহীন রাত্রিতে হঠাৎ সপ্ন দেখি

    কিংবা ঘুমন্ত রাত্রে সপ্ন আমার ঘুম ভেঙ্গে দেয়,

    উঠে বসি কিছুক্ষণ,

    ভাবি এতো ঘুমোলে কি সপ্ন দেখা যায়?

    আমি যে বড় হতে চাই,কত যে কাজ বাকী!

    ইচ্চেঘুড়িরা উড়ে বেড়ায়

    ডালপালা যুক্ত গাছেরা নিশ্চুপ হয়ে যায়

    পাহার পর্বতেরা তাদের কম্পন থামিয়ে দেয়।

    জলন্ত তারাগুলোও যেনো নির্জীব হয়ে যায়

    আমার স্বপ্ন পুরন দেখার তাদেরও যে খুবই ইচ্ছে।

    চারিদিকে কতশত বাঁধা

    সপ্নপুরনের চেয়ে সপ্ন ভাঙ্গারই খেলা সব

    কেউ যাহা চায়,তাহা নাহি পায়

    কিংবা তার চেয়ে বেশি পেয়েও সে তাহা দেখে না।

    তারপরেও আমি আমার বিশুদ্ধ সপ্ন দেখে যাই

    রঙ্গিন সপ্নে আমিও যে বড় হতে চাই।

    কবি-রাশিদুল রাজ
    শিক্ষার্থী ,সরকারি তিতুমীর কলেজ

    শৈশব স্মৃতি

    6
    শৈশব স্মৃতি

    লেখকঃ মো নাফিজ বিন জামাল 


    পুকুরের জলে ঢিল ছুঁড়ে দেখেছেন কখনও? অনেক দূর পর্যন্ত গোল ঢেউগুলো ছড়িয়ে যায়! আমাদের মনের মধ্যে যে নির্জন দুপুরের শান্ত পুকুরটা আছে, কখনও সেখানে ঢিল ছুঁড়ে দেখবেন, আপনি নিজে ভাবতেও পারবেন না, অজান্তেই সেখানে এসে যেতে পারে তোলপাড় করা সুনামির ছোট-মেজ-সেজ অথবা বড় ঢেউ! পুরাণের গল্পে সমুদ্র-মন্থন হয়েছে যখন, মন-মন্থনেই বা দোষ কি! ক্ষতি তো বিশেষ কিছু হবে না, ম্যাক্সিমাম গরলামৃতের স্যান্ডউইচে আপনি কিছুক্ষণ নাস্তানাবুদ হবেন! রংচটা-ফিকে-বিবর্ণ কিছু স্মৃতি এসে পড়বে সামনে । পুরনো সেই দিনের কথা ভেবে একটু হাসবেন, হয়তো বা একটা দীর্ঘশ্বাস! মনের কোণের আলমারিতে রেখে দেওয়া, ধুলো পড়া অ্যালবাম থেকে কিছু ছবি ছড়িয়ে যাবে চারদিকে!এত ভণিতার কারণ, আমি নিজে আসলে বেশ নাস্তানাবুদ হলাম এরকমই একটা ছোট-খাটো সুনামির ধাক্কায়, অবশ্যই মনের মধ্যে । সুনামিটা এল কেন, সেটা না হয় শেষে বলব আপনাদের । তার আগে বরং মনের ভিতরে রাখা পুরনো অ্যালবামের যে ছবিগুলো ছত্রাকার হয়ে গেল সেগুলো একটু গুছিয়ে নিই ।


    সে অনেকদিন আগের কথা….তখন electricity চলে গেলে জেনারেটর ছাড়া হতো না সহজে।অন্ধকারের সাথে ছুটে আসতো জোনাকির দল। বিল্ডিং এর বাচ্চা কাচ্চারা নেমে পড়তো রাস্তায় জোনাকিপোকা ধরার জন্য। রাতে আকাশে চাঁদ উঠতো। চাদের আলোয় আমরা সেই জোনাকিপোকার পেছনে ছুটতাম। বিল্ডিং জুড়ে আড্ডার আসর বসতো,কোনো আংকেল হঠাৎ হয়তো  হেড়ে গলায় গান ধরতো।  ২০০২ এর  world cup এর সময় বাসায় টিভি কেনা হলো। বিটিভিতে খেলা দেখার জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতাম আমি আর আব্বু। টিভিতে একটু সমস্যা হলে antenna নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যেতো।পরিবারের সবাই মিলে তখন শুক্রবারে তখন বাংলা সিনেমা দেখতাম।অনেকদিন হলো সেই family মুভি show তে আর নায়ক নায়িকারা ডিসুমডাসুম করে না।স্কুল থেকে ফেরার সময় ছাতা গলিয়ে বৃষ্টি তে ভেজা হয়না আর।


    আমি বড় হয়েছি সিলেট ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসে।তখন শুক্রবারে কলেজে হাড়িপাতিল আর পাপড় নিয়ে ফেরিওয়ালা আসতো। খা খা দুপুরে আকাশে চিল উড়ে বেড়াতো। আম্মু ঘুমিয়ে পড়লে আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতাম চিল দেখার জন্য। কখনো বা আব্বুর ড্রয়ার থেকে লুকিয়ে দুই টাকা দিয়ে ফেরিওয়ালার সেই পাপড় কিনতাম।ঈদ গুলোতে সালামি পাইতাম ১০ টাকা,সেই ১০ টাকার আনন্দ এখন ১০০০ টাকার সালামি তেও পাওয়া যায় না।
    স্কুল লাইফে যে আমাদের একটা gang ছিলো। তার মধ্যে আমি আর Sakin Hossain শুধু কথা বলার জন্য ধরা খাইতাম  Sir দের কাছে। Wahid Hasan Chowdhuryখালি Shirt এর পেছনে দাগ দিয়ে দেওয়ায় ওস্তাদ ছিলো । Nigar Sultana Anika আর আমি খালি ঝগড়া করতাম।ব্লাকবোর্ডের  চক ছোড়াছুড়ি দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি । স্কুলের পেছনে একটা বধ্যভূমি ছিলো। ওইটা ছিলো আমাদের কৌতুহলের প্রধান উৎস। কতো ভুতের কাহিনি শুনতাম ঐ জায়গার।আজও হয়তো সেই ভুতগুলো আমাদের মতো অনেকের আড্ডার আসরকে তাড়া করে ফেরে। বৃত্তি পরীক্ষায় কে কার চেয়ে ভালো বইটা প্রাইজ পেয়েছে এটা নিয়েও  অনেক স্মৃতি আছে ঐ শ্ব র্য  তা হয়তো আরও ভালো বলতে পারবি । 


    সন্ধ্যার আজান হলেই ঘরে ফেরার টাইম হয়ে যেতো, কারন সন্ধ্যার সময় ঘরের বাইরে থাকা বারন ছিলো। আমি প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বারান্দার আকাশে সন্ধ্যাতারা দেখতাম অনেক্ষন। ভুতুড়ে রাতের নির্বাক নেমে আসা উপলব্ধি করতাম।আমাদের বিল্ডিং এর পেছনে বড় একটা গাছ ছিলো, প্রতিদিন সেই গাছটায় একজোড়া মাছরাঙা পাখি এসে বসতো আর ওদের দেখার জন্য আমিও  সকালবেলা  বারান্দায় পড়তে বসতাম । ওরা কখনো না আসলে আমার মনটা  ও অনেক খারাপ হয়ে যেতো আসলে তখন মন খারাপের কারণ গুলাও ছিল অদ্ভুত। আজও শীত আসে। কিন্তু শীতের সকাল গুলোর নির্মল শুভ্র স্নিগ্ধতা, ভোরবেলার জমে থাকা শিশির গুলো স্কুল থেকে ফেরার পথে যেভাবে ছুয়ে ছুয়ে দেখতাম এখন আর কিছুই এভাবে উপলব্ধি করা হয়না।হয়তো বড্ড যান্ত্রিক হয়ে গেছি আমরা।সময়ের প্রয়োজনে সবাইকে বদলে যেতে হয়।আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। 


    রবিন্দ্রনাথ এর একটা কথা খুব মিলে যায় আমার এই লেখাটার সাথে – “তখন খুব একটা কিছু লাগে নাই।কিন্তু জীবনের এহেন অবস্থায় উপনীত হইবার পর বোধ হইতেছে যাহা ছাড়িয়া আসিয়াছি তাহাই উত্তম ছিল।নির্ভেজাল । দুশ্চিন্তার বালাই নাই। তবে” অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার ধরিয়া রাখার মতন বিরম্বনা আর নাই” – আসলেও সত্য।

    লেখকঃ মো নাফিজ বিন জামাল

    এক্স ক্যাডেট, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ

    আঁধার ঘনিয়ে আসে

    3
    আঁধার ঘনিয়ে আসে

    লেখকঃ অনিক আরণ্যক

    গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলার সময় আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম – গাছগুলো সব কোথায়!

