আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ হলেই যে কেবল অভিজ্ঞ গ্র্যান্ডমাস্টারদের কথা ভাবতে হবে—এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। সেই প্রজন্মের একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ক্ষুদে দাবাড়ু আজান মাহমুদ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে ব্লিজ ক্যাটাগরিতে অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে বিভাগীয় পুরস্কার জিতে নিয়ে আজান প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দাবা বেশ আশাব্যঞ্জক।
কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের ৩৭৩ জন দাবারুর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ছিল কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন একাধিক গ্র্যান্ডমাস্টার ও আন্তর্জাতিক মাস্টারসহ ৬০ জন ফিদে টাইটেলধারী খেলোয়াড়, সেখানে অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে আজান মাহমুদের সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে ব্লিজ দাবা—যেখানে সময় কম, সিদ্ধান্ত দ্রুত এবং মানসিক চাপ অনেক বেশি—সেখানে ভালো করা সহজ নয়। প্রতিটি চালেই থাকতে হয় গভীর মনোযোগ, দ্রুত বিশ্লেষণ এবং আত্মবিশ্বাস। এই ফরম্যাটেই আজান নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সঠিক চাল বেছে নেওয়ার ক্ষমতা, প্রতিপক্ষের ভুল ধরার তীক্ষ্ণতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাকে আলাদা করে তুলে ধরেছে।
আজানের এই অর্জন হঠাৎ পাওয়া কোনো সৌভাগ্যের ফল নয়। নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই তার সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি দাবাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে সে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাদর্শ—পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব—আজানের মতো শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ রশিদ এবং মালিবাগ ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ কর্নেল মো. শামসুল আলম, পিএসসি (অব.) এই ক্ষুদে দাবাড়ুদের অভিনন্দন জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আজানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই যে তাদের লক্ষ্য—আজান মাহমুদ তার বাস্তব উদাহরণ।
আজান মাহমুদের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য শুধু একটি পদক বা পুরস্কারের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের দাবার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত। অনূর্ধ্ব-১০ বয়সেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের নাম জানান দেওয়া মানে সামনে তার পথ অনেক দীর্ঘ এবং সম্ভাবনাময়।
দাবার বোর্ডে আজান মাহমুদের যাত্রা এখনো শুরু মাত্র। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে তাকে বাংলাদেশের শীর্ষ দাবাড়ুদের কাতারেই দেখা যেতে পারে—এই আশাবাদ রাখাই যায়।
