শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রত্যেক অভিভাবকদের দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে শিশুর জন্য ডায়াপারের ব্যবহার বেড়েছে। যা শিশুর স্বাস্থ্যগত দিকেও প্রভাব ফেলে। ডায়াপার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ এটি শিশুর আরাম ও স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ডায়াপারের সঠিক ব্যবহার শিশুর ত্বক সুস্থ রাখার পাশাপাশি, আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে। আজকাল শিশুদের বেশির ভাগ সময় ডায়াপার পরিয়ে রাখা হয়। এতে বাচ্চারা যেমন আরামে ঘুমাতে পারে, তেমনি মা–বাবাও কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু সঠিকভাবে ডায়াপার ব্যবহার না করলে শিশুর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। ডায়াপার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে ডায়াপারের শোষণক্ষমতার দিকে। তারপর দেখুন সেটা আরামদায়ক কি না ও পাশ দিয়ে চুইয়ে পড়ে কি না। ডায়াপার শিশুকে খুব আঁটসাঁট করে পরানো উচিত নয়। এতে পায়ে ও কোমরের আশপাশে দাগ বসে যেতে পারে। জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধ করতে শিশুর ডায়াপার বদলানোর পর ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ডায়াপার বদলানোর সময় ভেজা কাপড়, তুলার তৈরি বল অথবা বেবি ওয়াইপস (ভেজা টিস্যু) ব্যবহার করে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
শিশুর জন্য ডায়াপার বর্তমান সময়ে আর কোন বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন হিসাবে দেখা দিয়েছে। ব্যাস্ত জীবনের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য হোক, অথবা শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য – ডায়াপারই এখন আধুনিক মায়েদের প্রথম পছন্দ। তবে এটি ব্যাবহারের বিপক্ষে যে একেবারে কোন যুক্তি প্রচলিত নেই তাও কিন্তু নয়। তবু আমাদের সমাজের বেশীরভাগ মায়েরাই এখন ডায়াপার এর উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

এদিকে ডায়াপার যারা ব্যাবহার করেন এবং যারা করেন না, এই উভয় গোষ্ঠীর মাঝেই ডায়াপার নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু সংশয়। তবে সত্যি বলতে সেই সংশয় সম্পর্কে বিস্তারিত সদুত্তর খুব একটা কোথাও চোখে পড়ে না। তাই আজ এই ব্লগে আমরা চেষ্টা করব ডায়াপার সম্বন্ধে আপনাদেরকে একটা বিস্তারিত ধারণা দিতে। তো চলুন একেবারে গোঁড়া থেকে শুরু করা যাক।
সঠিক আকারের ডায়াপার
শিশুর জন্য ডায়াপার বেছে নেওয়ার সময় তাদের বয়স, ওজন এবং গঠনের দিকে খেয়াল রাখুন। সেই অনুযায়ী ডায়াপারের সঠিক আকার নির্বাচন করুন। ডায়াপার ছোট বা বড় হলে তা শিশুর ত্বকে র্যাশ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আরামদায়কও হয় না। বাজারে বিভিন্ন আকারের ডায়াপার পাওয়া যায়—নিউবর্ন থেকে শুরু করে টডলার পর্যন্ত। শিশুর জন্য উপযুক্ত সাইজের ডায়াপার কিনতে প্যাকেটের গায়ে লেখা ওজন নির্দেশিকা দেখে কিনুন।
মানসম্পন্ন ডায়াপার ব্যবহার
ডায়াপারের মান ভালো হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নমানের ডায়াপার শিশুর ত্বকের ক্ষতি করে। শিশুকে অস্বস্তিতে ফেলে। উচ্চমানের ডায়াপার সাধারণত ত্বকের সঙ্গে নরম অনুভূতি দেয়। এর ভালো শোষণ ক্ষমতাও থাকে। কিছু ব্র্যান্ড ত্বক-বান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। যা নবজাতকের নরম ত্বকের জন্য নিরাপদ।
সময়মতো ডায়াপার পরিবর্তন
ডায়াপার পরিবর্তনে দেরি করা একদমই ঠিক নয়। এতে শিশুর ত্বক দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতায় থাকে। যা র্যাশ, লালচে ভাব এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার কারণ হয়। শিশুর ডায়াপার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ডায়াপার ভিজে গেলে বা মল-মূত্র হলে দ্রুত বদলে ফেলতে হবে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা পরপর ডায়াপার বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