    চারিদিকে ঝোপঝাড়, এলোমেলো গাছগাছালি, তার ঠিক মাঝখানটায় একেবারে ফাঁকা! এখানে যে সব বড়বড় অশুথ, হিজল আর শিল গাছ গুলো ছিল, সব শুদ্ধ হাওয়া।কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোও কেটে নেয়া হয়েছে।এত স্বর্গীয় রক্তিম গাছ কেউ কাটতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না।সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের কি কোনো দায়ভার নেই? পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর সবকিছুই মানুষ নামক প্রাণীরা ধ্বংস করে দিচ্ছে একে একে।বিস্তীর্ন তৃণভূমিকে বানানো হয়েছে লোকালয়, কলকারখানা।খাল-নদী ভরাট করে চলছে দখলদারী।বিষাক্ত কার্বনে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে আবহাওয়া।বেহেশতের মত সুন্দর এই ধরনীকে নরকে করা হচ্ছে পরিণত।বিনিময়ে কী পাচ্ছি? কাড়ি  কাড়ি টাকা, আকাশচুম্বি দালানকোঠা,সভ্যতা? শিল্প-বিপ্লব আর পূঁজিবাদের আড়ালে আমরা কখন যে পৃথিবীকে ধ্বংস করে চলেছি নিজেরাও জানি না।আসলে জানি, কিন্তু ক্ষনিকের লাভের আশায় না জানার ভান করে থাকি।অথচ মাতৃতুল্য পৃথিবী নষ্ট হলে আমরাও যে বাচবোনা, আমাদের প্রজন্ম যে থাকবে না, এটা কেউ ভাবতে চাইছে না।

    বিষন্ন মনে জঙ্গলের  গাছগাছালিহীন শুন্যতার দিকে তাকিয়ে আছি।এই শুন্যতা মানুষের অদূর ভবিষ্যতের শুন্যতার কথা ভাবায়।যেনো বলতে চাইছে- এখন না শুধরালে এক সময় আমার মতই মানুষের পরিণতি হবে।

    জঙ্গলের এই ফাঁকা অংশে সবচেয়ে বেশি কাঠ দেয়া গাছগুলো ছিল।মেহগনি, শিল কড়ই, হিজল, অশুথ আরও নাম না জানা গাছ।তার মধ্যে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো ছিল আমারই হাতে লাগানো।তখন আমার বয়স সাড়ে চার কী পাঁচ হবে।একদিন সকালে লোকজনের হৈ হল্লায় ঘুম থেকে উঠে গেলাম।বাবার হাত ধরে উঠোন পেরিয়ে খোলা রাস্তায় এসেই দেখি জঙ্গলের গভীর থেকে কালো ধোয়া কুন্ডলী পাকিয়ে আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে! আমাদের গ্রামের উত্তর দিকে চাষাবাদের জমি আর দক্ষিণে এই ঘন জঙ্গল।যেটা আমাদের পাড়ার একদমে ঠিক পেছনেই।জঙ্গলের শেষমাথায় অর্থাৎ সর্ব দক্ষিণে রয়েছে নদী। যে নদীটা আরো পাঁচগ্রাম পেরিয়ে সাগরে গিয়ে মিশেছে।

    গ্রামবাসীরা শুকনো পাতা আর মরা কাঠ সংগ্রহে যেত এই জঙ্গলে।তাদেরই কারো অসতর্কতায় হয়ত জঙ্গলে আগুন লেগে থাকবে।গ্রামবাসীর শত চেষ্টায়ও সে আগুন নেভানো সম্ভব হয় নি।হতাশ গ্রামবাসী দেখলো জঙ্গলের করুণ দশা।আমাদের প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।পুরো একদিন অগ্নি তার তান্ডব লীলা চালালো।সকলে বলাবলি করছিল- “এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রক্ষাকারী এ বন ধ্বংস হয়ে যাবে।“

    ঐ সময় অবুঝ বাচ্চা হিসেবে আমি জানতাম না জঙ্গল আমাদের ঠিক কীভাবে রক্ষা করে! আমার ধারণা ছিল জঙ্গলে শুধু ভূত থাকে!

    সেদিন রাতে এক অবাক করা ঘটনা ঘটল।হঠাৎ করেই মেঘের গর্জন দিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল।এত ভারি বর্ষন গ্রামবাসী বিগত বছরগুলোয় কখনো দেখেনি।যেন ঈশ্বর গ্রামবাসীর আর্তনাদ শুনেছেন। সেই বৃষ্টিতেই আগুন ধীরে ধীরে নিভে গেল।রক্ষা পেল বন।

    সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলে বাবার উদ্যোগে গ্রামবাসীরা মিলে জঙ্গলের সে পোড়া অংশ সাফ-সাফাই করলেন।মাটি পরিস্কার করলেন, তারপর সকলে মিলে শাল, কড়ই অশুথ, হিজল আরো নাম না জানা গাছের চারা লাগালেন।সেই সময়ই বাবা আমার হাতে তুলে দিলেন কিছু কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা।আমি বাবার পাশে থেকে চারা গুলো লাগালাম।সেদিন বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম-‘আচ্ছা বাব জঙ্গল আমাদের কিভাবে রক্ষা করে?‘

    বাবা চারা গাছ লাগাতে লাগাতে আমাকে বোঝাতে লাগলেন।আমি সেদিন জানতে পারলাম আমাদের বেচে থাকার জন্য গাছ কতোটা জরুরি।জানতে পারলাম গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন পাই, জ্বালানী কাঠ পাই, খাদ্য পাই।বুঝতে পারলাম এ জঙ্গল আমাদের জলোচ্ছাস আর নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে চলেছে যুগের পর যুগ! সবচেয়ে জরুরি কথা এ জঙ্গল আমাদের গ্রামকে বছরের পর বছর সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করে চলেছে!

    জঙ্গল যে আমাদের ঝড়ের হাত থেকে বাঁচায় তা আমি প্রত্যক্ষ করলাম ২০০৭ সালে “সিডর“এর সময়।তখন আমার কৈশর বয়স।ঘূর্ণিঝড় সিডরে আমাদের পাশের গ্রামগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এই জঙ্গলের কারনে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি খুবই সামান্য হয়।তখন থেকেই এ জঙ্গলের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালোবাসা গভীর হল।আমি বুঝতে পারলাম আমাদের জীবনের একটা অংশ জুড়ে আছে এ জঙ্গল।

    তার কিছু মাস পর আমাকে শিক্ষার জন্য শহরে পাড়ি জমাতে হয়।সবুজের সাথে শহরের কোনো লেনাদেনা নেই।হঠাৎ করেই যেনো স্বর্গ থেকে নরকে চলে এলাম।জীবণ সংগ্রামের জন্য মানুষকে কত কিছুই না করতে হয়! শিক্ষা শেষ করে একটা কোম্পানিতে চাকরী শুরু করি আর অর্থ জমাতে থাকি, আমার শৈশব-কৈশর কাটানো গ্রামের জন্য কিছু করার প্রয়াস থেকে।

    দীর্ঘ তেরো বছর পর আজ আবার সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে গ্রামে ফিরে এলাম।

    কিন্তু একি! গ্রাম কোথায়! এ যেনো ইট পাথররে স্তুপে চাপা পড়া গলিত লাশ! দোতলা, তিন তলা বাড়ি।পাকা রাস্তা-ঘাট।নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে একের পর এক ইটের ভাটা।আর জঙ্গলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স-মিল গুলো।সেখানে বড়বড় গাছের গুড়িগুলোকে নির্মমভাবে কেটে কেটে ফালি ফালি করা হচ্ছে।কোথায় আমার সবুজ গ্রাম? এ যেনো কাঠ আর ইটের পাতালপুরী।পুঁজিবাদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে আমার সবুজ গ্রামও রেহাই পায় নি।

    গ্রামের এ বেহাল দশা আমি সইতে পারলাম না।আনমনেই জঙ্গলের দিকে ছুট লাগালাম।মনে হল একাকী জঙ্গলের সবুজে মিশে মৃতপ্রায় গ্রামের জন্য একটু আর্তনাদ করে উঠি, পুরোনো গ্রামের জন্য কাঁদি।ঝোপঝাড় আর বাঁশবন পেরিয়ে আসতেই আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম- গাছগুলো সব কোথায়?

