13.6 C
New York
Sunday, September 20, 2020

Buy now

মেনসার সদস্য আমাদের ইশাল মাহমুদ

লেখাঃ জাজাফী

Image result for ishal mahmud
ইশাল মাহমুদ

দুনিয়ার সব থেকে জ্ঞানীদের নামের তালিকা করলে সবার আগে যে নামটি চলে আসবে তিনি অবধারিত ভাবেই আইনস্টাইন।অন্য আরও অনেকের নাম আসলেও শুরুতে আমাদের মনে যে ছবিটি ভাসবে তিনি আইনস্টাইন ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না।আমাদের ছোট্ট ছেলে মেয়েরা যখন বুদ্ধিদীপ্ত কোন প্রশ্ন করে কিংবা কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয় তখন আমরা তুলনা করার জন্যও সেই আইনস্টাইনকেই বেছে নিই।আমরা বলি এইতো আমাদের ভবিষ্যতের আইনস্টাইন।যেমন ফুটবল খেলায় এখন ছোট্ট কেউ ভালো করলেই বলা হয় আগামী দিনের মেসি বা রোনালদো ঠিক তেমনি।আইনস্টাইনের মতই আরেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কথা কিন্তু কেউ বলে না যে এই ছেলেটি বা এই মেয়েটি ভবিষ্যতের হকিং।

Image result for ishal mahmud
ইশাল মাহমুদ

আইনস্টাইন ছিলেন মেনসার সদস্য।তাঁর আইকিউ কত ছিলো কারো জানা আছে? ১৬০!!! অনেকের মনে হতে পারে আইকিউ আবার মাপা যায় নাকি!! অবশ্যই মাপা যায়।বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে এটা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।তা প্রশ্ন আসতে পারে যে বিড়ালের গলায় ঘন্টিটা বাঁধে কে?

হ্যা সেই ঘন্টি বাধার দায়িত্বে যারা আছে তারাই মেনসা নামে পরিচিত। মেনসা হলো একটি প্রতিষ্ঠান যা আইকিউ পরিমাপ করে।বিশ্বের সব থেকে বেশি আইকিউ যাদের তারাই কেবল মেনসার সদস্য হতে পারে।মেনসার সদস্য তালিকার দিতে তাকালে আমরা দেখতে পাই আইনস্টাইনকে,স্টিফেন হকিংকে।

অনেকেই ভাবতে পারে বাপরে বাপ এত্তো আইকিউ কিভাবে কোথায় পাবো যে আইনস্টাইনের পাশে নাম লেখাবো!! তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো মেনসার সদস্যদের অনেকেই আছে যারা আইনস্টাইন এবং স্টিফেন হকিং এর চেয়েও বেশি আইকিউয়ের অধিকারী? এবং আইনস্টাইন আর হকিংয়ের চেয়ে যাদের আইকিউ বেশি তাদের মধ্যে বাংলাদেশীও আছে! যেমন আমাদের ইশাল মাহমুদ! বয়স মাত্র বার বছর।

এবার যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা হচ্ছে মহারাণীর দেশে সেই দেশেই থাকে ইশাল আর তার বাবা মা এবং ছোট্ট ভাই।

আর সেই মহারাণী এলিজাবেথের দেশে প্রতি বছর “চাইল্ড জিনিয়াস” নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় যার মাধ্যমে খুঁজে বের করা হয় ব্রিটেনের সব থেকে জিনিয়াস চাইল্ডকে।এবারেও হাজার হাজার প্রতিযোগি নাম লিখিয়েছিলো যার মধ্যে ছিলো আমাদের ইশাল মাহমুদ নামের ছোট্ট বন্ধুটি।যে কিনা আগে থেকেই মেনসার সদস্য।অসংখ্য জিনিয়াস প্রতিযোগিকে পাশকাটিয়ে ইশাল এখন সেরা পাঁচে।

ইশাল মাহমুদের বাবার নাম ফরহাদ মাহমুদ আর মা মমতাজ মাহমুদ।দুজনই নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকে।তাহলে ইশাল নামে আমাদের এই ক্ষুদে জিনিয়াসকে সময় দিতো কে? কার কাছে সে এতো জ্ঞান পেয়েছে অনুপ্রেরণা পেয়েছে? ইশালের আছে এক অসাধারণ মামা। যে মামা অক্সফোর্ড থেকে গ্রাজুয়েশান করেছে।মামার নাম ইমরান।ইশালের এই মামার কথা মনে করে আমরা বলতেই পারি মামা ভাগ্নি যেখানে জিনিয়াসগিরি সেখানে।

