১. রিফ্রেকটিভ এরর
শিশুদের রিফ্রেকটিভ এরর (Refractive Error) হলো এমন একটি চোখের অবস্থা যেখানে চোখের লেন্স বা কর্নিয়ার আলোকে ঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না। ফলে শিশু দূরের বা নিকটের বস্তু পরিষ্কার দেখতে পারে না। শিশুদের মধ্যে এটি অনেক সময় বোঝা যায় না কারণ তারা হয়তো স্বাভাবিকভাবেই তাদের চোখের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
প্রকারভেদ
- মায়োপিয়া (Myopia / Nearsightedness)
- দূরের জিনিস অস্পষ্ট দেখা যায়।
- স্কুলে বোর্ডের লেখা বা দূরের চিহ্ন দেখতে সমস্যা।
- হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia / Farsightedness)
- কাছে দেখার সময় অসুবিধা, দূরের জিনিস বেশ ভালো দেখা যায়।
- ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাভাবিক হতে পারে, কারণ চোখ বড় হতে থাকে।
- অ্যাস্টিগম্যাটিজম (Astigmatism)
- চোখের কর্নিয়ার বা লেন্সের আকার অনিয়মিত হওয়ায় ছবি অস্পষ্ট বা বিকৃত দেখায়।
- উভয় দূর ও কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা যায়।
- প্রিসবাইয়া (Presbyopia) – সাধারণত বয়স্কদের ক্ষেত্রে, শিশুতে খুব কম দেখা যায়।
শিশুদের রিফ্রেকটিভ এররের লক্ষণ
- টিভি বা বোর্ডের লেখা দেখতে চোখ চেপে ধরা বা চোখ ঝাপসা করা
- মাথা ঘুরিয়ে বা ঝুঁকিয়ে দেখে লেখা
- চোখ ঘামানো বা ঘুমের আগে চুলকানো
- চোখ লাল হওয়া বা সহজে ক্লান্তি
- মাথাব্যথা বা চোখ ব্যথা
কারণ
- জেনেটিক (পরিবারে চোখের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বেশি)
- চোখের লেন্স বা কর্নিয়ার আকারের সমস্যা
- চোখের পেশি দুর্বলতা
চিকিৎসা / সমাধান
- চশমা (Corrective glasses)
- কন্টাক্ট লেন্স (উচ্চ বয়সের শিশুদের জন্য)
- লেজার বা সার্জারি – শুধুমাত্র বড় বয়সের ক্ষেত্রে
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, বিশেষ করে স্কুলে পড়া বাচ্চাদের
💡 গুরুত্বপূর্ণ: শিশুদের রিফ্রেকটিভ এরর প্রাথমিকভাবে ধরতে গেলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা খুব জরুরি, কারণ শিশু নিজে কখনো বুঝতে পারে না যে তার চোখে সমস্যা আছে।
এ রোগে আলো ঠিকমতো রেটিনায় ফোকাস হয় না। এ কারণে ঝাপসা দেখে শিশু। শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি রিফ্রেকটিভ এরর হলো—
- এসটিগমাটিজম বা কর্নিয়া বাঁকা বা অনিয়মিত হওয়া
- মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা
- হাইপারোপিয়া বা কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা।
লক্ষণ: বারবার চোখ ছোট করে তাকানো বা মাথা কাত করা, অনেকক্ষণ ধরে পড়াশোনা করার পর বা ডিভাইস দেখার পর মাথাব্যথা হওয়া এবং চোখে চাপ অনুভব করা, বই বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে দেখা, টিভি বা কম্পিউটার খুব কাছে বসে দেখা।
