-1.8 C
New York
Thursday, January 21, 2021

Buy now

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

রাশিদুল রাজ

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় পুরো ৬০ ভাগই হলো তাদের মাথা।স্নায়ুতন্ত্রের গঠনও বেশ জটিল।মুখমন্ডলে একটি চোখই মাত্র দেখা যায়।সেটাও বেশ জটিল গঠনের।ওদের দৃষ্টিশক্তিও অনেক তীক্ষ্ণ।এই একমাত্র চোখের সাহায্যেই ওরা পঞ্চইন্দ্রীয়ের কাজ করতে পারে।বিনিময় করতে পারে হাসি,কান্না,আনন্দ,অনুভূতির।যেকোনো সৌরজগৎ এর সূর্য থেকে চার্জ নিয়েই ওরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

মহাশূন্যে ওরা এমনিতেই ঘুরছে না।ওদের কাজ মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করা ।সৌরজগত,গ্রহ,নক্ষত্রসহ পুরো মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো।বেশ কয়েকশো বছর আগেও ওরা এখানে এসেছিলো।আজ আবার তারা পৃথিবী গ্রহের খুবই কাছাকাছি অবস্থান করছে।তারা জানত এই গ্রহটিই একমাত্র গ্রহ যেখানে সৃষ্টির সেরা জীব অবস্থান করছে।

এই দুটি অদ্ভুত প্রাণী 

দূর থেকে গ্রহটি দেখে খুবই অবাক হলো তারা।কি আশ্চর্য!প্রথমে তো গ্রহটি চিন্তেই পারছিলো না।আরেকটু এগিয়ে আসল।

কি অবাক কান্ড! একি হয়েছে এই গ্রহটার?কি বাজে অবস্থা হয়েছে তার!
আরেকটু কাছে আসল তারা।আরো অবাক হলো।দুজনই একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।এই অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই কি অবস্থাটাই না হয়ে গেছে এই গ্রহের!কি তার কারণ?

কিছুক্ষণ গ্রহের চারপাশে ঘুরল তারা।সবকিছু পর্যবেক্ষণ করল।মানুষদের কাজ-কর্ম খেয়াল করল।নদী,সমুদ্র,বন- জঙ্গলগুলোও তারা দেখতে থাকল।

তারা উভয়েই বুঝলো পৃথিবীর এই খারাপ অবস্থার জন্যে এই সৃষ্টির সেরা জীব গুলোই দায়ী।তারা তাদের বিলাসবহুল বসবাসের জন্যে পুরো প্রকৃতিকেই যেন ধ্বংস করে ফেলছে।তারা বিশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করছে।যে যার যার নিজের ইচ্ছেমতো  প্রকৃতি ভোগে ব্যস্ত।অথচ এই প্রকৃতিই যে তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে তারা একবারও তা ভাবছেই না।

বসবাসের উপযোগী গ্রহটিকে বসবাসের অনুপযোগী করে তারা এখন মহাকাশে নতুন গ্রহের সন্ধান করছে।প্রথম প্রাণীটি বলল,দেখেছো পৃথিবীর উপরিস্তরটা ওরা পুড়িয়ে ফেলছে,নিজেদের সুবিধার জন্যে তৈরি করছে  সুউচ্চ বিল্ডিং,ফ্যাক্টরি।যেনো তারা আজ বিল্ডিং তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।বিপরীতে পরিবেশে মিশিয়ে দিচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস,কালো ধোঁয়া।

২য় প্রাণীটি, হ্যা আসলেই। তারা চাইলে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে তার সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারত।

হ্যাঁ,দেখেছো কি ধুলাবালি চারিদিকে।বাতাসে কালো ধোঁয়া।পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস মিশিয়ে দিচ্ছে।ধোয়াময় (স্মোগ) হয়ে গেছে চারিদিক।বাতাসে ভেসে আসছে পোড়া গন্ধ।দেখেছো প্রাণীদের শ্বাস নিতে কত কষ্ট হচ্ছে?দম বন্ধ অবস্থা তৈরী করে ফেলেছে।