ডায়াপার ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করা
প্রতিবার ডায়াপার বদলানোর আগে শিশুর ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। কুসুম গরম পানি এবং নরম কাপড় ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি, মাইল্ড এবং অ্যালকোহল-মুক্ত ওয়াইপস ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কার করার পর তা শুকিয়ে নিতে হবে, কারণ ভেজা ত্বকে নতুন ডায়াপার পরালে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
ডায়াপার র্যাশ থেকে রক্ষা
ডায়াপার র্যাশ শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা। এটি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা ডায়াপার পরা বা নিম্নমানের ডায়াপারের কারণে হয়। র্যাশ এড়ানোর জন্য প্রতিবার ডায়াপার বদলানোর পর শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা ডায়াপার র্যাশ ক্রিম ব্যবহার করুন। জিঙ্ক অক্সাইড বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ক্রিম র্যাশ প্রতিরোধে কার্যকর।
ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা
শিশুর ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত কিছুক্ষণ ডায়াপার ছাড়া রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ডায়াপার পরার ফলে ত্বকের আর্দ্রতা বেড়ে যায়। ত্বক পর্যাপ্ত বাতাস পায় না। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য শিশুকে ডায়াপারমুক্ত রেখে তাদের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন। এটি র্যাশ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
রাতের জন্য বিশেষ ডায়াপার ব্যবহার
রাতে শিশুর জন্য দীর্ঘক্ষণ শোষণক্ষম ডায়াপার ব্যবহার করা ভালো। রাতে ঘুমের সময় বারবার ডায়াপার বদলানো সম্ভব না হওয়ায় লং-লাস্টিং ডায়াপার ব্যবহার করা উপযোগী। এ ধরনের ডায়াপার দীর্ঘ সময় ধরে মল-মূত্র শোষণ করে শিশুকে আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করে। তবে সকালে উঠে প্রথম কাজই হওয়া উচিত ডায়াপার পরিবর্তন করা।
নতুন ডায়াপার চালু করার সময় সতর্কতা
প্রথমবার একটি নতুন ব্র্যান্ড বা ধরনের ডায়াপার ব্যবহার করার আগে তা শিশুর ত্বকে মানানসই কিনা পরীক্ষা করুন। নতুন ডায়াপারের কারণে শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশ হতে পারে। প্রথমে অল্প সময়ের জন্য ডায়াপারটি ব্যবহার করে দেখুন এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে ব্র্যান্ড পরিবর্তন করুন।
শিশুর ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্ন
ডায়াপার ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুর ত্বকের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন শিশুর ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে নরম এবং মসৃণ রাখবে।
সঠিক উপাদানের ডায়াপার পছন্দ করা
ডায়াপার কেনার সময় নিশ্চিত করুন, এটি ত্বক-বান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি। কিছু ডায়াপারে কেমিক্যাল এবং সুগন্ধি থাকে, যা শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিক-মুক্ত ডায়াপার বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
পরিবেশবান্ধব ডায়াপার বিবেচনা
বাজারে পরিবেশবান্ধব বা বায়োডিগ্রেডেবল ডায়াপার পাওয়া যায়। এগুলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। আপনি চাইলে এই ধরনের ডায়াপার ব্যবহার করতে পারেন।
ডায়াপার স্টোরেজ এবং ডিসপোজাল
ডায়াপার সংরক্ষণ করার সময় সেগুলোকে শুকনো এবং ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন, যাতে তা নষ্ট না হয়। ব্যবহৃত ডায়াপার সঠিকভাবে ফেলে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেটজাত পদ্ধতিতে ডায়াপার ফেলে দিন, যাতে তা পরিবেশে দুর্গন্ধ বা দূষণ সৃষ্টি না করে।
আরও পড়ুন: শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন?
