22.7 C
New York
Saturday, August 15, 2020

Buy now

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

সিনেমা দেখতে কার না ভালো লাগে৷ আমার মতো তুমিও যদি সিনেমা প্রেমিক হও, তবে তোমার জন্য আজ একটি দারুন সিনেমার গল্প উপস্থাপন করবো৷ ছোটদের জন্য নির্মিত কিছু শিক্ষনীয় সিনেমার তালিকায় একটি জনপ্রিয় ছবি হলো “Finding Dory”. আর দেরি না করেই এখনি সিনেমাটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিস্তারিত বলছি।

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। তারা ডরি কে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু ডরি সব ভুলে যায়, মূহুর্তের মধ্যে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।

ভুলে যাওয়া ব্যামো থাকলেও ডরি কিন্তু ঠিকই মনে রেখেছে তার পিতা-মাতা আছে অর্থাৎ তার পরিবার ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ডরি তার পিতা-মাতাকে মনে করতে পারে না। এমনকি সে কোথায় থাকতো তাও মনে করতে পারে না। কিন্তু ডরি হাল ছেড়ে দেয় নি৷ সে কিন্তু ঠিক ই তার পিতা-মাতাকে খুঁজার চেষ্টা করতে থাকে৷

এভাবে একটি বছর পার হয়ে যায়। একদিন স্ট্রিং-রে মাছের সাথে কিছু বাচ্চাদের ক্লাসে মাইগ্রেশনের কবিতা শিখানোর সময় উপদেশ দিচ্ছিল যে, কখনো স্রোতের দিকে যাবে না৷ সব সময় স্রোতের উল্টো সাতার কাটবে।

তখন ডরি’র মনে যায়, তার বাবা-মা ও তাকে বলেছিল যখন কতক গুলো সামুদ্রিক প্রাণীরা একত্রে সাতার কেটে পাড়ি দেয়, তখন যেনো স্রোতের উল্টো সাতার কাটে, না হলে স্রোতের প্রবাহের মুখে পরে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। “দ্যা জুয়েল অব মরো বে,ক্যালিফোর্নিয়া “ এই জায়গায় ডরি থাকতো, এটাও মনে পরে। ডরি, তার বন্ধু মার্লিননেমো কে নিয়ে পারি দেয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। যেখানে তার পরিবার আছে।

ক্যালিফোর্নিয়া যাওয়ার পর ডরি’র জেনিচার্লি নাম দু’টি মনে পরে৷ যা তার পিতা-মাতার নাম ছিল। এখান থেকে গল্পে নতুন মোড় নেয়।ম্যারিন লাইফ ইন্সটিটিউটের লোকেরা ডরি কে ধরে নিয়ে যায়।হারিয়ে ফেলে তার বন্ধু নেমো ও মার্লিনকে।

তাকে অ্যাকুরিয়ামে করে ক্লিবল্যান্ডে বিক্রি করার জন্য৷ আর এখানে পরিচিত হয় নতুন বন্ধু মুন্নার সাথে,যা একটি অক্টোপাস। তবে অক্টোপাসটির একটি পা নেই, তাই ডরি তাকে সেপ্টোপাস নামে ডাকে।

পর্যায়ক্রমে ডরি’র বাল্য বন্ধু ডেস্টিনির সাথে সাক্ষাৎ হয়। ডেস্টিনি ছিল একটি তিমি। ডরি তিমি মাছের ভাষায় কথা বলতে পারতো। এরপর ডেস্টিনি থেকে নিজ বাড়ির ঠিকানা জেনে মুন্নার সাথে আবার রওনা হয়। অনেক পরিশ্রম, সকল বিপদ পারি দিয়ে মুন্না ডরি কে তার ঠিকানা পৌছে দেয়৷ ডরি তার বাড়িতে ফিরে যায়৷

