আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত্। এ জন্য শিশুর সঠিক বিকাশ অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। একটি পরিবার যেমন চায় তার শিশুটি সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে বেড়ে উঠুক, তেমনি রাষ্ট্রও চায় সুস্থ নাগরিক। প্রতিটি শিশু আলাদা হলেও সবার বেড়ে ওঠার ধরন প্রায় একই রকম।
শিশুর বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিকাশের বিভিন্ন স্তর আছে। এই স্তর অনুযায়ী শিশু একেকটা বয়সে একেক ধরনের কাজ করবে। এগুলো থেকেই বোঝা যাবে শিশুটি স্বাভাবিক ও সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কিনা।
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব, স্পিচ ডিলে, দেরিতে হাটা এ রকম লক্ষণগুলো অস্বাভাবিক আচরণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়া
শিশুর ওজন জন্মের পর ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দ্বিগুণ হবে এবং তার প্রথম জন্মদিনে তিন গুণ হবে। এটা হচ্ছে শিশুর সাধারণ ওজন বাড়ার প্রক্রিয়া। যদি দেখেন শিশুর ওজন সেভাবে বাড়ছে না, তাহলে হেলাফেলা করবেন না।
চিকিত্সককে দেখান।
১-২ মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে
হাত মুখের কাছে আনা, একটু দূরের বস্তুগুলোতে দৃষ্টি দেওয়া, হঠাত্ আওয়াজে চমকে যাওয়া,কোনো জিনিসের ওপর দৃষ্টি স্থির করে রাখা, হাত-পা সমানভাবে নাড়ানো, মাথা এক দিকে ফিরিয়ে চিত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করা—যদি কোনো বাচ্চা এই কাজগুলো এই বয়সে না করে তাহলে তা স্বাভাবিক নয়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ শিশুর দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ঠিক আছে কি না তা এই সময়ে বোঝা যাবে।
উপুড় না হওয়া
ছয় মাসের পর থেকে চিত থেকে উপুড় বা উপুড় থেকে চিত হতে পারে শিশুরা। পেছনে সাপোর্ট বা ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসতে পারে। কিছু শিশু সাপোর্ট ছাড়াও বসতে পারবে, এতে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর পরেও যদি কোনো শিশু এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি না করে তাহলে কিছুটা চিন্তার বিষয়।
অনুভূতির প্রকাশ
৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে শিশুরা বিভিন্ন শব্দ করে নিজের খুশি বা কষ্ট প্রকাশ করবে। নিজের নাম বুঝতে পারবে, কেউ তার নাম ধরে ডাকলে সেদিকে তাকাবে। বিভিন্ন ধরনের সাউন্ড (বাবলিং) করতে পারবে। এই সময়ে বাবলিং করাটা জরুরি। কোনো শিশু বাবলিং না করলে তার সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলতে হবে।
সাপোর্ট ছাড়া বসতে না পারা
সাধারণত ৯ মাসের মধ্যেই শিশুরা একা একা বসতে শিখে যায় এবং বিছানায় রোলিং করতে পারে। শোয়া থেকে বসার অবস্থানে যেতে পারাটাও এই বয়সের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদি কোনো শিশুর এই সময়ে বসার প্রবণতা না থাকে তাহলে এটি স্বাভাবিক আচরণ নয়।
হামাগুড়ি না দেওয়া
৮ থেকে ১০ মাস বয়সে শিশুরা হামাগুড়ি দেওয়া এবং কোনো কিছু ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে শেখে। অনেক শিশু হামাগুড়ি দেয় না, একবারে হাঁটা শিখে ফেলে। সব শিশুর ডেভেলপমেন্ট এক রকম হয় না। তবে বেশির ভাগ শিশুই হামাগুড়ি পর্যায়টি পার করে।
হাত দিয়ে ইশারা না করা
১২ মাসের মধ্যেই শিশুরা হাত দিয়ে ইশারা করতে পারে। তর্জনী ও বুড়ো আঙুল দিয়ে কোনো জিনিস আঁকড়ে ধরতে পারে। খেলনা এক হাত থেকে আরেক হাতে নেয়। রঙিন জিনিস হাত বাড়িয়ে ধরতে চায়। কোনো জিনিস সে আঙুল উঠিয়ে চাচ্ছে কি না এটা খেয়াল করা এই বয়সে জরুরি। যদি শিশু আঙুল দিয়ে কোনো কিছু না দেখায় তাহলে অনেক ক্ষেত্রে এটি অটিজমের লক্ষণ হতে পারে।
শব্দ বলতে শুরু না করা
১২ মাসের মধ্যেই শিশুরা মা, বাবা, মামা, দাদা—এই ধরনের ছোট পরিপূর্ণ শব্দ বলতে শুরু করে। যদি না করে সেটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এসব ক্ষেত্রে শিশুদের দেরিতে কথা বলা বা স্পিচ ডিলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হাঁটতে বেশি বিলম্ব হওয়া
সাধারণত দেড় বছর বয়সে শিশুরা হাত ধরে হাঁটতে পারে, অনেক শিশু হাঁটা শিখেও যায়। অনেক শিশু আবার ১৫ মাসের মধ্যে ভালোভাবে হাঁটা শিখে যায়। এর পরও কোনো শিশু যদি হাঁটা না শেখে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
নির্দেশ বুঝতে না পারলে
এক বছর বয়সে শিশুরা সাধারণ নির্দেশগুলো বুঝতে শিখে যায়। কোনো শব্দ বললে সেটা সে অনুকরণ করতে চাইবে। কোন জিনিস দিয়ে কী করে, সেটাও বুঝে যায়। যেমন—স্পুন দিয়ে খাবার খাওয়া, ফিডারে দুধ খাওয়া। যদি সে না বোঝে তাহলে বুঝতে হবে তার বিকাশ স্বভাবিক নয়।