প্রশ্ন-১: ডায়াপার এর উৎপত্তি প্রথম কবে কোথায় হয়েছিল?
উত্তর- বর্তমান সময়ে আমরা ডায়াপার এর যে ধরণটি দেখতে পাই তার উৎপত্তি হয়েছিল উনিশ শতকের দিকে। তবে তখনকার ডায়াপারগুলো কিন্তু এখনকার চেয়ে ছিল অনেকটাই আলাদা। ওই সময়ের ডায়াপারগুলো কটন কাপড় দিয়ে বানানো হত এবং সেগুলো আটকাবার জন্য সেফটি পিন ব্যাবহার করা হতো। পরে ১৮৮৭ এর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে মারিয়া অ্যালেন নামক এক ভদ্রমহিলা প্রথম এই কাপড়ের ডায়াপার এর ম্যাস প্রোডাকশন শুরু করেন।
প্রশ্ন-২: ডায়াপার এর নামকরণ কিভাবে হলো?
উত্তর- মধ্যযুগীয় আমলে ইংরেজি ভাষায় ‘ডায়াপার’ বলতে এমন এক ধরণের সাদা সুতি বা লিনেন কাপড়কে বোঝাতো যার উপরে রম্বাস আকৃতির ডিজাইন থাকত। ধারণা করা হয় যে এই জাতীয় কাপড় থেকেই প্রথম ডায়াপার বানানোর কারণে বা কাপড়কে ঠিক এই প্যাটার্নে কেটে ডায়াপার বানাবার কারণেই এর নাম ‘ডায়াপার’ রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন-৩: ডায়াপার কত ধরণের হয়?
উত্তর– দুই ধরণের। ডিসপোজেবল ডায়াপার এবং নন-ডিসপোজেবল বা ক্লথ ডায়াপার। ডিসপোজেবল ডায়াপার বলতে বোঝায় যেগুলো আমরা একবার ব্যাবহারের পর ফেলে দিতে পারি। বাজারে সাধারণত আমরা যে ডায়াপারগুলো দেখি তা সবই এই প্রকারের। আর ক্লথ ডায়াপার হল কাপড়ের তৈরি এক ধরণের ডায়াপার যা আমরা একবার ব্যাবহারের পর ধুয়ে পুনরায় ব্যাবহার অর্থাৎ রিইউজ করতে পারি। যদিও এই ক্লথ ডায়াপার এর ভেতরেও এমন একটা অংশ থাকে যেটা ব্যাবহারের পর ফেলে দিতে হয়।
প্রশ্ন-৪: আমার শিশুর জন্য কোন ধরণের ডায়াপার ভালো হবে?
উত্তর- ডিসপোজেবল বা ক্লথ – দুটোই শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমানভাবে কার্যকরী। তবে অ্যাভেইল্যাবিলিটির দিক থেকে বিচার করলে ডিসপোজেবল ডায়াপার এর পাল্লাই ভারী থাকে কারণ এগুলো সহজলভ্য। মেট্রোপলিটান শহরের সুপার স্টোর থেকে শুরু করে মফস্বলের মুদি বা ওষুধের দোকান, সবখানেই এগুলো কিনতে পাওয়া যায়। তবে খরচ এবং পরিবেশগত দিক থেকে বিচার করতে গেলে ক্লথ ডায়াপারই বেস্ট। কারণ রিইউজ করতে পারার কারণে ডিসপোজেবল ডায়াপার এর চেয়ে এর খরচ পড়ে প্রায় অর্ধেক বা তারও কম। আর কাপড় দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবেশেরও ক্ষতি করে অনেক কম।
প্রশ্ন-৫: আমার শিশুর জন্য ডায়াপার এর সাইজ বা টাইপ নির্ধারণ করব কিভাবে?