কিন্তু তার এতো পরিশ্রম বৃথা গেছে। কারণ এখান থেকে সকল নীল মাছ গুলো ক্লিবল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। আর ক্লিবল্যান্ডে যাবে না, বলেই মুন্নার সাহায্য নিয়ে ডরি তার বাড়ি এসেছিল ও মুন্না কে টোকেন দিয়েছিল, যার সাহায্যে মুন্না ক্লিবল্যান্ডে যাবে৷ তবে ডরি’র আবার সব মনে পরতে থাকে। কিভাবে সে তার পরিবারকে হারিয়েছে৷ সে নিজেকে তার পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ি মনে করে।

ক্লিবল্যান্ডে যাবার পথ আবার নতুন করে খুজে এবং একটি পাইপ এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ডরি তার বন্ধু নেমো ও তার ছেলে মার্টিল কে খুঁজে পায়৷ তাদের সাথে আবার রওনা দেয় ক্লিবল্যান্ডের উদ্দেশ্য।

এক পর্যায় ভাগ্যের জোড়ে আবার দেখা হয় মুন্নার সাথে। মুন্নার সাহায্যে ডরি, মার্লিন ও নেমো নিল মাছদের কাছে যায়৷ কিন্তু সেখানে জানতে পারে তার বাবা-মা তার হারিয়ে যাওয়ার কষ্টে তারা তাকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরত আসে নি৷ তারা আর ফিরত আসবে না৷ মারা গেছে জেনি ও চার্লি। এইটা শোনার পর নিজেকে আর শান্ত রাখতে পারে না৷
অবচেতন হয়ে যায় ডরি৷ ভাবে সে অনেক দেরি করে ফেলেছে।

কিন্তু ভাগ্য সহায়ক ছিল ডরি’র৷ তা না হলে সব হারিয়েও শেষমেশ খুঁজে পায় প্রানপ্রিয় পরিবার৷ নিজ সত্ত্বা মানে নিজের পিতা-মাতাকে। কিন্তু হারিয়ে ফেলে প্রাণের প্রীয় বন্ধু নেমো ও মার্লিন কে।

এরপর পাইপ বন্ধু ডেস্টিনি অর্থাৎ তিমিমফিজ এর সাহায্যে নেমো ও মার্লিন কে খুজে বের করে৷ এখানে এক দারুণ ঘটনা ঘটে৷ ডরির সুকৌশল বুদ্ধির জন্য মার্লিন, নেমো,মুন্না সহ সকল বন্ধী মাছ গুলো স্বাধীনতা ফিরে পায়৷ সবাই মুক্ত হয়ে যায়৷

এভাবেই ডরি সবাইকে ফিরে পায়৷ মুভিটি না দেখলে তুমি অনেক কিছু মিস করে ফেলবে৷ কিভাবে ডরি তার পরিবার সহ সকল বন্ধুকে খুঁজে তার অসাধারণ আডভ্যাঞ্চার জার্নি মিস করতে না চাইলে, আজই দেখো ফেলতে পারো অসাধারণ 3D এনিমেশান এর “Finding Dory” এই সিনেমা টি৷

Related Articles

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।

4 COMMENTS

  1. Hello! I know this is somewhat off topic but I was wondering which blog
    platform are you using for this website? I’m getting sick and tired of WordPress because I’ve had problems with hackers and I’m looking at alternatives for another platform.
    I would be great if you could point me in the
    direction of a good platform.

  2. It is actually a nice and helpful piece of info. I am glad that you simply shared this helpful information with us.

    Please keep us up to date like this. Thanks for sharing.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

20,458FansLike
2,293FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

Latest Articles

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।

অতিথি একজন উদীয়মান শিশু অভিনেত্রী

বাংলাদেশে যে সব শিশু শিল্পীদের আমরা টিভিতে দেখতে পাই বা পত্রিকার পাতায় ছবি দেখি আজ আমরা তাদেরই একজনের কথা বলবো। ওর নাম অতিথি ইসরাত। পুরো নাম ইসরাত জাহান অতিথি।

কারোর সহমর্মিতা এবং সহানুভূতি চাচ্ছি না

কারোর সহমর্মিতা এবং সহানুভূতি চাচ্ছি না। ছো্টবেলায় জীবনের প্রথমবারের মত স্কুলে গিয়েছি , - এই ভোটকা , তুমি এত্ত মোটা কেন ?বাসায়...