spot_img
More
    Homeস্কুলের তারকারিয়া দিয়া ক্ষুদে মহাতারকা

    রিয়া দিয়া ক্ষুদে মহাতারকা

    ২০১৪ সাল। এক অনুষ্ঠানে যমজ দিয়া ও রিয়াকে নিয়ে গেছেন বাবা সুজন কান্তি নাথ। সেখানেই তাঁর এক বন্ধু দেখতে পান রিয়া ও দিয়াকে। সেই বন্ধু কাজ করেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। বন্ধুর এমন সুন্দর টুইন বেবিকে দেখে সেদিনই তিনি জানতে চান, তাঁদের মিডিয়ায় কাজ করতে দেবেন কি না? বাবা খানিকক্ষণ ভেবে বলেন, সব কিছু জেনে-বুঝে তার পরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

    হঠাৎ একদিন

    একদিন সেই বন্ধুই ডেকে পাঠান দিয়া ও রিয়ার বাবাকে। রবির একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে গল্পের প্রয়োজনেই একজোড়া যমজ মেয়ে দরকার। সব কিছু শুনে সম্মতি দেন সুজন কান্তি নাথ। তাঁর মতে, টিভিসির গল্পটা খুবই ছোট এবং অনেক মজার ছিল। তাতে প্রধান চরিত্রও তারা। আর শুটিং করতে খুব বেশি সময় লাগার কথাও নয়। সুতরাং…।

    ইলটিং বিলটিং ছট

    এটা ছিল দিয়া ও রিয়ার প্রথম টিভিসি। দুই বোন খেলা করতে করতে হঠাৎ তাদের বাবার কথা মনে পড়ে। বাবাকে ফোন দেয়। বাবা ফোন না ধরলে মজার একটি জাদু ইলটিং বিলটিং ছট বলে আবার ফোন দেয়। তখন ফোন ধরে বাবা।

    ২০১৪ সালে এই বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেন অমিতাভ রেজা। মজার ব্যাপার, অমিতাভ রেজা প্রথমে এত ছোট বাচ্চা দিয়ে শুটিং করতে রাজিই ছিলেন না। আবার বাচ্চা দুটির কিউটনেস দেখে বাদও দিতে চাইছিলেন না। শেষমেশ শুটিং ইউনিটের এক মেয়েকে সার্বক্ষণিক দিয়া ও রিয়ার গাইড বানিয়ে তার মাধ্যমেই শুটিং শেষ করেন তিনি। ছোট বলে শুট করতে তেমন কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। ক্যামেরার সামনে তারা ছিল স্বাভাবিক। জানান দিয়া ও রিয়ার মা কমলিকা চক্রবর্তী।

    যখন টিভির মধ্যে

    শুটিং শেষ হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক পরেই অনএয়ারে আসে ইলটিং বিলটিং ছট। নিজেরা এত দিন যে রঙিন বাক্সে ডোরেমন, ওগি, বারবি এবং টম অ্যান্ড জেরি দেখে আসছে তার মধ্যে এবার নিজেদেরই দেখাচ্ছে। কমলিকা জানান, ওদের বয়স তখন খুবই কম। আনন্দিত হয়েছিল, সেটা ওদের লাফালাফি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। বাসায় নানু, দিদাসহ সবাইকে টিভিসিটা অনএয়ারের সময় ডেকে এনে দেখাত। বলত, ওই দেখো আমরা।

    তারপর আরো তিন

    প্রথম টিভিসির পর এখন পর্যন্ত আরো তিনটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছে এই টুইন। ২০১৪ সালেই তৈরি হয় ইলটিং বিলটিং ছটের সিক্যুয়াল আরেকটি বিজ্ঞাপন। এটি নির্মাণ করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তৃতীয় টিভিসিটাও শুটিং হয় ২০১৪ সালে। এটি বানিয়েছেন রিদওয়ান রনি। সর্বশেষ বিজ্ঞাপনটা নির্মাণ করেন আশফাক উজ্জামান বিপুল।

    শুটিংয়ে এমন দুটি কিউট বেবিকে পেয়ে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন নির্মাতারা। সময় পেলেই তারা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চুল এবং দাড়ি ধরে টেনেছে। আর বিপুল তো ফাঁকা সময়ে দুজনকে দুই ঘাড়ে নিয়ে দৌড়ে বেরিয়েছেন। জানালেন কমলিকা চক্রবর্তী।

    মুখোমুখি দিয়া ও রিয়া

    দিয়া ও রিয়ার কাছে কেমন আছ, জানতে চাইতেই দুজনের একই সঙ্গে উত্তর- ‘ভালো আছি। তুমি কেমন আছ?’

