25.8 C
New York
Monday, September 28, 2020

Buy now

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে শিশুদের যৌন শিক্ষা দেওয়া কতটুকু প্রয়োজন?

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে শিশুদের যৌন শিক্ষা দেওয়া কতটুকু প্রয়োজন? এটি খুবই গুরুত্বপুর্ন একটি আলোচনার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে লিখতে গিয়ে মনে পড়লো একটি ঘটনা। কিছুদিন আগে আমার  ফোনের নেট সমস্যা   ছিল  বলে স্কুল ফেরত  ক্লাস ফাইভে  পড়ুয়া এক ছাত্রের কাছে তার মুঠোফোনটি চেয়ে  নিয়ে গুগলে গেলাম।
গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিকস সার্চ দেওয়ার ছিল।ফোন হাতে নিয়ে অামি  অবাক হলাম।।অবশ্যই অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক।ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া এক ছাত্রের হাতে মূল্যবান মুঠোফোন দেখলে সবারই অবাক হওয়ার কথা।কিন্তু অামি মূলত অবাক হয়েছি অন্য কারণে!  চক্ষুচড়ক গাছ হলো এটা দেখে যে,একটা ফাইভে পড়ুয়া ছাত্রের মুঠোফনের  গুগল সাইটে বাংলা নোংরা গল্পের নানা দিক নিয়ে লিখে সার্চ দেওয়া অাছে।
বাচ্চাটি হিস্টোরি ডিলেট করতে ভুলে গিয়েছিল হয়তো!  অামার  লজ্জায় মাথা হেট হয়ে গেলো।ক্ষানিক সময়ের জন্য একটু অতীতে ফিরে গেলাম।আমাদের সময় দশম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার অাগেও আমরা এ ধরনের গল্পের কথা জানতামইনা। বাহ! কত উন্নতি হয়েছে এই প্রজন্মের! আর আমরা কতই না ব্যাকডেটেট ছিলাম।

ছোটদের মুঠোফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারী জরুরী

মনে মনে একটু হাসলাম।পরক্ষণে আবার বাচ্চাটির জন্য মায়াও হলো।তাই ওর অাসন্ন বিপদের কথা ভেবে ওর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম,ভাই অাঠারো এর অাগে দামী মোবাইল সেট নয়! কিন্তু ততক্ষণে সে দ্রুত ফোন হাতে নিয়ে  সাইকেলে  চড়ে টা টা বাই বাই হয়ে গেলো।
সেদিনের সে ঘটনায় আমার ইন্দোনেশিয়ায় সমালোচিত এক শিশুতোষ বইয়ের কথা মনে অাসলো।বইটিতে স্বমেহনের বিষয়টা বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।বইটি পড়ে বাচ্চারা পতিক্রিয়া করেছিল এমন, এই বইটি পড়ে আমরা বেশ মজা পেয়েছি।এখন দুই পায়ের মাঝখানে কোল বালিশ দিয়ে শরীর নড়াতে বেশ ভালো লাগে।

শিশুদের সাথে কথা বলা

এসব পতিক্রিয়ায় অভিভাবকদের টনক নড়ে।সচেতন অভিভাবকেরা এসব বাজে বই পড়া থেকে তাদের শিশুদের বিরত রাখে।ফলে আকস্মিক বিপদ থেকে রক্ষা পেলো সে দেশের নতুন প্রজন্ম।কিন্তু অাফসোস! আমাদের দেশে এমন সচেতন অভিভাবকের বড়ই অাকাল।
অভিভাবকরা যদি সত্যিই সচেতন হতো তাহলে কখনো তাঁরা প্রাথমিক শ্রেণী অতিক্রম না করা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল সেট তুলে দিতেন না।
সমস্যা অারো অাছে,আমাদের দেশে শিশুরা  সিনিয়রদের নেহাত গুরুজনই ভাবেন, বন্ধু ভাবতে পারেন না।হঠাৎ বয়ঃসন্ধিক্ষণে পা দেওয়া কিশোর কিশোরীরা নিজেদের  শরীরের পরিবর্তন দেখে ভয়ে থাকেন।লজ্জায় মা বাবার কাছে মিশতে ভয় পায়।নিজেদের মত করে খারাপ ভালো সব শ্রেণীর বন্ধুদের সাথে মিশেন।
নিজেদের যৌন সমস্যার কথা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেন,বন্ধুরা জেনে না জেনে নানান ভুল পরামর্শ দেন, ফলে ভুল পথে গিয়ে ভুল পরামর্শ শোনে বাচ্চাদের স্বাভাবিক বিকাশের ব্যাঘাত ঘটে।অথচ এই বিষয়গুলি যদি তারা স্কুলের শিক্ষক,বড় ভাই বোন, মা বাবার কাছে শেয়ার করতো তাহলে হয়তো ভুল পথে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতো।