বিচারকদের সামনে দাড়িয়ে নির্বিকার ভাবে ইশাল একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিচারকদের যেমন চমকে দিয়েছে তেমনি চমকে দিয়েছে হাজার হাজার টিভি দর্শকদের।ইশালের ঘরে গিয়ে আমরা দেখতে পাই অসংখ্য মেডেল সার্টিফিকেট,ক্রেস্ট। ইশালের ছোট্ট ভাইটি সেই সব ক্রেষ্ট মেডেল সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কখনো কখনো বোনের মুখের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।এতোটুকু মানুষের এত্তো বুদ্ধি!!আচ্ছা বলাই হয়নি ইশালের আইকিউ কত? আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি,স্টিফেন হকিংয়ের চেয়ে বেশি। হ্যা ইশালের আইকিউ ১৬২!!! পৃথিবীতে হাতে গোনা কিছু মানুষের আইকিউ হয় ১৬০ বা তার বেশি।

Image result for ishal mahmud
মেনসার স্বীকৃতি সনদ হাতে ইশাল মাহমুদ

আমাদের আছে অসংখ্য ইশাল মাহমুদ।তাদের কেউ আমার আপনার ঘরেই বাস করে কেউ আমাদের পাশের বাড়িতে,পাশের স্কুলে।কিন্তু আমরা তা টের পাইনা।আমাদের ফুলবাগানে নেই বলে যে অন্য কোথাও নাম না জানা ফুল ফোটে না এমনতো নয়।পরিচর্যা পেলে সেই সব ফুল সুবাশ ছড়ায়,মুগ্ধ করে।একজন ইশাল মাহমুদ তার অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট মামার অনুপ্রেরণায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমার আপনার পাশে যে সব ছোট্ট বন্ধু আছে তাদেরকেউ উৎসাহ দিলে তারা মেনসার সদস্য হতে না পারুক দারুণ কিছু করবে এটা নিশ্চিত।

Image result for ishal mahmud
সার্টিফিকেট আর মেডেল হাতে ইশাল মাহমুদ ও তার ছোট ভাই

এখন আমরা ছুটছি এ প্লাসের দিকে।যেন এ প্লাসই জীবনের সব।সবার কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই। আচ্ছা আইনস্টাইন,স্টিফেন হকিং,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,জে কে রাউলিং, মার্ক জুকারবার্গ কি এ প্লাস পেয়েছিলেন? ধরে নিলাম সেই সময়ে এ প্লাস বলে কিছু ছিলো না কিন্তু অন্য কিছুতো ছিলো! আমাদের উচিত প্রতিটি শিশু কিশোর কিশোরীর পড়াশোনার ব্যাপারে আরো মনোযোগী হওয়া যেন তারাও ইশাল মাহমুদের মত আলোকিত হতে পারে,আলো ছড়াতে পারে।

Related image
পুরস্কার হাতে ইশাল মাহমুদ

আমরা আশা করতেই পারি আমাদের আছে অসংখ্য ইশাল মাহমুদ যাদের কেউ কেউ মেনসার সদস্য হতে পারে সঠিক পরিচর্যা পেলে।ছোটদেরবন্ধু এটুকু অন্তত বিশ্বাস করে।

লেখাঃ জাজাফী

ছোটদেরবন্ধুhttps://www.chotoderbondhu.com
সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনের এক একটি দিন পার করা।সেই ধারাবাহিকতায় ছোটদেরবন্ধু গড়ে উঠছে তিল তিল করে।

Related Articles

শিক্ষা দুঃখ ও আশার মধ্যে সেতু বন্ধন স্বরূপ

শিক্ষার শুরু স্বাক্ষরতা দিয়ে অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়।  সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা,...

সাইন্স বী: চলো ভিন্নরূপে বিজ্ঞান শিখি

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান একটি ভীতির বিষয়। পুঁথিগত পাঠ্যবই এ গৎবাঁধা সিলেবাস এই ভীতির জন্য দায়ী, বললে ভুল হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান কি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ। না! বিজ্ঞান এর পরিধি কেউ বেষ্টনী দিয়ে আঁটকে রাখতে পারে না।

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

Stay Connected

20,692FansLike
2,368FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

শিক্ষা দুঃখ ও আশার মধ্যে সেতু বন্ধন স্বরূপ

শিক্ষার শুরু স্বাক্ষরতা দিয়ে অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়।  সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা,...

সাইন্স বী: চলো ভিন্নরূপে বিজ্ঞান শিখি

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান একটি ভীতির বিষয়। পুঁথিগত পাঠ্যবই এ গৎবাঁধা সিলেবাস এই ভীতির জন্য দায়ী, বললে ভুল হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান কি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ। না! বিজ্ঞান এর পরিধি কেউ বেষ্টনী দিয়ে আঁটকে রাখতে পারে না।

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।