হ্যাঁ,কি বাজে অবস্থা।দেখো দেখো ওই রাস্তাগুলোর দিকে তাকিয়ে, যেনো জ্যাম এ স্থির হয়ে গেছে।রাস্তার দুপাশের গাছপালাগুলো ধুলাবালিতে সাদা বিবর্ণ হয়ে গেছে। চারিদিকে হর্ণের কি বিশ্রুি শব্দ,কোলাহলে অস্থির হয়ে যাচ্ছে মানুষ। কি বিরক্তিকর অবস্থা!হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষগুলো উচ্চশব্দের কারনে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে।

হ্যাঁ ওই নদীগুলোর দিকেও তাকিয়ে দেখো, ওরা নদী সাগরগুলোকেও নোংরা করে ফেলেছে।নদী,সাগর তাদের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে।ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরে গেছে সব।পানি থেকে পঁচা গন্ধ বের হচ্ছে।নদীগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

দুজনই খুবই ক্লান্ত হলো।এত বাজে অবস্থা আর কোথাও তারা দেখেনি।তারা ভাবল একটু বন-জঙ্গলগুলোও ঘুরে দেখবে। সেখানে গিয়েও তারা অবাক হলো।সুন্দর বনভূমি মানুষ কিভাবে ধ্বংস করে ফেলতেছে।ওরা বাসস্থানের জন্যে,জ্বালানির জন্যে,চাষাবাদের জমির জন্যে কিভাবে বন-জঙ্গল গুলো কেটে ফেলছে।

তারা দেখলো বোকা মানুষগুলো পৃথিবীর ফুসফুস আ্যমাজন টাকেও পুড়িয়ে ফেলছে।ধ্বংস করে ফেলেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ বনভূমি,নষ্ট করে ফেলেছে তার পরিবেশ।সেখানে স্থাপন করেছে বিভিন্ন খামার,শিল্প,ফ্যাক্টরী। এক সময়ে এইসব বনভূমিগুলো ছিলো কতই না শ্যামল।

নিশ্চই আগামি কয়েক দশকেই এই বনভূমিগুলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহন করার পরিবর্তে বাতাসেই কার্বন বিমুক্ত করা শুরু করবে।যে ধ্বংসলীলার শুরু হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় বার হাজার বছর পূর্বেই,যখন থেকে মানুষ পরিকল্পিত চাষাবাদ শুরু করে এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ এ লিপ্ত হয়।গোটা প্রজাতির মাত্র ০.১ ভাগ মানুষই এ পর্যন্ত ৮৩ভাগ বন্য প্রাণী আর ৫০ ভাগ উদ্ভিদকেই বিলুপ্ত করে ফেলেছে।

হ্যাঁ,ওরা তো গত পঞ্চাশ বছরেই পৃথিবীর অর্ধেক প্রাণী বিলুপ্ত করে ফেলেছে।শুধু তাই নয়,ওদের জন্যেই অনেক প্রাণী তাদের নিজস্ব সক্রিয়তাও হারিয়ে ফেলেছে।

প্রথম প্রাণীটি বলল,ওরা নিজেরাই নিজেদের গ্রহের গড় তাপমাত্রাও বাড়িয়ে ফেলেছে।
ওরা নিজেদের সুবিধার জন্যে রুমে এসি,ফ্রিজ ব্যবহার করছে,বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষাক্ত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।যেই বিষাক্ত গ্যাসগুলো দিয়ে ওদের মঙ্গলময় ছায়া ওজন স্তর কেও ধ্বংস করে ফেলছে।সেখানে উত্তর মেরুতে আজ তৈরি হয়েছে বিশাল এক গর্ত।
নিজের গ্রহেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি গুলো প্রবেশ করাচ্ছে।মানুষ ক্যান্সার,ছানির মতো রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে।

