অটিজম বা প্রতিবন্ধকতার বৈশিষ্ট্য নিয়েই একটি শিশু মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়। অর্থাৎ অটিজম বিষয়টি জন্মগত। শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসব লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। মা-বাবা বা পরিবারের অন্যান্যরা একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারেন অন্য শিশুদের সঙ্গে তার আচরণগত পার্থক্য।
জন্মগতভাবে অনেক শিশুই বোবা বা বাক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মে। বিভিন্ন কারণে এমনটা হতে পারে। যেমন- জিনগত ত্রুটি, গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি, সংক্রমণ, বা প্রসবের সময় জটিলতা ইত্যাদি।
শিশু বাক প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাব্য কিছু কারণ চলুন জেনে নেওয়া যাক-
জিনগত ত্রুটি (Genetic Defect)
বাবা-মায়ের জিনগত ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো রোগের কারণে সন্তানের জন্মগতভাবে কথা বলতে বা শুনতে সমস্যা হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি (Malnutrition)
গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি সন্তানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মায়ের পুষ্টির অভাব হলে সন্তানের সঠিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এতে জন্মগতভাবে কথা বলতে বা শুনতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
মায়ের গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ (Infection)
গর্ভাবস্থায় মায়ের কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ যেমন রুবেলা বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে তা পরবর্তীতে সন্তানের জন্মগতভাবে কথা বলা বা শোনায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রসবের সময় জটিলতা (Complications during Delivery)
প্রসবের সময় জটিলতা কিংবা অক্সিজেনের অভাব হলে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। যা জন্মগতভাবে কথা বলা বা শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা (Other Neurological Problems)
জন্মগতভাবে স্নায়বিক কোনো সমস্যা বা আঘাতের কারণেও কথা বলতে বা শুনতে সমস্যা হতে পারে।
শারীরিক গঠনগত ত্রুটি (Physical Abnormalities)
জন্মগতভাবে মুখ বা থুতনির গঠনগত কোনো ত্রুটি থাকলে সেটির কারণেও কথা বলতে সমস্যা হতে পারে।
মা-বাবা বোবা হলে কি সন্তানও বোবা হতে পারে?
মা-বাবা বোবা হলে সন্তানের বোবা হওয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণে বা অন্য কোনো কারণে সন্তানের মধ্যে ভাষা বা যোগাযোগের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
কিছু জিনগত ত্রুটি বা রোগের কারণে বাবা-মা বোবা হলে সেই ত্রুটি সন্তানের মধ্যে বংশগতির মাধ্যমে বাহিত হতে পারে। যা তাদের ভাষা বা যোগাযোগের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