উত্তর- বাজারে যে ডায়াপারগুলো পাওয়া যায়, তা সে যে ব্র্যান্ড এরই হোক না কেন, প্রতিটার প্যাকেটের গায়ে সাইজ এবং সেটা কত কেজি ওজনের বাচ্চারা ব্যাবহার করতে পারবে তা উল্লেখ থাকে। যেমন ধরুন কোন এক ডায়াপার এর প্যাকেটে সাইজ লেখা আছে S বা Small, তার নীচে হয়ত লেখা আছে ০-৪ কেজি পর্যন্ত। অর্থাৎ আপনার বাচ্চার ওজন যদি ৪ কেজি বা তার কম হয় তাহলে এই সাইজটা তার জন্য উপযুক্ত। তবে এই সাইজের কোন ইউনিভার্সাল মান নেই। যেমন এক ব্র্যান্ডের ডায়াপারে হয়ত দেখলেন S সাইজ ০-৪ কেজি পর্যন্ত, আবার আরেকটায় হয়ত দেখলেন ০-৩ কেজি পর্যন্ত। তাই প্রথমবার কেনার সময় আপনার শিশুর বয়সী অন্য শিশুরা কোন সাইজটা ব্যাবহার করছে সেটা জেনে অথবা অনুমানের উপর নির্ভর করে আপনাকে কিনতে হবে। এরপর যখন শিশুকে পরানো শুরু করবেন তখন নিজেই বুঝতে পারবেন যে এই সাইজটা তার জন্য ঠিক আছে কিনা। এছাড়া বাজারে যে দুই টাইপের ডায়াপার পাওয়া যায় – স্ট্র্যাপ সিস্টেম এবং প্যান্ট সিস্টেম – এর মধ্যে যেটাতে আপনার শিশু বেশী কমফোর্টেবল বোধ করে সেটাই আপনি ব্যাবহার করতে পারেন।
প্রশ্ন-৬: ডায়াপার কতক্ষণ পর পর বদলানো উচিৎ?
উত্তর- এটি নির্ভর করে ডায়াপার এর শোষণক্ষমতা কতখানি এবং আপনার শিশু কত বার হিসু করছে তার উপর। সাধারণত বিশেষজ্ঞরা ২/৩ ঘণ্টা অন্তর ডায়াপার বদলাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেটা দিনে হোক, অথবা রাতে। তবে আপনার শিশু যদি কোন কারণে বেশিবার হিসু করে তাহলে এর আগেও বদলে দেবার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু কিছু ব্র্যান্ডের ডায়াপারে ওয়েটনেস ইন্ডিকেটর দেয়া আছে যেটা দেখলে বোঝা যাবে যে ডায়াপার কতখানি ভিজেছে। ওটা দেখেও ডায়াপার বদলাবার সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে বাচ্চা হাগু করলে সাথেসাথেই ডায়াপার বদলে দিতে হবে।
প্রশ্ন-৭: ডায়াপার বদলাবার সময় কি কি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে?
উত্তর- ডায়াপার বদলাবার সময় বেশ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-
- ডায়াপার বদলাবার সময় শিশু যাতে যথাসম্ভব কম নড়াচড়া করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিন। প্রয়োজনে শিশুর দুপাশে বালিশ দিয়ে দিন।
- ডায়াপার খোলার আগে শিশুর নিম্নদেশের নীচে একটা কাঁথা বা তোয়ালে বিছিয়ে দিন, যাতে খোলা অবস্থায় হিসু করলেও বিছানা অথবা আপনি ভিজে না যান।
- স্ট্র্যাপ আলগোছে খুলে বা প্যান্ট দুপাশ থেকে ছিঁড়ে বাবুর দুই পা আলতো করে ধরে খানিকটা উঁচু করে ডায়াপার টেনে সরিয়ে নিন।
- এবার শিশুর যে জায়গাগুলো ডায়াপারে ঢাকা থাকে সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। পরিষ্কার করার জন্য নরম সুতি কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে ব্যাবহার করতে পারেন অথবা ওয়েট টিস্যু ব্যাবহার করতে পারেন। পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই সামনের দিক থেকে পিছনের দিকে মুছবেন। কারণ পিছন থেকে সামনে মুছলে শিশুর, বিশেষ করে মেয়ে শিশুর ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- মুছিয়ে দেবার পর কিছুক্ষণ জায়গাটা উন্মুক্ত রেখে শুকিয়ে নিন। এরপর প্রয়োজনমত বেবি পাউডার, বেবি লোশন, অথবা ডায়াপার জেল লাগিয়ে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। এই পাউডার বা জেল শিশুর ত্বকে র্যাশ ওঠা প্রতিরোধ করবে।
- ডায়াপার বদলের পর পুরনো ডায়াপারটা ময়লার পাত্রে ফেলে দিন। আরও ভালো হয় যদি পলিথিনে মুড়ে ফেলতে পারেন, তাতে ওই ডায়াপার থেকে রোগজীবাণু ছড়াবার আশংকা থাকে না। এরপর আপনার হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
প্রশ্ন-৮: ডায়াপার কি আমার শিশুর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে?