    আমার শৈশব কৈশরের মত চিরসবুজ গাছগুলোও আর নেই।শুধু পড়ে রয়েছে শূন্যতা! সেই শূন্যতার দিকে ছলছল চোখে দাড়িয়ে রইলাম।সূর্য ডুবি ডুবি করছে।

    নীড়ে ফিরে যাওয়ার মত কোথাও কোনো পাখি নেই।দূরে কোথাও শেযালের কান্না শোনা যাচ্ছে।যেন অভিশাপ দিচ্ছে মানুষ নামক দানব গুলোকে।ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিক।মানুষের ভবিষ্যতের মতেই অন্ধকার।

                                                       

    রুমকির বাল্যবিবাহ আমরা বন্ধ করে দিয়েছি,ও আবার স্কুলে যাচ্ছে

    0

    আমার সব থেকে প্রিয় বান্ধবীর নাম রুমকি।আমরা একসাথে স্কুলে যেতাম একসাথে স্কুল থেকে ফিরতাম এমনকি একসাথে মরতেও যেন রাজি ছিলাম আমরা।লোকে বলতো আমরা দুজন জমজ বোন হলে ভালো হতো।আমাদেরও খুব ভালো লাগতো।আমরা যখন একটুখানি বড় হলাম তখন দুজনে দুষ্টুমীর ছলে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা যখন বিয়ে করবো তখন একই পরিবারের দুই ভাইকে বিয়ে করবো যেন আমরা তখনো একসাথে থাকতে পারি।মানুষের সব স্বপ্ন পুরণ হয়না যেমন আমাদের স্বপ্নগুলো হঠাৎ করে ভেঙ্গে গেল।এক সকালে রুমকি আর স্কুলে এলোনা।আমি ভাবলাম ওর মনে হয় জ্বর হয়েছে তাই স্কুলে আসেনি।ওর আবার এই এক সমস্যা ছিল একটুতে একটু রোদ বৃষ্টিতে থাকলেই জ্বর বাধিয়ে বসতো।ভাবলাম পরদিন নিশ্চই জ্বর সেরে যাবে আর ও স্কুলে আসবে।কিন্তু পরদিনও ও স্কুলে আসলো না।ওদের বাড়ি ছিল অন্য একটা গ্রামে।আমরা যখন হেটে হেটে স্কুলে যেতাম তখন একটা তিন রাস্তার মোড়ে দুজন একসাথে হতাম।বন্ধের দিনগুলিতে ও আমাদের বাড়িতে আসতো নয়তো আমি ওদের বাড়িতে যেতাম।সব্বাই আমাদেরকে চিনতো জানতো।পরপর চার পাচদিন হয়ে গেল রুমকি আর স্কুলে এলো না।আমি খুব অবাক হলাম।ওর অসুখ হলেতো আমাকে জানাতে পারতো আমি গিয়ে দেখে আসতাম।

    স্বর্ণকিশোরী সারা

    রুমকি একাই ওদের গ্রাম থেকে আমাদের স্কুলে পড়তে আসতো।গ্রামের পাশেই আরেকটা স্কুল থাকার পরও ও আমাদের স্কুলে আসতো কারণ আমাদের স্কুলটা ছিল খুব ভালোমানের।আমরা লেখাপড়ায় যেমন অন্যদের চেয়ে ভালো ছিলাম তেমনি কালচারালা ফাংশানগুলোতেও আমাদের খুব নাম ছিল।রুমকি খুব ভালো গান করতে পারতো কিন্তু সুযোগ সুবিধার অভাবে ওর সুন্দর গলার গান থেকে বঞ্চিত হলো সারা দেশ।বাবা মার অভাবের সংসারে রুমকি যে স্কুলে আসতে পারছে এটাই যেন রুমকির জীবনের সব থেকে বড় অর্জন ছিল।এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে কিছুদিন পর।আমরা এসএসসি দিবো।ক্লাসে রুমকির অবস্থান বেশ ভালোই।তিন থেকে পাচের মধ্যেই থাকে ও।স্কুলের শিক্ষকেরা ওকে নিয়ে আশাবাদী ও নিশ্চই স্কুলের সুনাম বাড়াবে।কিন্তু হঠাৎ সব ওলোটপালট হয়ে গেল রুমকি আর স্কুলে এলো না।একদিন দুদিন করে করে যখন প্রায় পনেরদিন হতে চললো তখন আমার আর সহ্য হলোনা।সব থেকে প্রিয় বান্ধবীকে ছাড়া আমিও যে স্কুলে ক্লাসে মন বসাতে পারছিলাম না।সেদিন সারাকে নিয়ে আমি রওনা হলাম রুমকিদের বাড়িতে।আমাকে জানতেই হবে রুমকি কেন স্কুলে আসে না।বাবা মা আর ভাইয়াকে বলে গেলাম রুমকির কথা।ওর স্কুলে না আসার কারণ কি হতে পারে সেটা ভাইয়া অনুমান করলো যা শুনে আমি চমকে উঠলাম।ভাইয়া বললো ওর বিয়ে হয়ে যেতে পারে!

    স্বর্ণকিশোরী ফারিহা ইসলাম তিফলা ও তার বন্ধুরা

    এবার যে মেয়েটি এসএসসি পরীক্ষা দিবে তার কি বিয়ের বয়স হয়েছে?আমাদের দেশে না বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? আমাদের দেশেনা মানবাধিকার কমিশন আছে,ইউনিসেফ,সেভ দ্য চিলড্রেন আরো কত কত প্রতিষ্ঠান আছে শিশু কিশোর কিশোরীদের নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের জন্য?তারাকি তবে রুমকির বিয়েটা রুখে দিতে পারেনা?আমি মনে মনে ভাবি ভাইয়া যেটা বলেছে সেটা যেন না হয়।রুমকি অসুস্থ হলেও মনকে শান্তনা দিতে পারবো কিন্তু ওর যদি সত্যি সত্যিই বিয়ে হয়ে যায় তাহলে কি করবো?ভাবতে ভাবতে সারাকে কথাটা বললাম।সারাও শুনে মনখারাপ করলো আর পথে যেতে যেতে পরিকল্পনা করলো যদি গিয়ে দেখা যায় রুমকির বিয়ে হয়ে গেছে তাহলেতো কিছু করার থাকবে না আর যদি জানা যায় ওর বিয়ে হয়নি শুধু বিয়ে ঠিক হয়েছে তাহলে কি কি করতে হবে।সারা স্বর্ণকিশোরী।ওর কথাগুলো শুনে বেশ সাহস পেলাম।ওরা বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করে।স্বর্ণকিশোরীরা সব সময় কিশোরীদের নানা অধিকার নিয়ে সোচ্চার।গিয়ে দেখা গেল সত্যিই ভাইয়া যা বলেছিল ঠিক তাই হয়েছে।আমার বান্ধবী রুমকির বিয়ে ঠিক হয়েছে আর সে জন্যই ওর বাবা মা ওকে স্কুলে যেতে দেয়নি।আজ বাদে কাল বিয়ে।আমরা ওর বান্ধবী বলে ওর বাবা মা তেমন কিছু বলেনি বরং ওর সাথে দেখা করতে দিয়েছে তবে অন্য কেউ নাকি ওর সাথে এ কয়দিন দেখা করা বা কথা বলার সুযোগ পায়নি।

    শোলার বেড়া দেওয়া ঘরের একটা খাটের উপর লাল শাড়ী পরে বসে ছিল আমার বান্ধবী রুমকি।রুমকিকে পুতুলে মত ছোট্টটি মনে হচ্ছিল।আমাদেরকে দেখে সে হাউমাউ করে কেদে ফেললো।ওর কান্না দেখে আমিও কেদে ফেললাম।শুধু কাদলোনা সারা।স্বর্ণকিশোরী সারা কঠোর মনে  দমে গেল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য।তার পর রুমকির সাথে কথা হলো কবে বিয়ে ছেলে কে বয়স কত কি করে নানা বিষয়ে।ছেলের বয়স ৪২ বছর। আগের স্ত্রী মারা যাওয়ায় নতুন করে বিয়ে করছে।আর আমাদের রুমকির বয়স সবে মাত্র ১৫ বছর।আমি রুমকিকে শান্তনা দিতে পারিনি।যা বলার সারা বলেছে।তার পর আমরা আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি সারা আমাকে নিয়ে বেরিয়ে গেছে।আমি যখন কোন কিছুই ভাবতে পারছিনা তখন সারা বললো চল কাজ আছে এখানে বসে থেকে কিছু করা যাবে না।আমি তখনো জানতাম না সারা ঠিক কি কাজের কথা বলছে।আমাকে নিয়ে ও সোজা ফারিহার সাথে দেখা করতে গেল।ফারিহা ইসলাম তিফলা আরেকজন স্বর্ণকিশোরী।বাল্যবিবাহ রোধ কল্পে সে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।তিফলা সব কিছু শুনে সাথে সাথে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলো এবং উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুনতাসির সিয়াম সাহেবকে অবহিত করলো।তিনি সাথে সাথে পুলিশকে নির্দেশ দিলেন এই বিয়েটা বন্ধ করতেই হবে।

    তার পর পুলিশের জীপে করে স্বর্ণকিশোরী সারা আর স্বর্ণকিশোরী ফারিহা ইসলাম তিফলার সাথে আমিও রওনা হলাম রুমকিদের বাড়িতে।পুলিশ সহ আমরা যখন রুমকির বাড়িতে পৌছালাম তখন বরপক্ষ চলে এসেছে।ম্যাজিষ্ট্রেট গিয়ে সেই বিয়েটা বন্ধ করলো।তিফলা তখন পরিবারের সবাইকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বললো এবং সচেতন করলো।তখন সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারলো।সব থেকে বেশি খুশি হলো আমার বান্ধবী রুমকি।সে তিফলাকে জড়িয়ে ধরে বললো আপু তুমি না থাকলে আমার যে কি হতো। আমার সব স্বপ্ন অপুরণীয় থেকে যেতো।তিফলা ওকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো আমার চেয়ে তোমার বান্ধবীরাই বেশি করেছে।ওরা যদি আমাকে না জানাতো তাহলে আমিওতো কিছু করতে পারতাম না।এর পর রুমকি পড়াশোনায় মন দিলো।আর কদিন বাদেই আমাদের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে।আমরা জানি রুমকি সেরা হবে।সেদিন যদি রুমকির বিয়ে হয়ে যেত তাহলে একটি বাল্যবিবাহের কবলে পড়ে রুমকি নামের মেয়েটিকে আমরা হারিয়ে ফেলতাম।