২. অ্যামব্লিওপিয়া বা লেজি আই
অ্যামব্লিওপিয়া (Amblyopia) বা “Lazy Eye” হলো একটি চোখের সমস্যা যেখানে চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ বিকাশ পায় না, যদিও চোখের কাঠামোগত কোনো বড় সমস্যা থাকে না। সাধারণত একটি চোখ বেশি ব্যবহার হয় আর অন্য চোখটি কম ব্যবহৃত হয়, ফলে কম ব্যবহৃত চোখের দৃষ্টি দুর্বল হয়ে যায়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- এক চোখে দৃষ্টি ভালো, অন্য চোখ দুর্বল।
- চোখের কাঠামো স্বাভাবিক থাকলেও দৃষ্টি ঠিকভাবে বিকাশ পায় না।
- শিশু বা প্রারম্ভিক বয়সে বেশি দেখা যায়।
কারণসমূহ
- রিফ্রেকটিভ এরর
- যেমন: এক চোখের মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়া বা অ্যাস্টিগম্যাটিজম।
- এক চোখের দৃষ্টি অস্পষ্ট হলে শিশু অজ্ঞাতভাবে সেই চোখ কম ব্যবহার করে।
- স্ট্র্যাবিসমাস (Strabismus / চোখ ফাঁকানো)
- চোখগুলো সঠিকভাবে মিলিত হয় না, এক চোখ সঠিকভাবে লক্ষ্য করে না।
- শিশুর মস্তিষ্ক দুর্বল চোখের ছবি উপেক্ষা করতে শুরু করে।
- চোখে ব্লক বা বাধা
- যেমন: চোখের আঙ্গিনার ঝাপসা (cataract), চোখে সংক্রমণ বা জলে জমা।
লক্ষণ
- এক চোখ অন্য চোখের তুলনায় দুর্বল দৃষ্টি
- চোখ ফাঁকানো বা চোখ মিলিয়ে না দেখা
- ঘুম বা ক্লান্তির সময় চোখ বন্ধ বা ঝাপসা দেখানো
- স্কুলে বা দৈনন্দিন কাজের সময় এক চোখ বেশি ব্যবহার করা
চিকিৎসা / সমাধান
- চশমা বা লেন্স – রিফ্রেকটিভ এরর সংশোধন।
- প্যাচ থেরাপি (Eye patching) – ভালো চোখ ঢেকে দুর্বল চোখকে ব্যবহার করা।
- চোখের ব্যায়াম / ভিশন থেরাপি – মস্তিষ্ক ও চোখের সমন্বয় বাড়ানো।
- সার্জারি – শুধু চোখ ফাঁকানোর ক্ষেত্রে বা ক্যাটারাক্ট থাকলে।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- অ্যামব্লিওপিয়ার চিকিৎসা শিশুর বয়সে শুরু করা সবচেয়ে কার্যকর, সাধারণত ৮–১০ বছরের মধ্যে।
- বড় হলে চশমা বা প্যাচ থেরাপি দ্বারা পুরোপুরি ঠিক করা কঠিন।
এ রোগে যেকোনো একটি চোখ দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি। শিশু সাধারণত ভালো চোখেটির ওপর নির্ভর করায় রোগটি সহজে ধরা পড়ে না।
লক্ষণ: পড়াশোনা বা খেলাধুলায় সমস্যা, মনোযোগে অসুবিধা, প্রায়ই এক চোখ বন্ধ করে দেখা, বারবার চোখ রগড়ানো, বারবার মাথা কাত করা, চোখ ছোট করে তাকানো।
৩. বাইনোকুলার ভিশন ডিসফাংশন (বিভিডি)
বাইনোকুলার ভিশন ডিসফাংশন (Binocular Vision Dysfunction বা BVD) হলো চোখের এমন একটি সমস্যা যেখানে উভয় চোখ একসাথে মিলিয়ে কাজ করতে পারে না, ফলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে দুই চোখের ছবি একত্রিত করতে পারে না।
মূল ধারণা
- সাধারণ চোখের ক্ষেত্রে, দুই চোখ মিলিয়ে একক, ত্রি-মাত্রিক ছবি মস্তিষ্কে তৈরি করে।
- BVD-তে, দুই চোখের দৃষ্টি সঠিকভাবে সংযুক্ত হয় না, ফলে চোখ এবং মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়।
- ফলে দূর, কাছ বা উভয় অবস্থায় চোখের চাপ এবং ক্লান্তি হয়।
লক্ষণসমূহ
- দূর বা কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা
- মাথা ব্যথা, চোখে চাপ বা ক্লান্তি
- দৃষ্টি মিলিয়ে না হওয়া বা দ্বৈত ছবি দেখা (Double Vision)
- চোখ ঘষা বা ঝাপসা হওয়া
- শ্রেণীকক্ষে বা পড়াশোনার সময় সমস্যা
- ফোকাস ধরে রাখতে কষ্ট
কারণসমূহ
- রিফ্রেকটিভ এরর – এক চোখের দৃষ্টি কম বা অতিরিক্ত দূরের/নিকটের সমস্যা।
- স্ট্র্যাবিসমাস (Strabismus) – চোখগুলো ঠিকভাবে সঙ্কলিত হয় না।
- অ্যামব্লিওপিয়া (Lazy Eye) – এক চোখ দুর্বল থাকলে দুই চোখের মিল নষ্ট হয়।
- চোখের পেশি দুর্বলতা – চোখের চারপাশের পেশি ঠিকভাবে কাজ না করলে।
- চোখের লেজার বা সার্জারির পর – কখনো BVD দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা / সমাধান
- চশমা বা লেন্স – চোখের রিফ্রেকটিভ এরর সংশোধন।
- ভিশন থেরাপি / চোখের ব্যায়াম – দুই চোখের সমন্বয় বাড়ানো।
- প্রিজম লেন্স – চোখকে ফোকাস ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
- সার্জারি – চোখের পেশি বা স্ট্র্যাবিসমাস ঠিক করার জন্য।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- BVD শিশুর পড়াশোনা, কম্পিউটার ব্যবহার, এবং দৈনন্দিন জীবনে দৃষ্টি ও মনোযোগের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- প্রাথমিকভাবে চোখের পরীক্ষা ও ভিশন থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর।
স্বাভাবিক অবস্থায় দুটি চোখ মিলিতভাবে একটি দৃশ্য ফোকাস করে। এ রোগে দুই চোখের সমন্বয় বা অক্ষ ঠিক থাকে না। দুটি চোখ একসঙ্গে কাজ করতে পারে না। ফলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়, দেখার সমস্যা তৈরি হয়।
লক্ষণ: উদ্বেগ বা চাপ, মাথা ঘোরা, দুটো দেখা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, আলোতে সংবেদনশীলতা, চলাচলে অসুবিধা।
৪. কনভারজেন্স ইনসাফিসিয়েন্সি
কনভারজেন্স ইনসাফিসিয়েন্সি (Convergence Insufficiency, CI) হলো এমন একটি চোখের সমস্যা যেখানে দুই চোখ একসাথে নিকটে (near) তাকানোর সময় ঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না। অর্থাৎ, চোখগুলো একত্রে না মিলিয়ে কাজ করে, ফলে কাছের জিনিস দেখতে ঝাপসা বা ক্লান্ত লাগে।
মূল বৈশিষ্ট্য
- প্রধানত নিকট বা কাছের কাজের সময় সমস্যা হয়, যেমন পড়া বা কম্পিউটার ব্যবহার।
- শিশু বা বড় কেউ চোখ মিলিয়ে রাখতে কষ্ট পায়।
- চোখের পেশি ও মস্তিষ্কের সমন্বয় ঠিকভাবে কাজ করে না।
লক্ষণসমূহ
- কাছের লেখা বা বই পড়ার সময় চোখ ঝাপসা বা ক্লান্তি
- মাথা ব্যথা বা চোখে চাপ
- লেখা পড়ার সময় চোখ ঘষা বা বন্ধ করার চেষ্টা
- চোখের সামনে দ্বৈত ছবি দেখা
- মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, স্কুলে পড়াশোনায় ক্লান্তি
কারণসমূহ
- চোখের পেশি দুর্বল বা অসামঞ্জস্য
- শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কের রিফ্রেকটিভ এরর (দূর/নিকট অস্পষ্ট দৃষ্টি)
- জন্মগত বা পরবর্তী চোখের সমন্বয় সমস্যা
চিকিৎসা / সমাধান
- চশমা বা লেন্স – চোখের ফোকাস ঠিক রাখা।
- ভিশন থেরাপি / চোখের ব্যায়াম
- পেন্সিল পুশ-আপ, ফোকাস পরিবর্তন ব্যায়াম, অথবা বিশেষ ভিশন এক্সারসাইজ।
- প্রিজম লেন্স – কিছু ক্ষেত্রে চোখকে ফোকাস ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা – পুনরায় সমন্বয় পরীক্ষা করা।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- কনভারজেন্স ইনসাফিসিয়েন্সি শিশুদের পড়াশোনা, কম্পিউটার বা নিকট কাজের সময় দৃষ্টি ও মনোযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে দৃষ্টি ও মনোযোগ উন্নত হয়।
এটিও এক প্রকার বাইনোকুলার ভিশন সমস্যা, যা চোখের পেশির সমন্বয় নষ্ট করে। এ কারণে শিশু কাছের জিনিস ঠিকমতো দেখতে পায় না।
লক্ষণ: কোনো কিছুতে মনোযোগ না থাকা, চোখে ঝাপসা দেখা, দুটো দেখা, পড়াশোনার সময় ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা, হোমওয়ার্ক করতে না চাওয়া, চলাচলে অসুবিধা বা ভার্টিগো, লেখা ঝাপসা দেখা এবং মাথা কাত করে দেখার চেষ্টা করা।
৫. নিসট্যাগমাস
নিসট্যাগমাস (Nystagmus) হলো এমন একটি চোখের অবস্থা যেখানে চোখ আনিয়মিত, দ্রুত, অচেতনভাবে কম্পন বা দোলা খায়। এটি শিশু ও বড় দুটোই হতে পারে। সাধারণত চোখ একটি দিক থেকে অন্য দিকে অটোমেটিকভাবে যায় এবং ফিরে আসে, ফলে স্থিরভাবে ফোকাস রাখা কঠিন হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- চোখ অন্তঃকেন্দ্রিক বা অনুভূমিকভাবে দোলা খায়।
- শিশু বা বড় কেউ চোখ ধীরে বা দ্রুত নাড়া যায়।
- দৃষ্টি স্থির রাখা কঠিন, ফলে ঝাপসা বা দ্বৈত ছবি দেখা যায়।
কারণসমূহ
- জন্মগত (Congenital Nystagmus)
- শিশুর জন্মের সময় থেকে উপস্থিত।
- চোখের লেন্স বা রেটিনার সমস্যা বা জেনেটিক কারণে।
- অর্জিত (Acquired Nystagmus)
- চোখ বা মস্তিষ্কের সমস্যা, যেমন: স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, নিউরোলজিক ডিসঅর্ডার, ভেস্টিবুলার সমস্যা।
- দৃষ্টি সমস্যা বা লেজি আই (Amblyopia) সহ
- চোখে স্বচ্ছ না থাকা বা রিফ্রেকটিভ এররের কারণে।
লক্ষণসমূহ
- চোখ দ্রুত বা ধীরে দোলা খায়
- ঝাপসা বা দ্বৈত ছবি দেখা
- মাথা হালকা ঘোরানো বা কোন বিশেষ দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ধরে রাখার চেষ্টা
- চোখের ক্লান্তি বা মাথা ব্যথা
চিকিৎসা / সমাধান
- মূল কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা
- যদি লেজি আই, স্ট্র্যাবিসমাস বা রিফ্রেকটিভ এরর থাকে, তা ঠিক করা।
- চশমা বা লেন্স
- চোখের ফোকাস ঠিক রাখতে।
- চিকিৎসা বা সার্জারি
- কিছু ক্ষেত্রে চোখের পেশি সার্জারি বা নিউরোলজিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
- ভিশন থেরাপি
- চোখ ও মস্তিষ্কের সমন্বয় বাড়ানো।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- শিশুর দৃষ্টি বিকাশের জন্য নিসট্যাগমাস সময়মতো শনাক্ত করা জরুরি।
- সঠিক চিকিৎসা না করলে দৃষ্টি দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও পড়াশোনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ রোগে শিশুর চোখ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চারদিকে নড়তে থাকে, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা বা অস্থির হয়ে ওঠে। জন্মগত নিসট্যাগমাস জীবনের প্রথম কয়েক মাসে দেখা দেয়, আর প্রাপ্ত নিসট্যাগমাস জন্মের ছয় মাসের পরে দেখা দেয়।
লক্ষণ: চোখ দ্রুত এবং অনবরত নড়তে থাকা।
৬. প্যাডিয়াট্রিক ক্যাটার্যাক্টস
প্যাডিয়াট্রিক ক্যাটার্যাক্ট (Pediatric Cataracts) হলো শিশুর চোখে লেন্সের ঝাপসা বা অস্পষ্টতা, যা জন্মগত বা শৈশবকালীন হতে পারে। এটি চোখের লেন্সকে স্বচ্ছ না রেখে ধোঁয়া বা সাদা ভাব তৈরি করে, ফলে শিশুর দৃষ্টি কমে যায়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- লেন্স স্বচ্ছ নয়, ধোঁয়া বা সাদা আভা থাকে।
- এক বা দুই চোখেই হতে পারে।
- শিশুর দৃষ্টি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
কারণসমূহ
- জন্মগত (Congenital)
- গর্ভকালীন সময়ে মা কোনো সংক্রমণ, ওষুধ বা জেনেটিক কারণ।
- অর্জিত (Acquired)
- চোখে আঘাত, সংক্রমণ, মেটাবলিক রোগ (যেমন: ডায়াবেটিস), বা দীর্ঘমেয়াদী কিছু ওষুধের কারণে।
লক্ষণসমূহ
- শিশুর চোখের সামনে সাদা বা ধোঁয়া দেখা
- দৃষ্টি অস্পষ্ট বা চোখের চলাফেরায় সমস্যা
- এক চোখ বেশি ব্যবহার করা বা চোখ ঘুরানো
- শিশুর চোখে আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
- বড় শিশুর ক্ষেত্রে স্কুলে পড়াশোনায় সমস্যা
চিকিৎসা / সমাধান
- সার্জারি (Cataract Surgery)
- ঝাপসা লেন্স সরিয়ে স্বচ্ছ লেন্স প্রতিস্থাপন।
- চশমা বা লেন্স
- সার্জারির পর শিশুর চোখের দৃষ্টি ঠিক রাখতে।
- প্যাচ থেরাপি (Eye Patching)
- ভালো চোখ ঢেকে দুর্বল চোখ ব্যবহার করানো, বিশেষ করে অ্যামব্লিওপিয়া থাকলে।
- ভিশন থেরাপি / নিয়মিত চোখ পরীক্ষা
- দৃষ্টি বিকাশ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- প্যাডিয়াট্রিক ক্যাটার্যাক্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তির জন্য জরুরি।
- শিশুর বয়স যত ছোট, সার্জারির প্রভাব তত বেশি কার্যকর।
- সময়মতো চিকিৎসা না করলে স্থায়ী দৃষ্টি হ্রাস বা অ্যামব্লিওপিয়া হতে পারে।
এ রোগে শিশুর চোখে ছানি পড়ে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ হাজার শিশু এ রোগ নিয়ে জন্মায়।
লক্ষণ: চোখের মণির রং ধূসর বা সাদা, মুখ বা জিনিস চিনতে অসুবিধা, ভিন্ন দিকে তাকানো এবং চোখ দ্রুত বা অনবরত নড়তে থাকা।
৭. স্ট্রেবিসমাস বা ট্যারা চোখ
স্ট্র্যাবিসমাস (Strabismus) বা “ট্যারা চোখ” হলো এমন একটি চোখের সমস্যা যেখানে দুই চোখ একসাথে সঠিকভাবে ফোকাস করে না। অর্থাৎ, একটি চোখ মূল লক্ষ্য বা বিষয়ের দিকে তাকায়, আর অন্য চোখ হয় সরে থাকে বা অন্য দিকে তাকায়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- চোখগুলো সমন্বয়হীনভাবে কাজ করে।
- দূর থেকে দেখা যায় যে এক চোখ সরাসরি লক্ষ্য করছে, অন্য চোখ টেনে বা সরে আছে।
- শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সহজে বোঝা যায় না যদি ছোট বা হালকা ঝোঁক থাকে।
প্রকারভেদ
- ইনট্রা-টার্ন (Esotropia) – চোখ ভিতরের দিকে (নাকের দিকে) তাকায়।
- আউট-টার্ন (Exotropia) – চোখ বাইরে (কানের দিকে) তাকায়।
- আপওয়ার্ড বা ডাউনওয়ার্ড টার্ন (Hypertropia / Hypotropia) – চোখ উপরে বা নিচে থাকে।
- কনজাংগেন্ট বা ইন্টারমিটেন্ট – মাঝে মাঝে চোখ সরে থাকে।
কারণসমূহ
- চোখের পেশির দুর্বলতা বা অসামঞ্জস্য
- রিফ্রেকটিভ এরর – দূর বা কাছে অস্পষ্ট দৃষ্টি
- জেনেটিক / পারিবারিক ইতিহাস
- চোখ বা মস্তিষ্কের জন্মগত সমস্যা
লক্ষণসমূহ
- চোখ সঠিকভাবে মিলিয়ে না থাকা
- এক চোখ ঝাপসা দেখানো
- এক চোখ বেশি ব্যবহার করা
- মাথা ঝুঁকানো বা ঘোরানো চোখ ফোকাস ঠিক রাখতে
- দৃষ্টি মিলাতে সমস্যা, মাঝে মাঝে দ্বৈত ছবি দেখা
চিকিৎসা / সমাধান
- চশমা বা লেন্স – রিফ্রেকটিভ এরর ঠিক করা।
- প্যাচ থেরাপি (Eye patching) – ভালো চোখ ঢেকে দুর্বল চোখকে ব্যবহার করানো।
- ভিশন থেরাপি / চোখের ব্যায়াম – চোখের সমন্বয় বাড়ানো।
- সার্জারি – চোখের পেশি ঠিক করে চোখ সরানোর জন্য।
💡 গুরুত্বপূর্ণ:
- শিশুদের ক্ষেত্রে জলদি শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধীরগতি বা চিকিত্সা না হলে অ্যামব্লিওপিয়া (Lazy Eye) তৈরি হতে পারে।
- স্ট্র্যাবিসমাস শুধু চেহারার সমস্যা নয়, দৃষ্টিশক্তি ও সমন্বয়ের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
চোখের এমন একটি অবস্থা, যেখানে দুটি চোখ সঠিকভাবে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে ফোকাস করতে পারে না, ফলে একটি চোখ অন্য চোখ থেকে ভিন্ন দিকে তাকিয়ে থাকে।
লক্ষণ: চঞ্চল চোখের মণি, বারবার চোখ ছোট করে তাকানো (বিশেষ করে উজ্জ্বল আলোতে), মাথা কাত করে তাকানো।
সূত্র: অপটোমেট্রিটস নিউইয়র্ক
শিশু কিশোর কিশোরীদের নিয়ে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা পাঠান : [email protected]
গল্প,কবিতা পড়তে ও লিখতে ভিজিট করুন: প্রতিধ্বনি অনলাইন ম্যাগাজিনে।