উত্তর- আমাদের সমাজে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে যে ডায়াপার ব্যাবহার করলে শিশুর কোমর চিকন হয়ে যায়, শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না, ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে এই ধারনাগুলোর কোন প্রমাণিত ভিত্তি নেই। বরং অনেকসময় দেখা যায় যে কাঁথা ব্যাবহারের ফলে এটা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যায় যে শিশু কখন হিসু করল। তখন শিশু আরও তুলনামূলক বেশী সময় ভেজা অবস্থায় থাকে যেখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বা শিশুর র্যাশ হতে পারে। তাই সঠিক সাইজের ডায়াপার নিয়ম মেনে ব্যাবহার করলে বরং শিশুর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
প্রশ্ন-৯: কোন ব্র্যান্ডের বা কেমন দামের ডায়াপার আমার শিশুর জন্য কেনা উচিৎ?
উত্তর- বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এবং দামের ডায়াপার কিনতে পাওয়া যায়। বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর দাম একটু বেশী থাকে, আবার দেশীগুলোর একটু কম। ব্র্যান্ড বা দামের ব্যাপারে আমরা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। তবে বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের যে ডায়াপার পাওয়া যায় সেগুলোই আমরা ব্যাবহার করার পরামর্শ দেই। কারণ কমদামী ডায়াপার সাধারণত ভালো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি করা হয় না। তাই এগুলো ব্যাবহারে শিশুর র্যাশ বা অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দেশী হোক কিংবা বিদেশী, ভালো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি ডায়াপারই ব্যাবহার করুন।
প্রশ্ন-১০: ডায়াপার দিনে কতক্ষণ ব্যাবহার করা শ্রেয়?
উত্তর- এরকম কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সঠিক উপায়ে আপনি ২৪ ঘণ্টাই ডায়াপার পরিয়ে রাখতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা দিনের একটা অংশ শিশুকে ডায়াপার ছাড়া রাখার পরামর্শ দেন। এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
ডায়াপার থেকে র্যাশ হলে কী করবেন
অনেক সময় দেখা যায় সব সতর্কতা মেনে চলার পরও শিশুর ডায়াপার র্যাশ হচ্ছে। এর জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরোয়া ব্যবস্থা নেওয়া যায়—
কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুর নিতম্ব ধুয়ে, নরম তোয়ালে দিয়ে শুকনা করে মুছে নিন। এবার ফুসকুড়ি বা র্যাশের ওপরে কিছু নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, নারকেল তেলের বেশ কিছু জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে।
ডায়াপার পরানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি বা অ্যালোভেরার জেলও ব্যবহার করা যায়।
দিনের কিছুটা সময় শিশুকে ডায়াপার ছাড়া রাখুন। এতে ত্বক বাতাসের সংস্পর্শ পাবে আর র্যাশ কম হবে।
তবে যদি র্যাশের সঙ্গে জ্বর, ফোসকা ইত্যাদি হয় অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
