spot_img
More
    Homeসাহিত্যগল্পপাহাড়ি আগন্তুক

    পাহাড়ি আগন্তুক

    সময়টা ২০০৬ সাল। পাহাড়ের মাঝ দিয়েএঁকে বেঁকে পথ চলছে । রাস্তা গুলো উঁচু নিচু ডেউ খেলানো। পাহাড়ি রাস্তা গুলো সাধারণত সরু হয়ে থাকে । কোনো রকম দুইটা গাড়ি যেতে পারে, সরু রাস্তা হওয়ায় চালককে খুব মনযোগসহকারে আর সাবধানতার সাথে গাড়ি চালাতে হয়। এইজন্য চালককে চোখ-কান খোলা রেখে দূরদৃষ্টি দিতে হয়। পাহাড়ের রাস্তায় যে গাড়ি গুলো চলে সেগুলো সাধারণত চান্দের গাড়ি নামে পরিচিত। সুযোগ পেয়েই আফিফ প্রশ্ন করে বসল , আচ্ছা বাবা এই গাড়ি কী আমাদের চাঁদে নিয়ে যাবে?

    -না বাবা এই গাড়িতে করে আমরা পাহাড়ের চূড়ায় যাব, তারপর মেঘের কাছাকাছি গিয়ে মেঘ দেখব। পাহাড়ি অঞ্চলে বেড়াতে আসতে হলে শীতকালে আসতে হয় কারণ বর্ষায় পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হয় ,আর বৃষ্টির সময় পাহাড়ের রাস্তা গুলো আরও ভয়াবহতার রুপ নেয় । তাইত আফিফের বাবা ঠিক শীতের সময় ই বেড়াতে আসলেন। কিন্তু বলা হয়ে থাকে বিপদ যার পিছু নেয় তাকে না ধরে ছাড়ে না ।আফিফের বাবার ক্ষেত্রেও সেরকম কিছুই হল। রাস্তায় হঠাৎ গাড়ি আটকে গেল। যেখানে আটকাল সেখান থেকে সাজেক ভ্যালি গাড়িতে গেলে আর মাত্র ১৫ মিনিটের পথ ছিল কিন্তু এখন ত গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল এখন উপায়।

    চালক এসে বলল আপনারা হেঁটে চলে যান এইটুকু পথ ই ত মাত্র ৫০ মিনিট হাঁটলেই বিভিন্ন রিসোর্ট দেখতে পাবেন।কিন্তু এইদিকে আফিফত ভেজায় কান্না শুরু করে দিল সে কিভাবে এতটুকু পথ হেঁটে যাবে আগে যে কখনো এতখানি পথ হাঁটে নি সে। তাদের সাথে আরও ছয় জন সঙ্গি আছে তারা এসেছে শেরপুর থেকে তাদের এই প্রথমবার সাজেক যাওয়া হচ্ছে কিন্তু মি.খাঁনের এই নিয়ে তিনবার হবে সাজেক ভ্যালি ভ্রমনে আসা। তাই তিনি হাঁটা শুরু করে দিলেন সেই সাথে তাদের ছয় সঙ্গিও।

    এখন  কি আর উপায় তার বাবা হাঁটা শুরু করল সেও হালকা হালকা কান্না করতে করতে তার বাবার সাথে হাঁটা শুরু করল। মিনিট দশেক হাঁটতে না হাঁটতেই তারা একটা চৌরাস্তা পেল (চৌরাস্তা হচ্ছে চারটি রাস্তার মিলন স্থান) । একটা রাস্তা চলে গেল উত্তর দিকে আরেকটা পূর্ব দিকে। মি. খাঁন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কোন রাস্তা ধরে এগুবেন। এদিকে সন্ধ্যা নেমে আসছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে একটু আগে আগে ই সন্ধ্যা নেমে আসে কারণ প্রচুর গাছপালা আর ঝোপঝাড় গুলো আলো আটকে দেয়। অবশেষে সবাই মিলে ঠিক করলেন উত্তরদিকের রাস্তাটা ধরেই তারা এগুবেন। উত্তর দিকের রাস্তা ধরে ঠিক পাঁচ মিনিট হাটার পরই দেখা মিলল এক আগন্তুকের । মি.খাঁন একটু এগিয়ে এসে কী মশাই সাজেক ভ্যালি যাওয়ার পথত এটাই তাই না?

    ভদ্রলোক কোনো প্রকার উত্তর না দিয়ে ইঙ্গিত দিলেন তার পিছনে পিছনে যেতে ।মি. খাঁন ও ভদ্রলোকের পিছু নিলেন ।মি. খাঁন ভদ্রলোককে পর্যবেক্ষন করতে শুরু করলেন । ভদ্রলোকটির গায়ে মোটা কাপড়ের একটা মেজেন্টা কালারের ফতুয়া আর তার নিচে সাদা রঙ্গের ধুতি। ভদ্রলোকটির হাঁটার ধরন আলাদা মানে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটেন। মি. খাঁন ভদ্রলোককে জিঙ্গেস করলের আপনার পায়ে কি কোনো চোট লেগেছে?

    ভদ্রলোকের মুখে কোনো উত্তর নেই ,হেঁটেই চলছেন তিনি ।হাঁটতে হঁটতে তারা একটা ছোট বাংলোর কাছে এসে থামলেন । ঘড়িতে সময় তখন ৬.৩৫ মিনিট । চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। ভদ্রলোক মি. খাঁন কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করলেন আপনারা চাইলে আজকের রাতটা এখানে থাকতে পারেন। মি. খাঁন হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন । তারপর সবাই বাংলোতে ঢুকে পড়ল। বাংলোটাতে একটা সদর দরজা  দিয়ে ঢুকতে হয় । সাধারণত বাংলোতে সদর দরজা থাকে না একেবারে একটা বারান্দা আর কয়েকটা রুম থাকে । কিন্তু এটাতে সদর দরজা আছে ঢুকতেই দেখা মিলল চারটি রুম সবাই সবার রুম ঠিক করে নিল। ঠিক যে মুহূর্তে লোকটির সাথে কথা বলে রুম ঠিক করবে ঠিক সেই সময় লোকটি কোথায় মিলিয়ে গেল । এইদিকে লোকটির নামও জানা হল না!

    লেখাঃ মাহমুদুল ভুইয়া শিহাব

     

    RELATED ARTICLES

    Most Popular