গল্প 

টেরোরিষ্ট

লেখাঃ জাজাফী ওয়াশিংটন ডিসির ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত ধরে অনেক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যের পথে অবিরাম হেটে চলেছে।সবাই ভীষণ ব্যস্ত।বলতে গেলে তখনো শহরের ঘুম ভাঙ্গেনি অথচ মানুষ ছুটছে তার কর্মস্থলে।সে জন্যই বলা হয়ে থাকে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটন শহর কখনো ঘুমায় না।পথে যেতে যেতেই হয়তো কেউ কেউ সেরে নিচ্ছে জরুরী যোগাযোগ।অনেকে কানে মোবাইল ধরে কথা বলছে আর হাটছে।কেউ কেউ প্রাতরাশ সেরে বাসায় ফিরছে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে।সেই সব পথচারিদের মধ্যে শেহজাদও আছে।শেহজাদ হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পোষ্টগ্রাজুয়েট করছে।ওয়াশিংটন ডিসিতে মেরিডিয়ান হিল পার্ক নামে যে পার্কটি আছে রোজ সকালে অন্য অনেকের মত শেহজাদও…

5,373 total views, 2 views today

বিস্তারিত পড়ুন
গল্প 

মোতালেব স্যারের বদলি

সাদিক আল আমিন ব্যাপারটা সবার কাছে হাস্যকর মনে হলেও রোকনের কাছে সেটা কোনোমতেই হাস্যকর নয়। বরং অতিরিক্ত লজ্জাজনক। লজ্জায় নিজের লাল হয়ে যাওয়া ফর্সা মুখটা ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার। এইমাত্র প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে সে। আনিস স্যারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি রোকনকে বাথরুমে যেতে দেননি। আর নিম্নচাপের অবস্থাটাও ছিলো ভয়াবহ। সহ্য করতে না পেরে রোকন প্যান্টেই কাজটা সেরে ফেলে। আর এই ঘটনা দেখে ক্লাসের পরিবেশ তুঙ্গে উঠেছে। ক্লাসের দজ্জাল ছেলেগুলো তাকে দেখে হো হো করে হাসছে। কুটনী মেয়েরা তাকে নিয়ে কূটনৈতিক বৈঠকে বসেছে আর মুখ চেপে হাসছে।…

3,849 total views, 2 views today

বিস্তারিত পড়ুন
গল্প মুক্তিযুদ্ধ 

কি অদ্ভূত এ পৃথিবী, দেখ।মানুষ মানুষকে গুলি করে মারে, জবাই করে মারে!

কি অদ্ভূত এ পৃথিবী, দেখ।মানুষ মানুষকে গুলি করে মারে, জবাই করে মারে! আমার বাড়ি বৃহত্তর রংপুরের লালমণিরহাট জেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বরুয়া গ্রামের গোবিন্দপাড়াস্থ গোবিন্দবাড়িতে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিদের সব রকম “অসহযোগিতার” ফলস্বরুপ খাবার-দাবার বন্ধ হয়ে যাবার ফলে অনাহারে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে বর্ডারের নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেলে রেখে ফুলবাড়ি বর্ডার থেকে পলায়নরত পাকিস্তানি সীমান্ত রক্ষীবাহিনী কুলাঘাট হয়ে সকালের দিকে লালমনিরহাট শহরে প্রবেশ করার মুখে অসংগঠিত লোকজন কর্তৃক প্রতিরোধের সম্মুখিন হয়ে শুরু করে গোলাগুলি। আর এর প্রেক্ষিতে লালমনারহাট শহরের উত্তরদিকে উপ-শহর আপইয়ার্ডে বসবাসকারি অবাঙালি “বিহারী”রা সংগঠিত হয়ে নেমে পড়ে পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে।…