কি বোকা তারা!নিজের রাজ্য-বাসস্থান টাকে বসবাসের উপযোগী করতে গিয়ে পুরো গ্রহটিই বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলতেছে।

দেখো আর এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা,সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফগুলোও কত দ্রুত গলতে শুরু করেছে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।হ্যা,ওরা আবহাওয়ার পরিবর্তন করে ফেলেছে।অসময়ে ঝড়,সুনামি,বন্যা,বৃষ্টিপাত শুরু হচ্ছে।

ওই শহরটার দিকে তাকিয়ে দেখো(ভেনিস-ইতালি)যেটা আজ পানির নিচে পড়ে আছে।নিশ্চই আগামী কয়েকশ বছরের মধ্যেই ওরা ওদের এই বসবাসযোগ্য পৃথিবীর বড় অংশই পানির নিচে হারিয়ে ফেলবে।বাসস্থান, চাষাবাদের জমি হারিয়ে না খেয়ে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেতে থাকবে।ওই দেশটির দিকে তাকিয়ে দেখো(ইয়েমেন),ছোট্ট শিশুগুলোও কিভাবে দুর্ভিক্ষ নামক অসুখ থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।

শুধু তাই নয় ওরা যেভাবে প্রকৃতি ধ্বংসে ব্যস্ত হয়েছে,আগামী কয়েক দশকেই তা পুরো ৭০০ কোটি মানুষের জন্যে হতে চলেছে খুবই মারাত্মক।

দ্বিতীয় প্রাণীটি বলল, আমরা কি শুধু পরিবেশটাই দেখবো?খেয়াল করে দেখো মানুষেরা নিজেদের মধ্যেও কত সমস্যার সৃষ্টি করে ফেলছে।বসবাসযোগ্য পৃথিবীটাকে বসবাসের অনুপযোগী করে বলছে, ওরা নাকি পৃথিবীকে বদলে ফেলছে,মানুষেরা নাকি এখন পূর্বের চেয়ে অনেক শান্তিতে,সহজে বসবাস করছে।তোমার কি এমন মনে হয়?

কখনোই না।আমার তো এই মানুষগুলো নিয়ে খুবই আফসোস হচ্ছে।দেখো ওরা বিদ্যুৎ দিয়ে অন্ধকারকে দূর করলো। নিজেদের সুবিধার জন্যে মোবাইল,কম্পিউটার,ল্যাবটপ নামক ডিভাইস তৈরী করলো।সারাক্ষণ সেগুলো নিয়েই পড়ে আছে।তারা বাস্তব কে বাদ দিয়ে এখন ভার্চুয়াল নিয়েই মেতে উঠেছে।নাটক,সিনেমা,গানগুলো দিয়েই আবেগ অনুভুতির ক্ষয় করছে।অথচ যে সময়গুলো কাটানোর কথা ছিলো ওদের নিজেদের সাথে,যে আবেগগুলো ক্ষয় করার কথা ছিলো ওদেরই কাছের মানুষগুলোর সাথে।ওরা নিজেরাই নিজেদের একা করে ফেলেছে।

আমার তো মনে হয় এই ভার্চুয়াল জিনিসগুলোর কারনেই মানুষগুলোও একসময় তাদের নিজস্ব সক্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে,তাদের চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটবে।তারা ভুলে যাবে তাদের মধ্যে পরিশ্রম,স্বাধীন চিন্তাভাবনা,নিজস্ব মত প্রকাশের ক্ষমতা ছিলো।বিলুপ্ত হয়ে যাবে ওদের মনুষ্যত্ব।

যার কিছু নমুনা এখনি দেখা যাচ্ছে।মানুষদের মধ্যে হতাশা,দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে,আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। চারিদিকে মানুষগুলো কেমন অশান্ত হয়ে গেছে।মানুষেরা খারাপ কাজ,একে অন্যের সাথে মারামারি,হানাহানি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই যেনো এখন বেশি মজা পাচ্ছে।

