তোমাদের আঁকা ছবি মুক্তিযুদ্ধ 

সাত বছরের প্রিয়র রংতুলিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ

এই গল্পটি প্রিয়র।সাত বছরের প্রিয়র রংতুলিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ।প্রিয় হলো আমাদের সাত বছরের এক ছোট্ট বন্ধু।ওকে আমরা ভালবাসি বলেই যে প্রিয় বলছি তাই নয় ওর ডাক নামই প্রিয়।ওর গল্প বলতে গেলে বুঝা যাবে সত্যিই নামের সার্থকতা রেখেছে এই পিচ্চি বন্ধুটি। সে খুব ছোট বেলা থেকেই মায়ের মুখে শুনেছে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।শুনেছে সাতই মার্চে রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী উচু করে দেওয়া ভাষণের কথা।ও হয়তো জানেইনা যে রেসকোর্স ময়দান কোথায় কিংবা জানলেও ও মনে করতে পারে না।কিন্তু ওর আছে অসাধারণ কল্পনা শক্তি।

ছবিঃ জাহান রিমা

মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীর সেনানীরা আমাদের বাঙ্গালী ভাই বোনেরা যে কষ্ট স্বীকার করেছে সেসব কথাও প্রিয় শুনেছে দাদুর কাছ থেকে।নানু ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছে মুক্তিযুদ্ধে সেই সব সাহসী মানুষের গল্প,হার না মানার গল্প।সেইসব কথা ছোট্ট প্রিয়র মনের মধ্যে গেথে গেছে শক্ত ভাবে।সে ফিরে যেতে চেষ্টা করেছে ১৯৭১ এ। তার আছে রং ধনুর সাত রঙের সব গুলি রং আর আছে একটি যাদুর তুলি। বাজার থেকে কিনে আনা তুলিটা কিন্তু যাদুর ছিল না।কিন্তু প্রিয়র হাতেই আছে যাদু। সে যখন সেই তুলি দিয়ে ছবি আঁকে তা  হয়ে ওঠে অসাধারণ।

এবারের মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে তেমনই অসাধারণ ছবি একেছে আমাদের এই বন্ধু।একটি ছবিতে সে বঙ্গবন্ধুকে একেছে এবং অন্য ছবিতে একেছে একাত্তুরের রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধের ছবি।সেই ছবিতে দেখতে পাই মুক্তিবাহিনীর সামনে পাক হানাদার বাহিনী কুপোকাত হয়ে আছে।সুণিপুন হাতে সে একেছে এমন এক দৃশ্য যা আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে সেদিনের সেই স্মৃতি। একটি নদী তার উপর যে ব্রিজটি ছিল প্রিয়র আকা ছবিতে সেই ব্রিজটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে যেন কোন ভাবেই হানাদার বাহিনী নদীর এপারে আসতে না পারে।

প্রিয়র আঁকা ছবি যখন ফেসবুকে শেয়ার করা হলো তখন সবাই খুবই প্রশংসা করেছে। আমরা ছোটদেরবন্ধু’র পক্ষ থেকে প্রিয়কে অনেক অনেক ভালবাসা দিতে চাই এবং আমরা দোয়া করি একদিন প্রিয় অনেক অনেক বড় হবে এবং এই দেশটাকে আরো বেশি করে ভালবাসা দিবে।

ছবি আঁকা খুব ভালো গুন। বিশেষ করে ছোটরা যখন কোন গল্প শুনে প্রিয়র মত করে কল্পনা করে করে ছবি আকে তখন সেটা অসাধারণ হয়।আর ছবি আকার জন্য কল্পনা বড়ই গুরুত্বপুর্ন। বিশ্বের সবর্কালের সেরা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছিলেন ‘জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা বড়’। সুতরাং আমাদের উচিত পরিবারের ছোটদের পাশে বাসিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো,ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনানো বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনানো। এতে করে ছোট বেলা থেকে ওদের মনে দেশ প্রেম জাগ্রত হবে ঠিক যেমনটি আমাদের প্রিয়র মনে জাগ্রত হয়েছে। আমরা এ জন্য প্রিয়কে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই পাশাপাশি প্রিয়র পরিবারের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এই সুন্দর কাজটি করার জন্য। প্রিয়র মনে দেশ প্রেম,দেশের ইতিহাস বুনে দেওয়ার জন্য ওর বাবা মা দাদু ভাই নানুভাই সবাইকে আমাদের অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ভবিষ্যতে আমরা চাইবো প্রিয়র আঁকা আরো আরো ছবি ছাপাতে। প্রিয়র জন্য ভালোবাসা।প্রিয়র ইচ্ছে গুলো পুরণ হোক।


আরও পড়ুনঃ

 

18,282 total views, 3 views today

Facebook Comments

আরও অন্যান্য লেখা