6,164 total views, 3 views today

বিস্তারিত পড়ুন
গল্প ছোটদের লেখালেখি 

আমার খুব মনে চায় হ্যারার মতোন বল দিয়া খেলি।

ঘোর অন্ধকার। বাইরে ঝম ঝম বৃষ্টি। শীতল বাতাসে ৩০০০ স্কয়ার ফিট বাসাটিতে সবাই আরাম করে ঘুমাচ্ছে। শুধু জেগে আছে তানিয়া নামের এক কিশোরী। জানালা ধরে   দাড়িয়ে বর্ষণের স্নিগ্ধতায় আনমনা চোখে সে মুগ্ধতা কুড়াচ্ছে! মনে মনে ভাবছে, “ইশ! যদি টিনের ঘরে বৃষ্টি উপভোগ করতে পারতাম! টিনের চালে বৃষ্টির কথা কতো কাব্যে, উপন্যাসে পড়েছি। যদি সত্যি সত্যি টিনের ঝম ঝম শব্দে নিজেকে রাঙাতে পারতাম, তাহলে কতোই না ভালো হতো!” ঘুম পালানো বর্ষণের মুগ্ধতায় কিশোরী মন আরো চঞ্চল হয়ে ওঠে। ইচ্ছা করে উপন্যাসের মতো কফির মগ হাতে নিয়ে ছাদে ছুটে যেতে! চিৎকার করে…

3,975 total views, 1 views today

বিস্তারিত পড়ুন
কিশোর কিশোরী সংবাদ গল্প ফিচার স্বর্ণ কিশোরী 

প্রতিটি সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে আমরা বই খাতা পেন্সিল দিতে চাই,শিক্ষার আলো দিতে চাই

প্রতিটি সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে আমরা বই খাতা পেন্সিল দিতে চাই,শিক্ষার আলো দিতে চাই।স্বার্ণকিশোরী ক্লাবের আনিকা আপুদের স্বপ্ন এটা। একদিন হঠাৎ শুনি মিনহাজ আর স্কুলে আসবে না।আমি জানতাম মিনহাজ একটি মেধাবী ছেলে এবং দুরন্ত হওয়ায় শরীরে তেমন কোন রোগও নেই যে অসুস্থ্য হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার কারণে মিনজার স্কুলে আসবে না। আর কেউ অসুস্থ্য হলেও একেবারেই স্কুলে আসবেনা এমনতো নয়।বিষয়টি আমাকে খুব চিন্তায় ফেলে দিলো।আমি খুব ছোট মানুষ তাই বন্ধুর জন্য ব্যকুল হয়ে উঠলাম।আম্মুকে বলে দেখা করতে গেলাম মিনহাজের সাথে। গিয়ে দেখি ও বাড়িতেই আছে বাবাকে সাহায্য করছে ঝুড়ি পলো বানানোর…

4,127 total views, 1 views today

বিস্তারিত পড়ুন
ফিচার সাহিত্য 

পরীর দিঘিতে যেদিন সত্যিকারের এক পরী নেমে এসেছিল

নীলগঞ্জের মোড় থেকে এক কিলোমিটার দুরে একটা পরীর দিঘি ছিল।শুধু নাম যে পরীর দিঘি তা কিন্তু নয়। সত্যি সত্যিই সেখানে পরীরা থাকতো। হাসতো খেলতো গান গাইতো।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে ছিল তাদের অনেক ভাল বন্ধুত্ব।সেই পরীরাও ছিল দেখতে খুবই ছোট ছোট।পরীর দিঘির পথটা ছিল পাকা।যখন বৃষ্টিতে সেই পথ ভিজে যেত তখন পরীরা নেমে আসতো পরীস্থান থেকে।কখনো কখনো ছোটদেরকে পরীস্থানে ঘুরতে নিয়ে যেত তারা। কৃষ্ণচূড়া ফুল তখন ভেজা রাস্তায় বিছিয়ে যেত আর অনেক আনন্দ হত পরীদের।তারা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে হাসতো খেলতো কত মজা করতো তার হিসেব নেই। তারা পরীস্থান…

6,411 total views, 2 views today

বিস্তারিত পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্য 

শিশু সাহিত্যে : মুক্তিযুদ্ধ

লেখকঃ ডি. হুসাইন আমাদের সাহিত্য তথা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এক হাজার বছরেরও পুরনো ।  আর আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন বাংলা সাহিত্য আধুনিক যুগে অবগাহন করেছে বেশ কয়েকে শতাব্দী আগেই । প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত করেছে ।  মনে করা হয় বাংলা সাহিত্যের উন্মেষ ঘটেছিল ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোন সময়ে ।  হাজার বছরে বাংলা সাহিত্য অনেক বাঁক পেরিয়ে বর্তমান অবস্থায় এসেছে ।  পন্ডিতগণ বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে ভাগ করেছেন ।  যুগ তিনটি হচ্ছে : ১।  প্রাচীন যুগ : ৯৫০-১২০০ পর্যন্ত। ২। মধ্যযুগ : ১৩৫০-১৮০০ পর্যন্ত ।…