তারা দুজনই খুবই আফসোস করতে থাকল সৃষ্টির সেরা জীবদের নিয়ে।তাদের মনে এই প্রশ্ন টাই বার বার ঘুরতে থাকল,এই মানুষ প্রাণীগুলোকেই কেনো সৃষ্টির সেরা জীব বলা হলো?তারা প্রচুর আফসোস করতে করতে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশের দিকে রওনা হল।

বেশ কয়েকমাস পর প্রাণী দুটি আবার এই সৌরমণ্ডলে প্রবেশ করল।যদিও তাদের এই বোকা প্রাণীগুলো দেখার আর কোনো ইচ্ছাই ছিলোনা।তারা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে স্ট্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চল এ এসেই অবাক হয়ে গেলো।

কি আশ্চর্য!এটা কি করে সম্ভব!
তারা পৃথিবীর উওর মেরু অঞ্চলের ওজন স্তরে প্রায় দশহাজার বর্গমিটারের যে গর্ত দেখেছিলো তা যেনো একেবারেই মিলিয়ে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।তারা দুজনই দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল।বুঝতে পারল না কিভাবে সম্ভব এটা?তবে কি মানুষেরা আসলেই বুদ্ধিমান প্রাণী?নাকি এই শেষ মুহুর্তে এসে তারা এটা বুঝতে পেরেছে যে প্রাণী জগৎ কে আরো কয়েক শত বছর বাঁচিয়ে রাখতে হলে অন্তত প্রকৃতির উপর নির্মম অত্যাচার বাদ দিতে হবে।

বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তারা গ্রহের আরো কাছে ট্রপোস্ফিয়ার অঞ্চলে প্রবেশ করল। চারিদিকে তাকাতে লাগল।কিছুদিন আগেও যে  টপোস্ফিয়ারের বিভিন্ন স্তরে বিষাক্ত গ্যাস,ধুলাবালি,স্মোগ এ আচ্ছন্ন ছিলো সেই স্তরটি আজ বিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।পরিস্কার মেঘেরা সেখানে খেলা করছে।তারা অবাক হয়ে ভূপৃষ্ঠে তাকালো।এ যেনো নতুন একটি গ্রহের দিকে চোখ পড়েছে তাদের।শহরগুলো যেনো কেমন শান্ত হয়ে গেছে।রাস্তাগুলো থমকে গেছে।কোথাও কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছে না।

২য় প্রাণীটি, তবে কি এই কয়েকমাসের মধ্যেই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষও এই গ্রহ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলো?না এমনটা নয়।ভালো করে তাকিয়ে দেখো,ওরা এখনো বিলুপ্ত হয়নি।
মানুষগুলো তাদের তৈরি বদ্ধ অন্ধকার ঘরগুলোতেই অবস্থান করছে।কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা।সবাই লকডাউন এ বন্দী।তারা অবাক হয়ে গ্রহের চারিদিকে ঘুরাঘুরি করল।
তারা দেখল ১২০ মাইক্রোমিটার এর ছোট্ট একটি ভাইরাস পুরো পৃথিবীটাকে শান্ত করে ফেলেছে।পুরো পৃথিবী যেনো আজ নিস্তব্ধ একটা পল্লি।প্রথম প্রাণীটি বলল,পুরো গ্রহেই মহামারী শুরু হয়ে গেছে।মানুষ গণহারে মারা যাচ্ছে।পৃথিবীর সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিও এই ক্ষুদ্র ভাইরাস এর কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় প্রাণীটি বলল,তোমার কি মনে হয় এমন একটি ভাইরাসই পুরো পৃথিবীকে মানবশুন্যে করে দিতে পারে?হ্যাঁ।এমন হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।খেয়াল করে দেখেছো কি, মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যেসব পুরনো সভ্যতাগুলো বের হচ্ছে সেগুলো কত হাজার কোটি বছরের পুরনো?এই ভাইরাস গুলো তো ৪০০ কোটি বছর পূর্বেই সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতিতে রয়ে গেছে।সুযোগ পেলেই তারা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে এবং তার বংশ বিস্তার ঘটায়। এমন অনেক সভ্যতা আছে যেগুলো এসব ক্ষুদ্র ভাইরাস এর কারনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো পৃথিবীর তাপমাত্রা যত বাড়বে ততই বরফগুলো গলতে থাকবে আর হাজার বছরের পুরনো ভাইরাস গুলো বেরিয়ে আসতে থাকবে যা পুরো প্রাণী জগৎ কে বিলুপ্ত করে দিতে পারে।হ্যাঁ।এমনটাও হতে পারে।অস্বাভাবিক কিছু নয়।