    কোন স্কুলে পড়ো? এবারও দুজনের একই সঙ্গে উত্তর- ‘ওয়াইডাব্লিউসিএ।’

    কোন ক্লাসে? এবারও একই সঙ্গে উত্তর- ‘কেজিতে।’

    বড় হয়ে কী হতে চাও? প্রশ্ন শেষ না হতেই তাদের দুজনের আবারও একই সঙ্গে অবাক করা উত্তর- ‘বিউটিশিয়ান।’

    ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, সরাসরি বিউটিশিয়ান হওয়ার স্বপ্ন তাদের। ব্যাপার খোলসা করেন তাদের মা। ওদের স্বপ্নের শেষ নেই। শুটিং করতে গিয়ে সবাইকে সাজগোজ করতে দেখে এবং নিজেদের সাজানো দেখে ওদের এখন স্বপ্ন বড় হয়ে বিউটিশিয়ান হবে। আবার মা-বাবাকে শিক্ষকতা করতে দেখে কখনো বা আবার শিক্ষক হওয়ার কথাও বলে।

    তবে আপনি কী স্বপ্ন দেখেন দুই মেয়েকে নিয়ে। কোনো ধরাবাঁধা স্বপ্নের কথা বললেন না মা কমলিকা। ‘আমি চাই সবার আগে ওরা ভালো মানুষ হবে। তারপর যে যেদিকে যেতে চাইবে স্বাগত জানাব।’ তবে শুধু টিভিসিতেই সেরা নয় তারা। পড়াশোনা এবং ছবি আঁকায়ও বেশ পটু।

    অম্লমধুর গল্প

    যমজ দুই বোন দেখতে এতটাই একে অন্যের মতো যে দুজনকে আলাদা করা প্রায় কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি তাদের বাবাও মাঝেমধ্যে ভুল করে বসেন আলাদা করতে। তবে ব্যতিক্রম মা কমলিকা। তিনি জানান, দুজনকে শুধু চোখ খোলা রেখে আমার কাছে নিয়ে এলেও বলে দিতে পারব কে রিয়া, কে দিয়া। একবার স্কুলের মার্কশিটে দিয়ার ছবি রিয়ার মার্কশিটে লাগিয়ে দিলে ঠিকই ধরে ফেলেছিলেন কমলিকা। পরে স্কুলের শিক্ষকরা জানান, দুজনের ছবি তো একই রকম। তাই ভুলটা হয়েছে! এই অসুবিধায় যাতে আর পড়তে না হয় সে জন্য ওদের পাসপোর্টের জন্য আলাদা জামাকাপড় পরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে।

    এই তারকা খ্যাতির জন্য স্কুলেও তাদের বেশ সমাদর সহপাঠীদের কাছে। একবার একটি দৈনিকে তাদের ছবিসহ ফিচার বের হলে এক বান্ধবী সেই পত্রিকা খুলে এনে ক্লাসের সবাইকে দেখিয়েছিল।

    তাদের নিয়ে শপিং করতে গেলেও চিনে ফেলে অনেকে। ছবি তুলতে চায়। একবার একটি ছেলে বেশ দূর থেকে অনুসরণ করে এক ট্র্যাফিক জ্যামের কাছে এসে বলে ওঠে, ইলটিং বিলটিং ছট।

    এত কিছুর পর কেউ যখন চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা রাজশাহী থেকে ফোন দিয়ে বলে, তোমার মেয়েদের ছবি দেখছি, তখন অন্য রকম এক ভালো লাগা এসে ভর করে মা-বাবার মনে। দিয়া-রিয়ার বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে দেশটা। বড় বড় শহর আর প্রায় রাস্তার মোড়গুলোতে তাদের দেখা পাওয়া যায়।

    আপাতত কেবলই রবি

    রবির বাইরে আর কোনো কম্পানির বিজ্ঞাপনে কাজ করতে দিতে চাইছেন না কমলিকা। জানান, রবির মাধ্যমেই ওদের পরিচয়। তা ছাড়া ওরা অনেক ছোট। সেটাও ভাবতে হচ্ছে। তবে নতুন কাজের প্রস্তাব আসার বিরাম নেই। এখন পর্যন্ত প্রায় পঁচিশটি বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছে দিয়া-রিয়া।

    RELATED ARTICLES

    16 COMMENTS

    Comments are closed.

    Most Popular