23.5 C
New York
Saturday, August 15, 2020

Buy now

বাবার স্বপ্ন পুরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত

বাবার স্বপ্ন পুরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত।ছোট বেলা থেকেই বাবার কাছে ক‍্যাডেট কলেজের কথা শুনছি।বাবা লিখিত পরীক্ষায় চান্স পেয়েছিলেন কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বাবার কাছে সবসময় শুনেছি আমার চোখে তিনি ওনার অসম্পূর্ণ সপ্ন গুলো দেখেন। ওখান থেকেই সপ্নের শুরু। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর শুরু হলো প্রস্তুতি। ছাত্রী হিসেবে কোনোকালেই ভাল ছিলাম না। গণিতে যাও একটু নম্বর পেতাম, অন্য গুলোতে তাও পেতাম না। পরীক্ষায় কখনোই প্রথম হতাম না। তৃতীয় বা চতুর্থ হতাম।

Image may contain: 3 people, people smiling, people standing and outdoor
কলেজে প্রথম বারের মত খাকি ড্রেসে (মাঝের ছবিতে)

যেই স্কুলটিতে পড়তাম সেখানে আগে কেউ চান্স পায়নি। আগে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তারা সবাই বললেন এখান থেকে সম্ভব না। শিক্ষকরাও হতাশ। শুধু বাবাই বলতেন আমি পারব। অবশেষে পরীক্ষার দিন এলো। বাবা কাজের কারণে যেতে পারবেন না। খুব ভোরে রওনা হলাম। পরীক্ষার হলে আমার আশেপাশে পরিচিতজনের কাউকে দেখতে পেলাম না। প্রথম পরীক্ষা ভালোই হলো। দ্বিতীয় পরীক্ষা খুব একটা ভাল হলো না। বের হয়ে দেখি সবাই কাদতে কাদতে বের হচ্ছে। ভাবলাম সবারই খারাপ হয়েছে কান্নার কিছু নেই।

আমাদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল একটু দেরিতে প্রকাশ হওয়ায় ভেবেছিলাম আমি বোধহয় পারিনি। এক স‍্যার বললেন যারা চান্স পেয়েছে তাদেরকে জানানো হয়েছে। আমি পাইনি। বাসায় বললাম। সবাইকে জানানো হলো। দুই দিন পর জানতে পারলাম ফলাফল প্রকাশ হয়নি। শুধু বাবাকে বললাম। কিছুদিন পর সত্যি ফলাফল প্রকাশ হলো। সকালবেলা বাবা এসে বলল আমার নাম নাকি তালিকায় আছে। এরপর মৌখিকের প্রস্তুতি শুরু হলো। এই প্রথম এই স্কুল থেকে কেউ চান্স পেয়েছে তাই প্রচারণা একটু বেশিই হলো।

মৌখিক পরীক্ষা দিতে গেলাম। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলো আমার জন্মদিনে। জন্মদিনের স্রেষ্ট উপহারটা সৃষ্টিকর্তাই দিলেন। এরপর শুরু হলো কেনাকাটা। অবশেষে এলো সেই দিন।৫৪ টি চঞ্চল প্রাণ শুরু করলাম নতুন যাত্রা। সেদিন বাবাকে অনেক দিন পর কাদতে দেখলাম। আমাকে রেখে যাওয়ার আগে বাবা বললেন যে আমি এখানে অনেক বন্ধু পাব কিন্তু তার একটা কাছের বন্ধু দূরে চলে গেল।

আমার গাইড আপা বেশ সুন্দরী, গোছানো এবং ভালো ছাত্রী। আমি ঠিক তার উল্টো। তবুও তার সাথে আমার সম্পর্ক ভালোই। যাওয়ার দুই দিন পর ছিল পহেলা বৈশাখ। আপারা অনেক মজা করলেও আমরা পারিনি। নতুন ছিলাম তো তাই। এরপর নভিসেস ড্রিলে ৫ বছর পর আমাদের হাউস প্রথম না হয়ে দ্বিতীয় হলো। এবার পরীক্ষার পালা। গণিতে ফেল করলাম।এখানেই শেষ না,সেভেনে সাধারণত কেউ ইডির স্বাদ পায়না। আমি পেলাম। রেস্টের কাগজ সাথে না থাকায় আমি ও আমার দুই সহপাঠী একসঙ্গে পেলাম।

Image may contain: 1 person
জোহরা আপু, আমাকে প্রথমবারের মতো ক্যাডেট পোশাক পরিয়ে দিচ্ছেন।

এথলেটিক্স এ আমি ৮০০ মিটারের জন্য বাছাইকৃত হলাম। লাস্ট হলাম।এরপর এপুলেটে একটা দাগ বাড়ল। এবার দ্বিতীয় ইডিটাও পেয়ে গেলাম। জুতা পলিশ না করায়।গতবার পহেলা বৈশাখে ৭ ছিলাম বলে কিছুই করতে পারিনি এবার আমার সবাই শাড়ি নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু করনার কারণে এবার পহেলা বৈশাখ পালিত হলো না। তাই আমরা রুমেই শাড়ি পরলাম। ধরাও খেলাম। হাউস মাস্টার সাবেরা ম‍্যাডাম তার রুমে নিয়ে ছবি তুললেন। এরপর ছুটিতে কে কোথায় যাবে এই নিয়ে ঝামেলা শুরু হলো। আমার বিল্ডিংয়ে করনা রুগী থাকায় আমাকে দাদুর বাসায় যেতে বলা হলো। সব ঠিক হয়ে গেল, শেষ মুহূর্তে বাবা বলেন আমি দাদুর বাসায় না আমার বাসায় যাচ্ছি। সারারাত খুশিতে ঘুমাতে পারিনি।

লেখকঃ সুমাইয়া মুস্তফা আস্থা

ক্লাস এইট, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

ছোটদেরবন্ধুhttps://www.chotoderbondhu.com
সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনের এক একটি দিন পার করা।সেই ধারাবাহিকতায় ছোটদেরবন্ধু গড়ে উঠছে তিল তিল করে।

Related Articles

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।

Stay Connected

20,458FansLike
2,293FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

Latest Articles

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।

অতিথি একজন উদীয়মান শিশু অভিনেত্রী

বাংলাদেশে যে সব শিশু শিল্পীদের আমরা টিভিতে দেখতে পাই বা পত্রিকার পাতায় ছবি দেখি আজ আমরা তাদেরই একজনের কথা বলবো। ওর নাম অতিথি ইসরাত। পুরো নাম ইসরাত জাহান অতিথি।

কারোর সহমর্মিতা এবং সহানুভূতি চাচ্ছি না

কারোর সহমর্মিতা এবং সহানুভূতি চাচ্ছি না। ছো্টবেলায় জীবনের প্রথমবারের মত স্কুলে গিয়েছি , - এই ভোটকা , তুমি এত্ত মোটা কেন ?বাসায়...