হ্যাঁ।ভূপৃষ্ঠের দিকে তাকিয়ে দেখো পুরো গ্রহটিই শান্ত হয়ে গেছে।মানুষগুলো কিভাবে ক্ষুদ্র এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে ঘরবন্দী হয়ে আছে।বিশাল শক্তির পারমানবিক বোমার অধিকারি দেশগুলোও কিভাবে ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস এর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর।

হ্যাঁ।চারিদিকে তাকিয়ে দেখো।মানুষ ঘরবন্দী বলে সকল অফিস,কারখানা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন সব বন্ধ আছে।সেগুলো থেকে প্রতিনিয়ত মুক্ত হওয়া ধুলাবালি,বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বন্ধ হয়েছে। ফলে পরিবেশ কত বিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।কোথাও কোথাও বায়ু দুষণ প্রায় ৭০ ভাগ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।

দেখো শহরের ওই রাস্তাগুলোতে কোনো গাড়ি নেই।কোনো যানজটও নেই।অল্পকিছু সময়ের জন্যে যেনো হর্ণের ওই বিশ্রী শব্দটাও স্তব্ধ হয়ে গেছে।হ্যাঁ দেখো রাস্তার পাশের গাছগুলোতেও কত সুন্দর লতা,পাতা গজিয়েছে।ফুলও ফুটেছে সেখানে।পাখিরা বাসা বাধতে শুরু করেছে।শহরগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো  জঙ্গল থেকে সিংহ,হরিণ,বানর,বন ছাগল,ময়ূর পাখিরা বের হয়ে এসে মানবশূন্য শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।তারা সেখানে খাবারের সন্ধ্যান করছে।কতো স্বাধীনভাবেই সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছে।একটা জিনিস খেয়াল করে দেখো গোটা প্রজাতির মাত্র ০.১ ভাগ মানুষ নামক প্রাণীগুলো অন্যে সকল প্রাণীর স্বাধীনতা নষ্ট করে দিয়েছিলো।

হ্যাঁ।ওই দেখো,বিশাল সাগরে জোয়ার পড়েছে।পানি কত স্বচ্ছ। চলো এগিয়ে দেখা যাক।

তারা বড় বড় কয়েকটি সমুদ্র, সৈকতে ঘুরাঘুরি করল।দেখলো পর্যটকশূন্যে যেসব সাগরে গত কয়েকশ বছরে যা দেখা যায়নি তার নব সুচনা ঘটেছে।তীর এলাকায় ডলফিন, হাঙ্গরেরা এসে খেলা করছে।তারা দেখল,হাজার হাজার কচ্ছপেরা স্বাধীনভাবে ঘুরাফেরা করছে। ডিম থেকে বের হয়ে বাচ্চাগুলো সাগরের দিকে ছুটে যাচ্ছে।

হ্যাঁ।কি দারুণই না দেখতে।
দেখো ওই কক্সবাজার নামক সৈকতে সাগরলতা ফুলও ফুটেছে।কত সুন্দর দেখাচ্ছে।
আফসোস! বোকা মানুষগুলো এই সুন্দর প্রকৃতিকে কিভাবে বন্দী করে রেখেছিল।

আরেকটা বিষয় খেয়াল করে দেখেছো কি?মানুষগুলোর নিজেদের মধ্যেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।তুমি কোন পরিবর্তনের কথা বলতে চাচ্ছ?

