শিশুর মানসিক টানাপোড়েন অভিভাবকদের করণীয়

0
262

হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলেন, আপনার সন্তান যেন অনেকটাই অমনোযোগী হয়ে উঠেছে। স্কুলের কাজ, খেলাধুলা, বন্ধু-বান্ধব কোনকিছুতেই ওর মন নেই। কেন এমন হচ্ছে? মন ভালো নেই? এ তো বড়দের রোগ। ওর কি হলো তাহলে! না, এসব শুধু বড়দের না, ছোটদের বেলায়ও হতে পারে। শিশুদের আচরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক সময়েই দুষ্টুমি ভেবে যা আমরা এড়িয়ে যাই। যা শিশুর পরবর্তী জীবনে গিয়ে নানারকম মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

একটা সময় ছিল যখন ডিপ্রেশন, মেন্টাল স্ট্রেস এসব শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিতই ছিলাম না। কিন্তু ইদানিং এগুলোর শিকার হচ্ছে মানুষ। শিশুদের মধ্যেও মানসিক অবসাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিশুর অবসাদের পেছনের কারণগুলো লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন তাকে তাদের বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে।
কী কারণে মনের উপর চাপ বাড়ছে শিশুদের?

১. এখনকার সময়ে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে স্কুলে ও বাড়িতে সমানতালেই চাপ বাড়ছে তাদের উপর। প্রতিযোগিতার দৌড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্ট্রেস।

২. আগে শিশুরা অনেক বেশি খেলাধুলা করার সুযোগ পেত। কিন্তু এখন স্কুলের পড়ার বাইরে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি এতটাই বেশি করতে হয় যে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা, খেলাধুলার সময় নেই। এটাও শিশুদের মধ্যে একাকীত্ব বাড়াচ্ছে।

৩. আজকের দিনের শিশুরা অনেক বেশি ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত। সারাদিন ল্যাপটপ, মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় ওদের জানার বিষয়গুলো এতো বেশি বিস্তৃত হচ্ছে যে হিতে বিপরীত হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের এমন অনেক বিষয় জেনে যাচ্ছে যা তাদের জানার কথাই নয়।

৪. এ যুগে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস পাল্টে গেছে । যখন তখন খাওয়া, অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ঝোঁকে ওজন বাড়ছে শিশুদের। ফলে তাদের শরীরের পুষ্টির পাশাপাশি মস্তিষ্কের পুষ্টিতেও কমতি থেকে যাচ্ছে।

এছাড়াও নানা কারণে শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় স্কুলে হেনস্থার শিকার হতে হয় তাদের। এছাড়া বাড়ির অসুস্থ পরিবেশ, মা-বাবার মধ্যে সম্পর্কজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতোও ঘটনা শিশুদের ঘটে থাকতে পারে। তবে মানসিক সমস্যার পিছনে সব সময়ে যে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকবে, এমনটা না-ও হতে পারে। বাড়ি, স্কুলে কোথাও কোনো সমস্যা নেই, তা-ও শিশুর মন খারাপ, এমনটাও হতে পারে।

সমস্যার গভীরতা এবং কারণ বুঝে কীভাবে এ থেকে সন্তানকে বের করে আনবেন তা স্থির করতে হবে আপনাকেই। চিকিৎসার আগে সন্তানের মন ভালো রাখার দায়িত্ব মা-বাবাকেই নিতে হবে। সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উৎসাহ এবং অস্থিরতা কাটাতে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। ওদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, বেড়াতে যাওয়ার মতো সময় বের করতে হবে। ছোটরা যে কাজগুলোর মধ্য দিয়েই নিজের মনের ভাব ফুটিয়ে তুলতে সেসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মোবাইল গেম, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সরিয়ে ছবি আঁকতে দিন।

কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা থাকলে সন্তানের সামনে কখনও ঝগড়া-অশান্তি করবেন না। পরিবারের কোনো ঝামেলা আছে এটা বুঝতে পারলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে তা বিরূপ প্রভাব ফেলে।

Previous articleশিশুর ট্রমা কাটিয়ে তুলতে কী করবেন?
Next articleবয়স অনুযায়ী শিশুকে যৌন শিক্ষা দিচ্ছেন তো?
ছোটদেরবন্ধু শিশু অধিকারের মুখপাত্র। সমাজের বঞ্চিত, অসহায়,নিপীড়িত শিশু কিশোর কিশোরীদের কথা বলে। এছাড়াও শিশুদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সহযোগিতা করে। শিশু কিশোর কিশোরীদের কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। বিনয়ের সাথে আমরা বলতে পারি একক ভাবে শিশু কিশোর কিশোরীদের বিষয়ে ছোটদেরবন্ধুর চেয়ে সমৃদ্ধ কোনো ওয়েবসাইট গোটা পৃথিবীতে আছে কি না সন্দেহ। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আপনি এই আয়োজনে একজন আর্থিক সহযোগী হতে পারেন। আবার কেউ চাইলে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। যোগাযোগ: ০১৮৯২৭০০৭৯৩ (হোয়াটসঅ্যাপ) ইমেইল: [email protected]