    লেখকঃ সুমাইয়া মিফরা

    এটি একটি কল্পিত গল্প হলেও এমনই অসংখ্য বাল্যবিবাহের কবলে পড়ে কত কিশোরীর জীবন নষ্ট হচ্ছে তার কোন হিসেব আমাদের হাতে নেই।আর স্বর্ণকিশোরীরা সত্যি সত্যিই প্রতিনিয়ত দেশের নানা প্রান্তে বাল্যবিবাহ রোধ করছে ঠেকিয়ে দিচ্ছে।এমনকি শারমিনতো নিজেই নিজের বিয়েটা ভেঙ্গে দিয়েছিল।

    বাল্যবিবাহ রোধ করি ,
    কৌশর বান্ধব বাংলাদেশ গড়ি”

    কবি গুরু রবী ঠাকুরের নামকরণকৃত ঝালকাঠি সদর উপজেলার সনামধন্য উদ্ধোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিশোর কিশোরী সুরক্ষা ক্লাব‌ গঠন করেছে স্বর্ণকিশোর সারা ও তার দল।ওরা চায় সকল কিশোর কিশোরীদের ওরা সচেতন করবে। একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলার জন্য ওরা পণ করেছে।ওদের সেই পণকে সবার সাথে শেয়ার করার দায়িত্বটুকু নিয়েছে ছোটদেরবন্ধু।পৃথিবীর প্রতিটি শিশু কিশোর কিশোরী নিরাপদ হোক এবং তাদের অধিকার ফিরে পাক সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছে ছোটদেরবন্ধু।সেই সাথে সবার কাছে আবদার করছে আপনিও লিখুন শিশু কিশোর কিশোরীদের অধিকার নিয়ে।


    আরও পড়ুনঃ

     

    শিক্ষা দুঃখ ও আশার মধ্যে সেতু বন্ধন স্বরূপ

    5

    শিক্ষার শুরু স্বাক্ষরতা দিয়ে অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়।  সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং গণনাকরার দক্ষতা। বর্তমানে এর সঙ্গে প্রযুক্তির দক্ষতা, ক্ষমতায়নের দক্ষতা, জীবন নির্বাহী দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ৮-১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেয়া হয়। ১৯৬৫ সালের ১৭ই নভেম্বর প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করে ৮ সেপ্টেম্বর।

    ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করে।  প্রতিবছর একটি বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সে বছর সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। এবছরে ইউনেস্কো কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো: ‘কোভিড-১৯ সংকটঃ সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’।

    বর্তমানে এই সময়ের প্রেক্ষিতে, করোনাকালীন এই সংকটে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেমে না থেকে পরবর্তিত পরিস্থিতির সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এখন জুম অ্যাপ, গুগল মিট ইত্যাদি অ্যাপ দ্বারা ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে যেখানে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া শিক্ষাকার্যক্রম সমূহও প্রশংসনীয়। সংসদ টিভির মাধ্যমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সকল শ্রেনির শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে সঞ্চালন করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে গঠনে এই নতুন সংযোজন হল সাক্ষরতার পরবর্ধিত রূপ।

    বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশের রয়েছে সাক্ষরতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য। এ অঞ্চলে সাক্ষরতার জন্য সর্বপ্রথম উদ্যোগ গৃহীত হয় ১৯১৮ সালে নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৯৩৪ সালে খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ ও নবাব আবদুল লতিফ প্রমুখের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র। ১৯৬০ সালে ভি-এইড কার্যক্রমের আওতায় সফলতার সঙ্গে পরিচালিত বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয় শত শত দরিদ্র মানুষ।

     স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করেন এবং ১৭ নং অনুচ্ছেদে ৬-১০ বছরের বালক বালিকাত জন্য বিনামূল্যে মৌলিক শিক্ষাপ্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    “তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো।“ নেপোলিয়নের এই কথার সুর ধরেই আমাদের দেশের নারী জাতিকে অগ্রসর করতে বিভিন্ন উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, কোটা প্রবর্তন করা হয়েছে এবং মেয়ে শিশুদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    ১৯৯০ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০১০ সালে আধুনিক জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়। SDG-2030 এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকারসহ বিভিন্ন NGO। বাংলাদেশে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদান করা হয়।  সাক্ষরতা বিস্তারে বিশাল অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার ১৯৯৮’ লাভ করে। ২০১৪ সালে সবার জন্য শিক্ষা এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সফলভাবে অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শান্তিবৃক্ষ’ পদক পেয়েছেন, যা আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।  

    সাক্ষরতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়; বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক মুক্তি প্রাপ্তি সম্ভব। একজন ব্যক্তি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেলে তা হবে কাগজে কলমে শিক্ষা। কিন্তু আমরা জানি,

    গ্রন্থগত বিদ্যা পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হয়ে প্রয়োজন।

    তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয় বরং স্বশিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ তথা সুনাগরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে প্রতিনিয়ত। সাক্ষরতা দিবসের এই দিনে আমরা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এই বিষয়ে যে আমাদের যেমন সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করতে হবে তেমনি নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছিন্ন অংশরূপেও গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাই কমাতে পারে অপরাধ, গড়ে তুলতে পারে কর্মঠ জাতি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং উন্নত রাষ্ট্র। নেলসন ম্যান্ডেলার উক্তি,

    Education is the most powerful weapon which you can use to change the world.

    বঙ্গবন্ধুর প্রথম উদযাপন করা সাক্ষরতা দিবসেরই ধারাবাহিকতায় সরকার প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে। এ বছরও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা ( এসডিজি ২০৩০) এর ৪র্থ লক্ষমাত্রা হল শিক্ষা ও সাক্ষরতা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি ছেলে ও মেয়ে বিনাবেতনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পেয়ে থাকে। এই লক্ষেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ, এগিয়ে চলেছে পুরো বিশ্ব।

    নামঃ আফরা মেহজাবীন শীন

    শ্রেণিঃ ৯ম

    সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী 

    সাইন্স বী: চলো ভিন্নরূপে বিজ্ঞান শিখি

    আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান একটি ভীতির বিষয়। পুঁথিগত পাঠ্যবই এ গৎবাঁধা সিলেবাস এই ভীতির জন্য দায়ী, বললে ভুল হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান কি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ। না! বিজ্ঞান এর পরিধি কেউ বেষ্টনী দিয়ে আঁটকে রাখতে পারে না। অথচ, আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা মুক্ত ভাবে বিজ্ঞান চর্চা করতে দ্বিধাবোধ করে। এর অন্যতম কারন হলো, পাঠ্যবইয়ে বিজ্ঞানকে জটিলতম করে ব্যাখ্যা করা ও ইংরেজী জার্নাল গুলো সহজলভ্য না হওয়া। এখন পর্যন্ত দেশে বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে খুব কম প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, আর ইংরেজী আমাদের জন্য আরো এক ভীতিকর বিষয় হওয়ায় আমরা ইংরেজী জার্নাল থেকে বিজ্ঞান নিয়ে তেমন চর্চা করতে আগ্রহ বোধ করি না। তাই বিজ্ঞানকে সকলের কাছে সহজতর করে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে একদল শিক্ষার্থী। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানো ও তাদেরকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষভাবে প্রস্তুত করে তোলার লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু করে ‘সায়েন্স বী’ টীম।

    যাত্রা শুরুঃ


    ২০১৮ সালের ৩১শে এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মবিন সিকদারের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে সায়েন্স বী। শুরুটা ছিলো একটি মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন সায়েন্স বী এগিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব গতিতে। বর্তমানের সাইন্স বী তে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আছে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ ছাত্রছাত্রী, যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বিজ্ঞানকে সকলের কাছে আরও সাবলীল ও সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য।

    দুই বছরের এই যাত্রায় সায়েন্স বী-এর ফেসবুক গ্রুপ “সায়েন্স বী ফ্যামিলি” এখন দেড় লক্ষেরও বেশি বিজ্ঞান অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত তারা নতুন কিছু শিখছে, নিজে জানছে ও অন্যকে জানাচ্ছে। সায়েন্স বী পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে নানান কৌতুহলী, রহস্যময় এবং জটিল সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্বলিত ইউনিক কন্টেন্ট।

    বাংলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যতম ওয়েবসাইটঃ


    সায়েন্স বী এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো সায়েন্স বী ওয়েবসাইট www.sciencebee.com.bd । বাংলাদেশের প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম “ডেইলি সায়েন্স” সায়েন্স বী এর উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রোগ্রাম, যেখানে প্রতিদিনই থাকছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের সর্বশেষ খবরাখবর সহ স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, টেকনোলজি ও সচেতনতামূলক নানা ধরনের আপডেট। ইতোমধ্যে ৩০০ এর বেশি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে এখানে, যার সবগুলোই লিখেছে সায়েন্স বী নিউজ টিমের সদস্যরা।