দেখো সামান্য এই ভাইরাসটির কারনে মানুষে মানুষে বন্ধন কতটা শক্তিশালী হয়েছে।বাবা-মা কে ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করা সন্তানগুলো মায়ের কোলে ফিরে এসেছে।অফিস ব্যস্ততায় নিজের ছেলে মেয়েদের সময় না দিতে পারা বাবা মা আজ তাদের সন্তানদের নিয়ে রুমে খেলা করছে।পুরুষেরা তাদের সঙ্গিনীকে রান্নার কাজে সাহায্য করছে।
আসলেই সম্পর্কগুলো গভীর হয়ে উঠেছে।মানুষেরা তার শিকড়ে ফিরে এসেছে।

সবই ঠিক আছে।এভাবে চলতে থাকলে খুব শ্রীঘ্রই পৃথিবীটা কয়েক শতক পূর্বের অবস্থায় চলে যাবে।যখন প্রকৃতিতে এতো কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিলোনা।যখন ছিলো না বিদ্যুৎ, কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানী চালিত কোন মটর,যানবাহন।প্রকৃতির বিশুদ্ধতা খুব শ্রীঘ্রই সেই সময়ের মতোই হয়ে যাবে।

হ্যাঁ।কিন্তু এই বিশুদ্ধতা,কিংবা প্রকৃতির মুক্তি কতদিন থাকবে?তোমার কি মনে হয় মানুষেরা এখান থেকে শিক্ষা পেয়ে পরবর্তীতে প্রকৃতির উপর নির্মম অত্যাচার বাদ দিবে?

না।আমার এমন মনে হচ্ছেনা।এই মানুষগুলো খুবই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।এখান থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো কিছুটা মৃত্যুভয় জয় করতে শিখে যাবে।আমার মনে হয় ওরা মহামারী পরবর্তী এই পৃথিবীতে আরো বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলবে।তারা পূর্বের চেয়েও কয়েক গুন বেশি মাত্রায়  প্রকৃতি ধ্বংসে ব্যস্ত হবে।এবং খুব দ্রুতই তারা এই গ্রহটিকে ধ্বংসস্তুপ এ পরিনত করে ফেলবে।ওই দেখো এই মহামারীর সময়েও কিভাবে জলদস্যুরা আ্যমাজন থেকে শতবছরের গাছপালা কেটে নিচ্ছে।

হ্যাঁ,দেখো মানুষগুলো মহামারী থেকে বাঁচতে এর প্রতিষেধক তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা করছে।খুব শ্রীঘ্রই হয়ত তারা এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলবে।

তুমি কি বলতে চাচ্ছো প্রতিষেধক আবিষ্কার হলেই মানুষেরা মহামারী থেকে বেঁচে যাবে?

না।কখনোই না।প্রতিষেধক এই ভাইরাসগুলোকে কিছু সময়ের জন্যে শুধু স্থিরই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।ভাইরাসগুলোর মিউটেশন ক্ষমতা প্রচুর।তারা যেকোনো সময় নিজেদের জিনোম পরিবর্তন করে নিতে পারে।হতে পারে ওদের তৈরি আ্যন্টিবায়োটিক এর কারনেই পরবর্তীতে এই ভাইরাস আসবে আরো শক্তিশালী হয়ে যা পরবর্তীতে আরো মারাত্মক আকারে মহামারীর সৃষ্টি করে দিতে পারে।এবং যা মানব প্রজাতির বিলুপ্তির জন্যেও দায়ী হতে পারে।