6,505 total views, 1 views today

বিস্তারিত পড়ুন
একুশে বইমেলা গল্প 

ইবন এবং অটোগ্রাফ

লেখকঃ জাজাফী বিকেল গড়িয়ে তখনো সন্ধ্যা নামেনি।প্রচুর বইপ্রেমীদের ভীড় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলায়।সিসিমপুরে তখন হালুম,টুকটুকি আর ইকরিকে নিয়ে মেতে উঠেছে রাজকন্যা রাজপুত্ররা।ক্ষুদে পাঠক কিংবা দর্শক যাই বলিনা কেন ওই শিশুরাই মাতিয়ে রাখে গোটা প্রাঙ্গন আর যখন হালুম তার লেজ নাড়াতে নাড়াতে মঞ্চে আসে তখন সবার মধ্যে সে কি উত্তেজনা।তবে আরো অনেকেই আছে সিসিমপুরের আনন্দকে পাশকাটিয়ে বইয়ের মধ্যে আনন্দ খুঁজতে ব্যাস্ত।তেমনই এক ক্ষুদে পাঠক ইবন। ইবনের প্রায়ই বইমেলায় যাওয়া হয়।ছোট্ট ইবন বই কিনতে এবং বই পড়তে ভালোবাসে।তার থেকেও বেশি ভালোবাসে লেখকের অটোগ্রাফ নিতে।বইমেলার সতের তম দিনে গুটিগুটি পায়ে ইবন এসে…

2,252 total views, no views today

বিস্তারিত পড়ুন
সাহিত্য 

একটু ভাবুন

লেখকঃ মুজাহিদুল ইসলাম স্বাধীন ————————- . নিজের ছেলে আর মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসি, চেষ্টা করি ফুটবে কিসে তাদের মুখে হাসি। কিন্তু কেন এত মলিন পথশিশুর মুখ, সেটা ভেবে একবারও কি কেঁপেছে এই বুক? . নিজের ছেলে আর মেয়েকে ভালো খাবার দিতে, চেষ্টার নেই কোনো ত্রুটি গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে। কী খেয়েছে পথের শিশু কখনও কি ভাবি? নয় কী করে নিজকে করি মানুষ বলে দাবি? . চাই যে, ভালো পোশাক পরুক নিজের ছেলে-মেয়ে, চেষ্টা করি দিতে সেটাই খেয়ে কী না খেয়ে। কিন্তু কেমন পোশাক পেল পথের খোকাখুকি, সেই ভাবনা নিজের মনে দেয় কখনও…

3,251 total views, no views today

বিস্তারিত পড়ুন
সাহিত্য 

ছুটির নিমন্ত্রণে

লেখাঃ লতা হামিদ শান্তনুর আজকে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। এবার ও ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে উঠলো। এখন স্কুল কিছুদিনের জন্য বন্ধ।এই ছুটিতে গ্রামে নানার বাড়ি যাবে। ওর বোনও যাবে।যদিও নানা নেই, মামা আছে। অনেকদিন পর যাবে। বাবাতো রাজিই ছিলনা, বলে গ্রামে অনেক পুকুর, তোমরা সাঁতার জানোনা। মাকে রাজি করালো। আগামী কাল যাবে। ওর আনন্দ দেখে কে! গ্রামে যাবে, খুব মজা হবে। স্কুল থেকে এসে ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে নিল।রাতে আনন্দে ঘুমই হলোনা। বাবা যাচ্ছে না,এখন অফিস থেকে ছুটি নিতে পারবে না।বাবা বললো গ্রামে খুব শীত, গরম কাপড় বেশি করে নিয়ে…

2,566 total views, no views today

বিস্তারিত পড়ুন