    এছাড়াও আছে “বী ব্লগ”, যেখানে অনেক অভিজ্ঞ ও নতুন লেখক সকলেই নিজের অথ্যবহুল লেখা প্রকাশের মাধ্যমে নিজের লেখনীশক্তি ঝালাই করতে পারছে। বর্তমানে ব্লগে ২০ জন লেখক নিয়মিত লিখছেন ও পড়ায় ২০০ টি ব্লগ প্রকাশিত হয়েছে। এই ব্লগ সাইটটি উন্মুক্ত, চাইলে আপনি লিখতে পারেন বিজ্ঞান ভিত্তিক যেকোনো ব্লগ।

    এছাড়াও ওয়েবসাইটের অনন্য আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রশ্নোত্তর বিভাগ বা Bee QnA সেকশন। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নোত্তর আর্কাইভ, যেখানে আছে ১০০০ টির ও বেশি বিজ্ঞানমূলক জটিল প্রশ্নের সহজ সাবলীল উত্তর। এছাড়াও আছে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, নতুন প্রশ্ন যুক্ত করে পয়েন্ট অর্জন ও পুরস্কার জিতে নেবার সুযোগ।
    বর্তমানে ওয়েবসাইটের রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৬ হাজার যা প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০০-৫০০০ শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপডেটেড রাখছে নিজেদের।

    বর্তমানে ভিজুয়াল কন্টেন্ট নতুন কিছু শেখার জন্য খুবই জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সে লক্ষ্যেই আরিফ হোসেন রাজনের নেতৃত্বে কন্টেন্ট প্রোডাকশন টিম নিয়মিত বিভিন্ন রকম মজাদার ও চমকপ্রদ বিষয়ের উপরে ভিডিও তৈরি করে, যা চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে শেখাকে আরো আনন্দঘন করে তোলে।

    সায়েন্স বী এর ফেসবুক কমিউনিটিতে যুক্ত প্রায় দুই লক্ষ কৌতূহলী শিক্ষার্থীর নানাবিধ প্রশ্ন, নতুন তথ্য জানানো ও নির্ভরযোগ্য তথ্য চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট টিম। প্রতিদিন গ্রুপে প্রায় ১২০০ এর বেশি তথ্যমূলক পোস্ট, আর্টিকেল, ফ্যাক্টস, ব্লগ, প্রশ্ন প্রকাশিত হয়, যার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে সর্বোচ্চ যৌক্তিক উত্তর দিতে বদ্ধপরিকর ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যরা।

    শিক্ষার্থীদেরকে শুধু জানানোই নয়, তারা যেন তা মনে রাখে এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সে জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য সায়েন্স বী ইতোমধ্যে ৫০টির ও বেশি কন্টেস্টের আয়োজন করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ ও আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করেছে। এছাড়াও সায়েন্স বী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর ২৭-২৮ তারিখে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার আয়োজিত ইয়ুথ কার্নিভালে অংশ নিয়েছে, যেখানে তাদের স্টলে দুইদিনব্যাপী ২০০০ এর বেশি মানুষ বিজ্ঞান ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার নানা বিষয়ে জানতে পেরেছে।

    THE BEE SHOW | Lavalamp | Elephant Toothpaste | EPISODE 02 | দ্যা বী শো, পর্ব – ০2| SCIENCE BEE |

    বর্তমানে সায়েন্স বীতে ৪ টি টিমে ভাগ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৪০ জনের বেশি সদস্য কাজ করছে। টিমগুলো হলো ডিজাইন টিম, কন্টেন্ট প্রোডাকশন টিম, নিউজ রাইটিং টিম ও ম্যানেজমেন্ট টিম। ডিজাইন টিমের সদস্যরা প্রতিদিন বিজ্ঞানসম্পর্কিত গবেষণাভিত্তিক নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে ফ্যাক্ট ডিজাইন করেন, যা প্রকাশিত হয় সায়েন্স বী এর অফিশিয়াল পেইজ ও গ্রুপে।

    সায়েন্স বী বাংলাদেশের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানপিপাসু ও কৌতূহলী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা ও জানার আগ্রহ পূরণ করে যাচ্ছে। তাদের মিশন হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত করে সবাইকে এ অগ্রযাত্রায় শামিল হতে সুযোগ করে দেওয়া।

    অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

    23
    সিমরিন লুবাবা ও শান

    রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা বলবো। তার মুখে সারাক্ষণ মিষ্টি হাসি লেগেই থাকে।আমরা তাকে আদর করে বলি অদ্বিতীয়া রাজকন্যা।রুপকথার রাজকন্যাদের কিন্তু তেমন কোন গুণ থাকে না । তারা শুধু দেখতে সুন্দর হয় অথবা তাদের ইয়া লম্বা চুল থাকে। কিন্তু আমাদের এই রাজকন্যার অনেক গুন আছে। সে গান গাইতে পারে,আবৃত্তি করতে পারে আর অভিনয় করতে পারে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি তুমিও এই রাজকন্যাটিকে টিভিতে দেখেছ।

    কিন্তু তোমরা তো জানতেই না যে এই রাজকন্যাটির নাম কী!আমাদের এই রাজকন্যার নাম সিমরিন লুবাবা।এরই মধ্যে সে অনেকগুলো কাজ করে ফেলেছে। তার মধ্যে রাজকন্যাদের গুণাবলীও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।সে মানুষের দুঃখ দেখলে তাদের পাশে দাড়াতে চেষ্টা করে। এই যে সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস যখন আক্রমন করে সবাইকে ঘায়েল করে ফেলেছে তখন কত মানুষ অনাহারে থেকেছে। ছোট্ট সিমরিন মনে করলো ওই সব মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। সেই ভাবনা থেকে সে নিজের আয় করা টাকা থেকে খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনে গরীবদের মাঝে বিতরণ করেছে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে সিমরিন অনেক খুশি।তোমরা হয়তো বলতে পারো এই রাজকন্যার রাজত্ব কোথায়? কোন রাজ্যের রাজকন্যা সে? সে হলো হৃদয় রাজ্যের রাজকন্যা। মানুষের হৃদয়ে সে বসবাস করে সারাক্ষণ।

    ভালো রাজকন্যাদের যা কিছু সুন্দর গুনাগুণ আছে তার সবটাই আছে সিমরিন লুবাবার মধ্যে। তোমাদের জন্য আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন সিমরিন লুবাবা নামের এই ছোট্ট রাজকন্যার জন্মদিন আসি আসি করছে।দরজায় বার বার নক দিচ্ছে আসবো বলে কিন্তু আমি বলেছি একটু থামো আমি এখন রাজকন্যাকে নিয়ে লিখছি ওর বন্ধুদের জন্য। বন্ধুরাতো সবাই অপেক্ষা করছে আগে ওদেরকে রাজকন্যার গল্প শোনাই তার পর জন্মদিন তুমি এসো। সেই থেকে জন্মদিন আসি আসি করতে করতে দরজায় দাড়িয়ে আছে।লুবাবার জন্মদিনকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো ১৬ই আগষ্ট। হ্যা ঠিকই ধরেছ এই ছোট্ট রাজকন্যার জন্মদিন ১৬ আগষ্ট।

    তোমরা নিশ্চই জানো আগষ্ট শোকের মাস। ১৯৭৫ সালে এই মাসের ১৫ তারিখে আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের প্রিয়বন্ধু প্রিয় মানুষটিকে।যিনি আজীবন লড়াই করে রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ, একটি লাল সবুজের পতাকা, আর একটি গর্বকরার মত মানচিত্র এনে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটি আমাদের সবার প্রিয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু কিছু খারাপ মানুষ তাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল।শোকের এই মাস, তার উপর করোনায় চারদিকে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে এতো সব ভেবে ছোট্ট রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে জন্মদিনে কোন পার্টি দিবে না বরং পার্টি দিতে যে টাকা খরচ হতো তা থেকে গরীব দুঃখীদের জন্য কিছু করবে।এখন বুঝেছ সত্যিকারের রাজকন্যাটা কত্ত ভালো?আমরাও চাই এই ছোট্ট রাজকন্যা সিমরিন লুবাবার এই মহৎ কাজ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, আর এভাবেই সিমরিনের এবারের জন্মদিনটা আলোয় আলোয় ভরে উঠুক।ও আরেকটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি সেটা হলো সিমরিনের রাজত্বে তার এক হীরের মুকুট পরা মহারাজা আছেন যিনি সিমরিনকে খুউউউব ভালোবাসেন এবং তার থেকেইতো সিমরিন নামের ছোট্ট রাজকন্যাটি অনুপ্রেরণা পায়।

    সেই মহামান্য রাজা হলেন সিমরিন লুবাবার দাদু। বিখ্যাত অভিনেতা আবদুল কাদের।নাম আব্দুল কাদের হলেও বাংলাদেশের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে তিনি বদি নামেই পরিচিত।আজ থেকে ২৬ বছর আগে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে তিনি বদি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।দুই দশক পরেও সেই নাম এখনও দর্শকদের মন থেকে মুছে যায়নি। নাম বলার সাথে সাথেই তোমরা চিনে ফেলেছ। ওইতো কে কে যেন বলছে হ্যা দাদুকে তো দেখেছি ইত্যাদিতে আর অনেক গুলো নাটকে।তিনি নাটকে অনেক মজার অভিনয় করেছেন আবার খুব সিরিয়াসও হয়েছেন।আর তোমাদের বাবা মায়েরাও নিশ্চই বলবে হ্যা তিনিইতো সেই বিখ্যাত বদি। কী সুন্দর অভিনয় করেন।তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা অগণন। সিমরিন খুব ভালো বাংলা বলতে পারে। ওকে তোমরা দেখলে মনে করতে পারো এই রাজকন্যাতো একটা পরী? ওর চোখ গুলো পরীর মত সুন্দর, শুধু পিছনে কোন ডানা নেই। আরও ভাবতে পারো ওর চুলগুলো কেমন সোনালী। তার মানে সে সোনালী চুলের রাজকন্যা।

    এই রাজকন্যা কিন্তু অন্য রাজকন্যাদের মত নয়। সে বরং একই সাথে বাংলা, ইংরেজী, এবং হিন্দি ভাষাতেও কথা বলতে পারে। তার সুনাম এখন দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তার প্রতিভা দেখে রাজস্থান সরকার একটি বিজ্ঞাপন নির্মান করেছে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সেখানে সিমরিন লুবাবা কাজ করেছ।সিমরিন সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরা হয় এমন বিষয়ে অভিনয় করতে ভালোবাসে। সম্প্রতি ও অভিনয় করেছে ত্রয়ী প্রোডাকশানের ব্যানারে “আব্বু আম্মু আর ফেসবুক” নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। রাজকন্যাদের সব কিছু হিসেব করে করতে হয়। আর তাইতো সিমরিন লুবাবা সব সময় বাছাই করে সেরা সেরা কাজ গুলো করে থাকে। সে মাঝে মাঝে সবাইকে আনন্দ দিতে গান শোনায় আবার মাঝে মাঝে অভিনয়ও করে দেখায়। মিমিক্রি করতে তার খুব ভালো লাগে।আগামী ১৬ই আগষ্ট সিমরিন লুবাবার দশম জন্মদিন আসছে। যে মানুষটি জন্মদিনের পার্টিতে আনন্দ করার বদলে গরীব অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার কথা ভাবছে আমাদেরতো উচিত সেই ছোট্ট রাজকন্যাটিকে উইশ করা। চলো আমরা সবাই একসাথে একসুরে কন্ঠ মিলিয়ে বলে উঠি শুভ জন্মদিন সিমরিন লুবাবা। তোমার জন্য অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা।আমরা জানি সিমরিন লুবাবা আমাদের সবার কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়ে অনেক খুশি হবে। আর রাজকন্যা খুশি হলে রাজ্যের সব্বাই খুশি থাকে।পৃথিবীর ঘরে ঘরে সিমরিন লুবাবার মত মিষ্টি রাজকন্যায় ভরে উঠুক।

    ১৩ আগষ্ট ২০২০

    বোকা মানুষ ও পৃথিবী

    রাশিদুল রাজ

    দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় পুরো ৬০ ভাগই হলো তাদের মাথা।স্নায়ুতন্ত্রের গঠনও বেশ জটিল।মুখমন্ডলে একটি চোখই মাত্র দেখা যায়।সেটাও বেশ জটিল গঠনের।ওদের দৃষ্টিশক্তিও অনেক তীক্ষ্ণ।এই একমাত্র চোখের সাহায্যেই ওরা পঞ্চইন্দ্রীয়ের কাজ করতে পারে।বিনিময় করতে পারে হাসি,কান্না,আনন্দ,অনুভূতির।যেকোনো সৌরজগৎ এর সূর্য থেকে চার্জ নিয়েই ওরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

    মহাশূন্যে ওরা এমনিতেই ঘুরছে না।ওদের কাজ মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করা ।সৌরজগত,গ্রহ,নক্ষত্রসহ পুরো মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো।বেশ কয়েকশো বছর আগেও ওরা এখানে এসেছিলো।আজ আবার তারা পৃথিবী গ্রহের খুবই কাছাকাছি অবস্থান করছে।তারা জানত এই গ্রহটিই একমাত্র গ্রহ যেখানে সৃষ্টির সেরা জীব অবস্থান করছে।

    এই দুটি অদ্ভুত প্রাণী 

    দূর থেকে গ্রহটি দেখে খুবই অবাক হলো তারা।কি আশ্চর্য!প্রথমে তো গ্রহটি চিন্তেই পারছিলো না।আরেকটু এগিয়ে আসল।

    কি অবাক কান্ড! একি হয়েছে এই গ্রহটার?কি বাজে অবস্থা হয়েছে তার!
    আরেকটু কাছে আসল তারা।আরো অবাক হলো।দুজনই একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।এই অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই কি অবস্থাটাই না হয়ে গেছে এই গ্রহের!কি তার কারণ?

    কিছুক্ষণ গ্রহের চারপাশে ঘুরল তারা।সবকিছু পর্যবেক্ষণ করল।মানুষদের কাজ-কর্ম খেয়াল করল।নদী,সমুদ্র,বন- জঙ্গলগুলোও তারা দেখতে থাকল।

    তারা উভয়েই বুঝলো পৃথিবীর এই খারাপ অবস্থার জন্যে এই সৃষ্টির সেরা জীব গুলোই দায়ী।তারা তাদের বিলাসবহুল বসবাসের জন্যে পুরো প্রকৃতিকেই যেন ধ্বংস করে ফেলছে।তারা বিশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করছে।যে যার যার নিজের ইচ্ছেমতো  প্রকৃতি ভোগে ব্যস্ত।অথচ এই প্রকৃতিই যে তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে তারা একবারও তা ভাবছেই না।

    বসবাসের উপযোগী গ্রহটিকে বসবাসের অনুপযোগী করে তারা এখন মহাকাশে নতুন গ্রহের সন্ধান করছে।প্রথম প্রাণীটি বলল,দেখেছো পৃথিবীর উপরিস্তরটা ওরা পুড়িয়ে ফেলছে,নিজেদের সুবিধার জন্যে তৈরি করছে  সুউচ্চ বিল্ডিং,ফ্যাক্টরি।যেনো তারা আজ বিল্ডিং তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।বিপরীতে পরিবেশে মিশিয়ে দিচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস,কালো ধোঁয়া।

    ২য় প্রাণীটি, হ্যা আসলেই। তারা চাইলে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে তার সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারত।

    হ্যাঁ,দেখেছো কি ধুলাবালি চারিদিকে।বাতাসে কালো ধোঁয়া।পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস মিশিয়ে দিচ্ছে।ধোয়াময় (স্মোগ) হয়ে গেছে চারিদিক।বাতাসে ভেসে আসছে পোড়া গন্ধ।দেখেছো প্রাণীদের শ্বাস নিতে কত কষ্ট হচ্ছে?দম বন্ধ অবস্থা তৈরী করে ফেলেছে।

    হ্যাঁ,কি বাজে অবস্থা।দেখো দেখো ওই রাস্তাগুলোর দিকে তাকিয়ে, যেনো জ্যাম এ স্থির হয়ে গেছে।রাস্তার দুপাশের গাছপালাগুলো ধুলাবালিতে সাদা বিবর্ণ হয়ে গেছে। চারিদিকে হর্ণের কি বিশ্রুি শব্দ,কোলাহলে অস্থির হয়ে যাচ্ছে মানুষ। কি বিরক্তিকর অবস্থা!হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষগুলো উচ্চশব্দের কারনে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে।

    হ্যাঁ ওই নদীগুলোর দিকেও তাকিয়ে দেখো, ওরা নদী সাগরগুলোকেও নোংরা করে ফেলেছে।নদী,সাগর তাদের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে।ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরে গেছে সব।পানি থেকে পঁচা গন্ধ বের হচ্ছে।নদীগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

    দুজনই খুবই ক্লান্ত হলো।এত বাজে অবস্থা আর কোথাও তারা দেখেনি।তারা ভাবল একটু বন-জঙ্গলগুলোও ঘুরে দেখবে। সেখানে গিয়েও তারা অবাক হলো।সুন্দর বনভূমি মানুষ কিভাবে ধ্বংস করে ফেলতেছে।ওরা বাসস্থানের জন্যে,জ্বালানির জন্যে,চাষাবাদের জমির জন্যে কিভাবে বন-জঙ্গল গুলো কেটে ফেলছে।

    তারা দেখলো বোকা মানুষগুলো পৃথিবীর ফুসফুস আ্যমাজন টাকেও পুড়িয়ে ফেলছে।ধ্বংস করে ফেলেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ বনভূমি,নষ্ট করে ফেলেছে তার পরিবেশ।সেখানে স্থাপন করেছে বিভিন্ন খামার,শিল্প,ফ্যাক্টরী। এক সময়ে এইসব বনভূমিগুলো ছিলো কতই না শ্যামল।