তারা হঠাৎ মহাকাশ থেকে সংকেত পেলো।এবারের মতো মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি থেকে তারা রওনা হলো।বেশ কয়েকমাস পরে তারা আবার এই গ্যালাক্সিতে প্রবেশ করল। এই গ্রহের বায়ুমন্ডলে এসে তারা স্তম্ভিত হয়ে গেলো।তারা দুজনই স্থির হয়ে মহামারী পরবর্তী পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে রইল।সৃষ্টির সেরা জীবগুলোর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।এবং দুজনেই এভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সামনে আগানোর ইচ্ছা হারিয়ে ফেলল।

ওরা একে অপরের দিকে তাকাল।তারা হাসল।খুবই উচ্চস্বরে হাসল।মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে আরো উচ্চস্বরে হাসতে থাকল।এবং উল্টো পথে মহাকাশের দিকে রওনা হলো।

রাশিদুল রাজ
শিক্ষার্থী ,সরকারি তিতুমীর কলেজ

Related Articles

126 COMMENTS

  1. hydra зеркало тор являет собой портал, что рассчитан для поставщиков запрещенных веществ и услуг. Такую услугу запрещается взять в традиционном интернет-магазине, поскольку это противозаконно.

  2. It is perfect time to make a few plans for the future and it’s time to
    be happy. I’ve learn this submit and if I may just I want to counsel
    you some attention-grabbing things or suggestions. Maybe you could write subsequent articles regarding this article.

    I wish to read more issues approximately it!

  3. I have been browsing online more than 3 hours today, but I by no means discovered any interesting article like yours.
    It’s pretty worth enough for me. Personally, if all website owners and bloggers made
    good content material as you probably did, the web can be a lot more helpful than ever before.

  4. Hey there would you mind letting me know which hosting company you’re using?
    I’ve loaded your blog in 3 completely different web browsers and I must say this blog loads a lot quicker then most.
    Can you recommend a good web hosting provider at a reasonable price?
    Thank you, I appreciate it!

  5. Hi, I do believe this is a great web site.
    I stumbledupon it 😉 I may return once again since i have bookmarked it.
    Money and freedom is the best way to change, may you be rich and
    continue to guide others.

  6. It’s appropriate time to make some plans for the future and it’s time to be happy.
    I’ve read this post and if I could I wish to suggest you some interesting things or tips.
    Maybe you could write next articles referring to this article.

    I desire to read more things about it!

  7. Hey there would you mind letting me know which web host you’re utilizing?

    I’ve loaded your blog in 3 completely different internet browsers and I must say this
    blog loads a lot quicker then most. Can you suggest a good internet hosting
    provider at a honest price? Cheers, I appreciate
    it!

  8. I just could not go away your site before suggesting that
    I really loved the standard info a person provide on your
    guests? Is gonna be again ceaselessly in order to check up on new posts

  9. It is the best time to make a few plans for the long run and it is time to
    be happy. I have learn this put up and if I could I wish to counsel you some interesting things or tips.
    Maybe you can write subsequent articles relating to this article.

    I desire to learn even more issues approximately it!

  10. [url=http://propeciaff.com/]finasteride pills[/url] [url=http://levitrapl.com/]levitra 20 mg[/url] [url=http://lipitorpill.com/]lipitor 10mg price[/url] [url=http://azithromycinbio.com/]zithromax 3 pills[/url] [url=http://buyhydrochloroquine.com/]hydroxychloroquine 600 mg[/url] [url=http://viagrastart.com/]viagra gel for sale[/url] [url=http://creamretina.com/]over the counter tretinoin 025[/url] [url=http://tretinoinrx.com/]buy tretinoin 1 cream[/url] [url=http://viagradoit.com/]buy viagra without prescription[/url] [url=http://doxycyclinemeds.com/]buy doxycycline 500mg[/url]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

21,385FansLike
2,506FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles