শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ কিভাবে হয়?

0
4

শিশুর বৃদ্ধি একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একেকটা বয়সে শিশুর একেক কাজ করা উচিত। একে বলে বিকাশের স্তর। তবে বয়স অনুযায়ী শিশু কাজকর্ম করছে কি না সেদিকে নিয়মিত নজর রাখা উচিত প্রত্যেক মা-বাবার। শিশু অন্য রকম আচরণ করছে কি না আর করলে কেন করছে? কখনো কখনো তার বিকাশ কোনো কোনো বিষয়ে সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের তুলনায় ধীরে হতে পারে। কিন্তু অন্য বিষয়ে হয়তো অন্যদের থেকে অনেক আগে হতে পারে।

দৈহিক সক্ষমতা

–    নবজাতক : হাত-পা গোটানো, মাথা ধরে রাখতে পারে না, হেলে যায়।

–    তিন মাস বয়সে : ঘাড় এখন শক্ত, মাথা ধরে রাখতে পারে।

–    ছয়-আট মাস : কোনো সাহায্য ছাড়া বসতে পারে। 

–    ছয় মাস বয়সে পিঠ বাঁকা অবস্থায় বসতে পারে। 

–    আট মাস বয়সে পিঠ সোজা রেখে বসতে পারে।

–    ৮-৯ মাস : হামাগুড়ি দিতে পারে।

–    ১০ মাস : খাট বা আসবাব ধরে হাঁটে।

–    ১২ মাস : একা একা টলমল হাঁটে।

–    ১৫ মাস : স্থিরভাবে হাঁটে।


দৃষ্টিশক্তি ও সূক্ষ্ম নৈপুণ্য

–    ছয় সপ্তাহ : চোখের সামনে থাকা বস্তু মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পারে।

–    চার মাস : খেলনা ধরার জন্য প্রচেষ্টা।

–    চার থেকে ছয় মাস : মুঠো করে জিনিস ধরতে সক্ষম।

–    সাত মাস : এক হাত থেকে অন্য হাতে খেলনা বদল।

–    ১০ মাস : বুড়ো আঙুলের সাহায্যে খুঁটিয়ে জিনিস ধরা।

–    ১৬ থেকে ১৮ মাস : রংপেন্সিল দিয়ে আঁকিবুঁকি।

১৪ মাস থেকে ৪ বছর

–    ১৫ মাস : তিন স্তরের টাওয়ার বসাতে সক্ষম।

–    দুই বছর : ছয় স্তরের টাওয়ার।

–    চার বছর : দেখিয়ে দিলে ধাপ বসাতে সক্ষম।

দুই থেকে পাঁচ বছর

–    দুই বছরে : সরলরেখা (লাইন) টানতে পারে।

–    তিন বছর : বৃত্ত আঁকতে পারে।

–    সাড়ে তিন বছর : ক্রস আঁকতে পারে।

–    চার বছর : চতুর্ভুজ আঁকা।

–    পাঁচ বছর : ত্রিভুজ আঁকা।

কানে শোনা-কথা বলা

–    নবজাতক : চমকে ওঠে।

–    তিন-চার মাস : হাসে, মুখে বোল।

–    সাত মাস : চোখে না দেখে সামান্য শব্দের উৎস অনুসন্ধান।

–    সাত থেকে ১০ মাস : দা-দা, মা-মা উচ্চারণ।

–    ১২ মাস : দা-দা, মা-মা ছাড়াও দুই বা তিন শব্দ বলা।

–    ১৮ মাস : ছয় থেকে ১০টি পর্যন্ত শব্দ বলতে পারা। শরীরের দুটি অঙ্গ নির্দেশ করতে পারে; যেমন—তোমার নাক কোনটি?

–    ২০ থেকে ২৪ মাস : দুই বা তিন শব্দ যুক্ত করে সরল বাক্য বলা; যেমন—আমাকে পুতুল দাও।

–    দুই থেকে তিন বছর : তিন শব্দ ব্যবহারপূর্বক বাক্যসহ অনবরত কথা বলতে থাকা; যেমন—আমাকে জোরে ধাক্কা দাও।

সামাজিক, মানসিক, আচরণগত বিকাশ 

–    ছয় সপ্তাহ : মা বা পরিচিতজনদের দেখে হাসে।

–    ছয় থেকে আট মাস : মুখে খাবার প্রবেশ করাতে পারে।

–    ১০ থেকে ১২ মাস : বাই বাই জানানো।

–    ১২ মাস : দুই হাতে ধরে কাপ থেকে পানীয় পান।

–    ১৮ মাস : চামচে ধরে নিজের খাবার নিজে নিরাপদের সঙ্গে খেতে সক্ষম।

–    ১৮ থেকে ২৪ মাস : নিজের ব্যবহৃত কাপ দিয়ে পুতুলকে খাওয়ানোর মতো অনুকরণ ভাবনা।

–    দুই বছর : প্রস্রাব-পায়খানা ধরে রাখতে ও কিছু কাপড়চোপড় নিজে নিজে খুলে নিতে সক্ষম।

–    আড়াই থেকে তিন বছর : বন্ধুদের সঙ্গে মিশে খেলাধুলা।

শিশুর বিকাশে বিলম্ব হলে

আলোচিত বিকাশের স্তরগুলোর মধ্যে কয়েকটি যদি শিশুর মধ্যে প্রকাশ না পায়, তবে শিশুর বিকাশ নিয়ে ভাবতে হবে। সাধারণভাবে এই দক্ষতাগুলোর মধ্যে ২৫ শতাংশ না দেখা গেলে বলা যেতে পারে শিশুর বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তা ছাড়া কয়েক মাস পরও যদি শিশু বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক কাজ করতে না পারে, তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার।

লেখক: অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

Previous articleনিখোঁজের ২ দিন পর নদীতে মিলল শিশু তাসমিয়ার মরদেহ
Next articleটিকা অব্যবস্থাপনার বলি শিশুরা
ছোটদেরবন্ধু শিশু অধিকারের মুখপাত্র। সমাজের বঞ্চিত, অসহায়,নিপীড়িত শিশু কিশোর কিশোরীদের কথা বলে। এছাড়াও শিশুদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সহযোগিতা করে। শিশু কিশোর কিশোরীদের কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। বিনয়ের সাথে আমরা বলতে পারি একক ভাবে শিশু কিশোর কিশোরীদের বিষয়ে ছোটদেরবন্ধুর চেয়ে সমৃদ্ধ কোনো ওয়েবসাইট গোটা পৃথিবীতে আছে কি না সন্দেহ। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আপনি এই আয়োজনে একজন আর্থিক সহযোগী হতে পারেন। আবার কেউ চাইলে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। যোগাযোগ: ০১৮৯২৭০০৭৯৩ (হোয়াটসঅ্যাপ) ইমেইল: [email protected]