    নিশ্চই আগামি কয়েক দশকেই এই বনভূমিগুলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহন করার পরিবর্তে বাতাসেই কার্বন বিমুক্ত করা শুরু করবে।যে ধ্বংসলীলার শুরু হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় বার হাজার বছর পূর্বেই,যখন থেকে মানুষ পরিকল্পিত চাষাবাদ শুরু করে এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ এ লিপ্ত হয়।গোটা প্রজাতির মাত্র ০.১ ভাগ মানুষই এ পর্যন্ত ৮৩ভাগ বন্য প্রাণী আর ৫০ ভাগ উদ্ভিদকেই বিলুপ্ত করে ফেলেছে।

    হ্যাঁ,ওরা তো গত পঞ্চাশ বছরেই পৃথিবীর অর্ধেক প্রাণী বিলুপ্ত করে ফেলেছে।শুধু তাই নয়,ওদের জন্যেই অনেক প্রাণী তাদের নিজস্ব সক্রিয়তাও হারিয়ে ফেলেছে।

    প্রথম প্রাণীটি বলল,ওরা নিজেরাই নিজেদের গ্রহের গড় তাপমাত্রাও বাড়িয়ে ফেলেছে।
    ওরা নিজেদের সুবিধার জন্যে রুমে এসি,ফ্রিজ ব্যবহার করছে,বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষাক্ত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।যেই বিষাক্ত গ্যাসগুলো দিয়ে ওদের মঙ্গলময় ছায়া ওজন স্তর কেও ধ্বংস করে ফেলছে।সেখানে উত্তর মেরুতে আজ তৈরি হয়েছে বিশাল এক গর্ত।
    নিজের গ্রহেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি গুলো প্রবেশ করাচ্ছে।মানুষ ক্যান্সার,ছানির মতো রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে।

    কি বোকা তারা!নিজের রাজ্য-বাসস্থান টাকে বসবাসের উপযোগী করতে গিয়ে পুরো গ্রহটিই বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলতেছে।

    দেখো আর এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা,সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফগুলোও কত দ্রুত গলতে শুরু করেছে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।হ্যা,ওরা আবহাওয়ার পরিবর্তন করে ফেলেছে।অসময়ে ঝড়,সুনামি,বন্যা,বৃষ্টিপাত শুরু হচ্ছে।

    ওই শহরটার দিকে তাকিয়ে দেখো(ভেনিস-ইতালি)যেটা আজ পানির নিচে পড়ে আছে।নিশ্চই আগামী কয়েকশ বছরের মধ্যেই ওরা ওদের এই বসবাসযোগ্য পৃথিবীর বড় অংশই পানির নিচে হারিয়ে ফেলবে।বাসস্থান, চাষাবাদের জমি হারিয়ে না খেয়ে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেতে থাকবে।ওই দেশটির দিকে তাকিয়ে দেখো(ইয়েমেন),ছোট্ট শিশুগুলোও কিভাবে দুর্ভিক্ষ নামক অসুখ থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।

    শুধু তাই নয় ওরা যেভাবে প্রকৃতি ধ্বংসে ব্যস্ত হয়েছে,আগামী কয়েক দশকেই তা পুরো ৭০০ কোটি মানুষের জন্যে হতে চলেছে খুবই মারাত্মক।

    দ্বিতীয় প্রাণীটি বলল, আমরা কি শুধু পরিবেশটাই দেখবো?খেয়াল করে দেখো মানুষেরা নিজেদের মধ্যেও কত সমস্যার সৃষ্টি করে ফেলছে।বসবাসযোগ্য পৃথিবীটাকে বসবাসের অনুপযোগী করে বলছে, ওরা নাকি পৃথিবীকে বদলে ফেলছে,মানুষেরা নাকি এখন পূর্বের চেয়ে অনেক শান্তিতে,সহজে বসবাস করছে।তোমার কি এমন মনে হয়?

    কখনোই না।আমার তো এই মানুষগুলো নিয়ে খুবই আফসোস হচ্ছে।দেখো ওরা বিদ্যুৎ দিয়ে অন্ধকারকে দূর করলো। নিজেদের সুবিধার জন্যে মোবাইল,কম্পিউটার,ল্যাবটপ নামক ডিভাইস তৈরী করলো।সারাক্ষণ সেগুলো নিয়েই পড়ে আছে।তারা বাস্তব কে বাদ দিয়ে এখন ভার্চুয়াল নিয়েই মেতে উঠেছে।নাটক,সিনেমা,গানগুলো দিয়েই আবেগ অনুভুতির ক্ষয় করছে।অথচ যে সময়গুলো কাটানোর কথা ছিলো ওদের নিজেদের সাথে,যে আবেগগুলো ক্ষয় করার কথা ছিলো ওদেরই কাছের মানুষগুলোর সাথে।ওরা নিজেরাই নিজেদের একা করে ফেলেছে।

    আমার তো মনে হয় এই ভার্চুয়াল জিনিসগুলোর কারনেই মানুষগুলোও একসময় তাদের নিজস্ব সক্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে,তাদের চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটবে।তারা ভুলে যাবে তাদের মধ্যে পরিশ্রম,স্বাধীন চিন্তাভাবনা,নিজস্ব মত প্রকাশের ক্ষমতা ছিলো।বিলুপ্ত হয়ে যাবে ওদের মনুষ্যত্ব।

    যার কিছু নমুনা এখনি দেখা যাচ্ছে।মানুষদের মধ্যে হতাশা,দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে,আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। চারিদিকে মানুষগুলো কেমন অশান্ত হয়ে গেছে।মানুষেরা খারাপ কাজ,একে অন্যের সাথে মারামারি,হানাহানি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই যেনো এখন বেশি মজা পাচ্ছে।

    তারা দুজনই খুবই আফসোস করতে থাকল সৃষ্টির সেরা জীবদের নিয়ে।তাদের মনে এই প্রশ্ন টাই বার বার ঘুরতে থাকল,এই মানুষ প্রাণীগুলোকেই কেনো সৃষ্টির সেরা জীব বলা হলো?তারা প্রচুর আফসোস করতে করতে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশের দিকে রওনা হল।

    বেশ কয়েকমাস পর প্রাণী দুটি আবার এই সৌরমণ্ডলে প্রবেশ করল।যদিও তাদের এই বোকা প্রাণীগুলো দেখার আর কোনো ইচ্ছাই ছিলোনা।তারা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে স্ট্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চল এ এসেই অবাক হয়ে গেলো।

    কি আশ্চর্য!এটা কি করে সম্ভব!
    তারা পৃথিবীর উওর মেরু অঞ্চলের ওজন স্তরে প্রায় দশহাজার বর্গমিটারের যে গর্ত দেখেছিলো তা যেনো একেবারেই মিলিয়ে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।তারা দুজনই দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল।বুঝতে পারল না কিভাবে সম্ভব এটা?তবে কি মানুষেরা আসলেই বুদ্ধিমান প্রাণী?নাকি এই শেষ মুহুর্তে এসে তারা এটা বুঝতে পেরেছে যে প্রাণী জগৎ কে আরো কয়েক শত বছর বাঁচিয়ে রাখতে হলে অন্তত প্রকৃতির উপর নির্মম অত্যাচার বাদ দিতে হবে।

    বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তারা গ্রহের আরো কাছে ট্রপোস্ফিয়ার অঞ্চলে প্রবেশ করল। চারিদিকে তাকাতে লাগল।কিছুদিন আগেও যে  টপোস্ফিয়ারের বিভিন্ন স্তরে বিষাক্ত গ্যাস,ধুলাবালি,স্মোগ এ আচ্ছন্ন ছিলো সেই স্তরটি আজ বিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।পরিস্কার মেঘেরা সেখানে খেলা করছে।তারা অবাক হয়ে ভূপৃষ্ঠে তাকালো।এ যেনো নতুন একটি গ্রহের দিকে চোখ পড়েছে তাদের।শহরগুলো যেনো কেমন শান্ত হয়ে গেছে।রাস্তাগুলো থমকে গেছে।কোথাও কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছে না।

    ২য় প্রাণীটি, তবে কি এই কয়েকমাসের মধ্যেই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষও এই গ্রহ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলো?না এমনটা নয়।ভালো করে তাকিয়ে দেখো,ওরা এখনো বিলুপ্ত হয়নি।
    মানুষগুলো তাদের তৈরি বদ্ধ অন্ধকার ঘরগুলোতেই অবস্থান করছে।কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা।সবাই লকডাউন এ বন্দী।তারা অবাক হয়ে গ্রহের চারিদিকে ঘুরাঘুরি করল।
    তারা দেখল ১২০ মাইক্রোমিটার এর ছোট্ট একটি ভাইরাস পুরো পৃথিবীটাকে শান্ত করে ফেলেছে।পুরো পৃথিবী যেনো আজ নিস্তব্ধ একটা পল্লি।প্রথম প্রাণীটি বলল,পুরো গ্রহেই মহামারী শুরু হয়ে গেছে।মানুষ গণহারে মারা যাচ্ছে।পৃথিবীর সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিও এই ক্ষুদ্র ভাইরাস এর কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে।

    দ্বিতীয় প্রাণীটি বলল,তোমার কি মনে হয় এমন একটি ভাইরাসই পুরো পৃথিবীকে মানবশুন্যে করে দিতে পারে?হ্যাঁ।এমন হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।খেয়াল করে দেখেছো কি, মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যেসব পুরনো সভ্যতাগুলো বের হচ্ছে সেগুলো কত হাজার কোটি বছরের পুরনো?এই ভাইরাস গুলো তো ৪০০ কোটি বছর পূর্বেই সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতিতে রয়ে গেছে।সুযোগ পেলেই তারা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে এবং তার বংশ বিস্তার ঘটায়। এমন অনেক সভ্যতা আছে যেগুলো এসব ক্ষুদ্র ভাইরাস এর কারনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো পৃথিবীর তাপমাত্রা যত বাড়বে ততই বরফগুলো গলতে থাকবে আর হাজার বছরের পুরনো ভাইরাস গুলো বেরিয়ে আসতে থাকবে যা পুরো প্রাণী জগৎ কে বিলুপ্ত করে দিতে পারে।হ্যাঁ।এমনটাও হতে পারে।অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    হ্যাঁ।ভূপৃষ্ঠের দিকে তাকিয়ে দেখো পুরো গ্রহটিই শান্ত হয়ে গেছে।মানুষগুলো কিভাবে ক্ষুদ্র এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে ঘরবন্দী হয়ে আছে।বিশাল শক্তির পারমানবিক বোমার অধিকারি দেশগুলোও কিভাবে ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস এর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
    ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর।

    হ্যাঁ।চারিদিকে তাকিয়ে দেখো।মানুষ ঘরবন্দী বলে সকল অফিস,কারখানা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন সব বন্ধ আছে।সেগুলো থেকে প্রতিনিয়ত মুক্ত হওয়া ধুলাবালি,বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বন্ধ হয়েছে। ফলে পরিবেশ কত বিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।কোথাও কোথাও বায়ু দুষণ প্রায় ৭০ ভাগ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।

    দেখো শহরের ওই রাস্তাগুলোতে কোনো গাড়ি নেই।কোনো যানজটও নেই।অল্পকিছু সময়ের জন্যে যেনো হর্ণের ওই বিশ্রী শব্দটাও স্তব্ধ হয়ে গেছে।হ্যাঁ দেখো রাস্তার পাশের গাছগুলোতেও কত সুন্দর লতা,পাতা গজিয়েছে।ফুলও ফুটেছে সেখানে।পাখিরা বাসা বাধতে শুরু করেছে।শহরগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো  জঙ্গল থেকে সিংহ,হরিণ,বানর,বন ছাগল,ময়ূর পাখিরা বের হয়ে এসে মানবশূন্য শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।তারা সেখানে খাবারের সন্ধ্যান করছে।কতো স্বাধীনভাবেই সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছে।একটা জিনিস খেয়াল করে দেখো গোটা প্রজাতির মাত্র ০.১ ভাগ মানুষ নামক প্রাণীগুলো অন্যে সকল প্রাণীর স্বাধীনতা নষ্ট করে দিয়েছিলো।

    হ্যাঁ।ওই দেখো,বিশাল সাগরে জোয়ার পড়েছে।পানি কত স্বচ্ছ। চলো এগিয়ে দেখা যাক।

    তারা বড় বড় কয়েকটি সমুদ্র, সৈকতে ঘুরাঘুরি করল।দেখলো পর্যটকশূন্যে যেসব সাগরে গত কয়েকশ বছরে যা দেখা যায়নি তার নব সুচনা ঘটেছে।তীর এলাকায় ডলফিন, হাঙ্গরেরা এসে খেলা করছে।তারা দেখল,হাজার হাজার কচ্ছপেরা স্বাধীনভাবে ঘুরাফেরা করছে। ডিম থেকে বের হয়ে বাচ্চাগুলো সাগরের দিকে ছুটে যাচ্ছে।

    হ্যাঁ।কি দারুণই না দেখতে।
    দেখো ওই কক্সবাজার নামক সৈকতে সাগরলতা ফুলও ফুটেছে।কত সুন্দর দেখাচ্ছে।
    আফসোস! বোকা মানুষগুলো এই সুন্দর প্রকৃতিকে কিভাবে বন্দী করে রেখেছিল।

    আরেকটা বিষয় খেয়াল করে দেখেছো কি?মানুষগুলোর নিজেদের মধ্যেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।তুমি কোন পরিবর্তনের কথা বলতে চাচ্ছ?

    দেখো সামান্য এই ভাইরাসটির কারনে মানুষে মানুষে বন্ধন কতটা শক্তিশালী হয়েছে।বাবা-মা কে ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করা সন্তানগুলো মায়ের কোলে ফিরে এসেছে।অফিস ব্যস্ততায় নিজের ছেলে মেয়েদের সময় না দিতে পারা বাবা মা আজ তাদের সন্তানদের নিয়ে রুমে খেলা করছে।পুরুষেরা তাদের সঙ্গিনীকে রান্নার কাজে সাহায্য করছে।
    আসলেই সম্পর্কগুলো গভীর হয়ে উঠেছে।মানুষেরা তার শিকড়ে ফিরে এসেছে।

    সবই ঠিক আছে।এভাবে চলতে থাকলে খুব শ্রীঘ্রই পৃথিবীটা কয়েক শতক পূর্বের অবস্থায় চলে যাবে।যখন প্রকৃতিতে এতো কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিলোনা।যখন ছিলো না বিদ্যুৎ, কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানী চালিত কোন মটর,যানবাহন।প্রকৃতির বিশুদ্ধতা খুব শ্রীঘ্রই সেই সময়ের মতোই হয়ে যাবে।

    হ্যাঁ।কিন্তু এই বিশুদ্ধতা,কিংবা প্রকৃতির মুক্তি কতদিন থাকবে?তোমার কি মনে হয় মানুষেরা এখান থেকে শিক্ষা পেয়ে পরবর্তীতে প্রকৃতির উপর নির্মম অত্যাচার বাদ দিবে?

    না।আমার এমন মনে হচ্ছেনা।এই মানুষগুলো খুবই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।এখান থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো কিছুটা মৃত্যুভয় জয় করতে শিখে যাবে।আমার মনে হয় ওরা মহামারী পরবর্তী এই পৃথিবীতে আরো বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলবে।তারা পূর্বের চেয়েও কয়েক গুন বেশি মাত্রায়  প্রকৃতি ধ্বংসে ব্যস্ত হবে।এবং খুব দ্রুতই তারা এই গ্রহটিকে ধ্বংসস্তুপ এ পরিনত করে ফেলবে।ওই দেখো এই মহামারীর সময়েও কিভাবে জলদস্যুরা আ্যমাজন থেকে শতবছরের গাছপালা কেটে নিচ্ছে।

    হ্যাঁ,দেখো মানুষগুলো মহামারী থেকে বাঁচতে এর প্রতিষেধক তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা করছে।খুব শ্রীঘ্রই হয়ত তারা এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলবে।

    তুমি কি বলতে চাচ্ছো প্রতিষেধক আবিষ্কার হলেই মানুষেরা মহামারী থেকে বেঁচে যাবে?

    না।কখনোই না।প্রতিষেধক এই ভাইরাসগুলোকে কিছু সময়ের জন্যে শুধু স্থিরই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।ভাইরাসগুলোর মিউটেশন ক্ষমতা প্রচুর।তারা যেকোনো সময় নিজেদের জিনোম পরিবর্তন করে নিতে পারে।হতে পারে ওদের তৈরি আ্যন্টিবায়োটিক এর কারনেই পরবর্তীতে এই ভাইরাস আসবে আরো শক্তিশালী হয়ে যা পরবর্তীতে আরো মারাত্মক আকারে মহামারীর সৃষ্টি করে দিতে পারে।এবং যা মানব প্রজাতির বিলুপ্তির জন্যেও দায়ী হতে পারে।

    তারা হঠাৎ মহাকাশ থেকে সংকেত পেলো।এবারের মতো মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি থেকে তারা রওনা হলো।বেশ কয়েকমাস পরে তারা আবার এই গ্যালাক্সিতে প্রবেশ করল। এই গ্রহের বায়ুমন্ডলে এসে তারা স্তম্ভিত হয়ে গেলো।তারা দুজনই স্থির হয়ে মহামারী পরবর্তী পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে রইল।সৃষ্টির সেরা জীবগুলোর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।এবং দুজনেই এভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সামনে আগানোর ইচ্ছা হারিয়ে ফেলল।

    ওরা একে অপরের দিকে তাকাল।তারা হাসল।খুবই উচ্চস্বরে হাসল।মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে আরো উচ্চস্বরে হাসতে থাকল।এবং উল্টো পথে মহাকাশের দিকে রওনা হলো।

    রাশিদুল রাজ
    শিক্ষার্থী ,সরকারি তিতুমীর কলেজ