মা বাবার উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুর মত মেশা

বন্ধুদের কাছে এসব কথা শেয়ার করলে বয়স  অল্প হওয়ার কারণে অন্য  বাচ্চারা মজা নেয়,অামরা বড় হয়ে গেছি,আমাদের সিগারেট খাওয়া উচিৎ,আমাদের মা বাবার সাথে মেশা উচিৎ না,তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষ্যাপাবে! এসব কথা বিবেচনা করে শিশু কিশোররা মা বাবার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করে।
সারাদিন ধরে বন্ধুদের নিয়ে  অাড্ডা দিতেই বেশি পচন্দ করে, বিশেষ করে যৌনতা নিয়েই বেশি অালাপ অালোচনা হয় বন্ধু মহলে।যার শেষ পরিণতি আমরা নিউজ চ্যানেল কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ায় বড় হেডলাইন অাকারে দেখতে পাই।অমুক স্থানে পনেরো বছরের কিশোর কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণ হয়েছে।অভিভাবক মহলের তখন ছি! ছি! করা ছাড়া অার কিছু করার থাকে না।অথচ এর জন্য সিংহভাগ দায়ী তো অভিভাবকেরাই!
সঠিক যৌন শিক্ষার অভাবে বাংলাদেশের অনেক কিশোরীর  নানা রকম সমস্যা পোহাতে হয়
হিসেব করলে হয়তো দেখা যাবে যে কিশোর অপেক্ষা কিশোরীরাই বেশি যৌন কুশিক্ষার স্বীকার।ছেলেরা সবকথা সবার সামনে বলতে পারে,মেয়েরা নিজেদের দুঃখ অন্যের কাছে বলতেও দ্বিধাবোধ করেন।ফলে ছেলেদের মতো তারাও নিজেদের সব কথা সমবয়সী বান্ধীদের কাছে বলেন যারা কি না এসম্পর্কে নিজেরাও ভালো জানেন  না।ফলে যৌনতা নিয়ে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কুসংস্কারগুলি শোনে কিশোর কিশোরীরা নিজেদের যৌন জীবন নিয়ে নানান দুশ্চিন্তায় ভোগেন।

মা-মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা চাই

রুপক অর্থে কোন একটা জাতিকে যদি একটা ভবনের সাথে তুলনা করি,তবে শিশুরা হবে তার পিলার।পিলার নড়বড়ে হলে ভবন স্থায়িত্ব পাবে না।পিলার নিয়ে ভাবতে হবে।শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা আমাদের সকলের উচিৎ। যৌন শিক্ষার অভাবে অাপনার প্রিয় সন্তানটি কুপথে চলে যাচ্ছে অথবা অানন্দময় বয়সটুকু দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটাচ্ছে।তাই তাকে বুঝান,তাকে বুঝান যে বয়ঃসন্ধিক্ষন তোমার শ্রেষ্ঠ সময়,জীবনকে উপভোগ করতে শেখান।প্রিয় বাচ্চাটি কার সাথে চলাফেরা করে সে দিকে নজর দিন।
আপনার ছোট ভাই অথবা বোন যে বয়ঃসন্ধিক্ষণে চলে এসেছে,তার সাথে মিশুন বন্ধুর মতন অাচরণ করুন।প্রয়োজনে অান্ডারওয়্যার উপহার দিবেন।ব্যাবধানটা ভেঙে যাবে।কারো কুপরামর্শ নিয়ে সে তার শৈশবের অানন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে বাচ্চাদের যৌন শিক্ষা বিষয়ক পাঠ্য বই থাকতে হবে।আর একটা কথা খুব প্রয়োজনীয় যার যা প্রয়োজন তাকে তাই দিতে হবে।কম কিংবা অতিরিক্ত নয়।অাঠারোর অাগে শিশুর হাতে দামী মোবাইল সেটা  দেওয়া একেবারেই অনুচিত। শেষ কথা হলো অবশ্যই অবশ্যই প্রত্যেক শিশুকে যৌন শিক্ষা দিতে হবে।
লেখক
….
ছোটদেরবন্ধুhttps://www.chotoderbondhu.com
সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনের এক একটি দিন পার করা।সেই ধারাবাহিকতায় ছোটদেরবন্ধু গড়ে উঠছে তিল তিল করে।

Related Articles

শিক্ষা দুঃখ ও আশার মধ্যে সেতু বন্ধন স্বরূপ

শিক্ষার শুরু স্বাক্ষরতা দিয়ে অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়।  সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা,...

সাইন্স বী: চলো ভিন্নরূপে বিজ্ঞান শিখি

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান একটি ভীতির বিষয়। পুঁথিগত পাঠ্যবই এ গৎবাঁধা সিলেবাস এই ভীতির জন্য দায়ী, বললে ভুল হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান কি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ। না! বিজ্ঞান এর পরিধি কেউ বেষ্টনী দিয়ে আঁটকে রাখতে পারে না।

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

Stay Connected

20,755FansLike
2,380FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

শিক্ষা দুঃখ ও আশার মধ্যে সেতু বন্ধন স্বরূপ

শিক্ষার শুরু স্বাক্ষরতা দিয়ে অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়।  সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা,...

সাইন্স বী: চলো ভিন্নরূপে বিজ্ঞান শিখি

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান একটি ভীতির বিষয়। পুঁথিগত পাঠ্যবই এ গৎবাঁধা সিলেবাস এই ভীতির জন্য দায়ী, বললে ভুল হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান কি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ। না! বিজ্ঞান এর পরিধি কেউ বেষ্টনী দিয়ে আঁটকে রাখতে পারে না।

অদ্বিতীয়া রাজকন্যা সিমরিন লুবাবা

রুপকথার গল্পে তোমরা অনেকেই রাজকন্যা,রাজপুত্রর গল্প শুনে থাকবে। সেই রাজকন্যা আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু তোমাদেরকে আজকে আমরা এক সত্যিকারের রাজকন্যার কথা...

বোকা মানুষ ও পৃথিবী

দুটি অদ্ভুত প্রাণী মহাশূন্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।দেখতেও বেশ ভয়ংকরই।ওরা তো পৃথিবীর কেউ নয়।নিশ্চই মহাশূন্যে আমাদের কল্পনার চেয়েও মিলিয়ন,বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে ওরা এসেছে।শরীরে তাকালে প্রায় ...

শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ ফাইন্ডিং ডোরি

ডরি,একটি ছোট্ট সুন্দরী নীল মৎস্য। যার কি না ভুলে যাওয়া ব্যামো আছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। তাই তার পিতা-মাতা অনেক চিন্তিত তার এই রোগ নিয়ে। একসময় ডরি হারিয়ে যায় তার পিতা-মাতা থেকে।